আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ী পৌরসভার ২৭টি দুর্গা মন্দির কমিটির নেতা ও সুধীজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, আলোচনা সভা ও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আরিফুল ইসলাম রোমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ আয়োজন হয়।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী পৌর এলাকার সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা, সুধীজন, পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম রোমান। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক দেবাহুতি চক্রবর্তী, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর দিলীপ কুমার কর, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, রাজবাড়ী হরিতলা মন্দির কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার সোম, রাজবাড়ী জেলা কৃষক দলের সদস্য এ কে এম সিরাজুল আলম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান প্রমুখ।
মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু পূজা নয়, এটি সর্বজনীন উৎসব। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দুঃখজনক। পূজার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। দেশের নাগরিক হিসেবে তারা স্বাধীনভাবে দুর্গোৎসব পালন করতে চান। বাধ্যবাধকতার মধ্যে ধর্মীয় উৎসব হয় না। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল নেতা রোমান ও তার কর্মীরা পাশে থেকে তাদের মন জয় করেছেন। এবারের পূজাতেও তিনি সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সহায়ক হবে।
সুধীজনরা বলেন, শান্তিপ্রিয় জেলা রাজবাড়ীতে এবারও সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে। সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে রোমানের মতো সবাই এগিয়ে এলে ধর্মের ভেদাভেদ থাকবে না।
আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। রাজবাড়ী শান্তি ও সম্প্রীতির শহর। সেই ধারা বজায় রাখতে প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতায় এই আয়োজন। শুধু এখনই নয়, বহু দিন ধরে আমি এই মন্দিরগুলোতে উপস্থিত হয়ে প্রিয় মানুষের পাশে থেকেছি, খোঁজখবর নিয়েছি। আসন্ন দুর্গাপূজা তারা যেন উৎসবের আবহে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আমিসহ জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন। আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজবাড়ীতে এবারের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন হবে।’
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এমন সহযোগিতা সমাজে সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করবে।