ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ

সিলেট-সুনামগঞ্জ বিএনপি প্রার্থিতায় নতুন বল ‘মেড ইন ছাত্রদল’

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:১৬ পিএম
প্রার্থিতায় নতুন বল ‘মেড ইন ছাত্রদল’
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

‘মেড ইন ছাত্রদল’। সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন এক দৃশ্যপটের উদয় হয়েছে। যারা বিএনপি করছেন, প্রার্থিতার জন্য লড়ছেন, মাঠে তারা যেন ‘মেড ইন ছাত্রদল’ বলে বলীয়ান। ছাত্রদল থেকে বিএনপি করলেও দলটির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বের পরিচিতি তাদের পিছু ছাড়ছে না। তাতে ‘মেড ইন ছাত্রদল’ হয়ে উঠেছে বিএনপির এক নতুন রাজনৈতিক মেটাফর। 

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে চষে বেড়ানো ছাত্রদল থেকে তৈরি নেতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। সিলেট বিভাগের দুটি জেলার ১১টি আসনে কুড়িজনের বেশি মেড ইন ছাত্রদল-বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের রাজনৈতিক হাতেখড়ি ছাত্রদলে। এর মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বেও আসীন হয়েছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা তাদের নিয়ে ইতিবাচকভাবে মেতেছেন, যা বিএনপির ভোটের রাজনীতিতে নতুন বল হিসেবে আলোড়িত হচ্ছে। 

‘মেড ইন ছাত্রদল’ মেটাফরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দা সহিদুর রহমান তার পছন্দের প্রার্থীর নাম ধরে বলেন, ‘ছাত্রদল থাকি বিএনপি কররা। ই-ফিরা (এবার) নমিনেশন না পাইলে লাইফ শেষ!’

সূত্রপাতে ইলিয়াস আলী: 
ভোটের মাঠে মেড ইন ছাত্রদল মেটাফর সূত্রপাত সন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলী এর সূত্রপাত করেন। ছাত্রাবস্থা থেকে সাহসী চরিত্রের ইলিয়াস আলী বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন একজন নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে আবাসিক হলের নেতা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন হন। ১৯৮৩ সালে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ১৯৮৬ সালে প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সচিব নির্বাচিত হন। আশির দশকের মধ্যভাগে রাজধানীতে ছাত্ররাজনীতির চালিকাশক্তি হয়ে ইলিয়াসই প্রথম সেই সময়কার সামরিক শাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ জন্য ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃতও হন। ১৯৮৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে সাত মাস কারাভোগ করেন। ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আবার কারাবন্দি হন। ২৩ মাস কারাভোগের পেছনে ছিল অন্তর্দলীয় ষড়যন্ত্র। তা ভেদ করেন কারামুক্তির মধ্য দিয়ে। তখন বয়সে তরুণ হলেও মূল দলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। 

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত ইলিয়াস ভোটের রাজনীতিতে নেমেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয় পাননি। তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, ‘ওয়ান-ইলেভেন ষড়যন্ত্রে’ তাকে হারানো হয়। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ তাকে তুলে নেওয়া হয়। সেই থেকে তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

মিজান-ফয়সল জুটি: 
সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মধ্য থেকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ভোটের রাজনীতিতে এ দুজন তখন ছাত্রদলের সাবেক নেতার একটি জুটি হিসেবে আলোচিত হন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে দুজন লড়েছেন ডাকসাইটে দুই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে। সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে ফয়সল, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে একাধিকবারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। 

ওই সময় মাঠে প্রতিকূল অবস্থার মুখে তাদের পক্ষে বিপুল সাড়া দেখা গিয়েছিল। তবে ভোট শেষে দুজনের অভিযোগ ছিল, ‘রাতের ভোটে তাদের হারানো হয়েছে।’ তবু ভোটবিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। তারা বলেছিলেন, প্রভাবিত ভোট বা হারজিত যাই হোক, ছাত্রদল প্রজন্ম যে ভোটের মাঠেও শক্তিশালী, এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং নতুন একটি ধারার সূত্রপাতও হয়েছে। 

মিজানুর রহমান চৌধুরী ভোটের মাঠমুখী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। ফয়সল আহমদ চৌধুরীও মাঠছাড়া হননি। প্রথমবার ভোট আর পরবর্তী সময়ে মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা দুজনের এক। দুজনই এক সুরে বলেছেন, ‘২০১৮ সালের সেই নির্বাচন যদি সামান্যতম ফেয়ার হতো, তাহলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারত না।’ 
 
সিলেটে ১০ জন: 
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি আসনেই আছে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের প্রার্থিতা। সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে এখন আসীন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে। ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনে তার প্রার্থিতার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে আরিফ চান সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে আছেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে মাঠে সক্রিয় লুনা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন। সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার এম এ সালাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা। এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ওয়ান ইলেভেন সময়ে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আহাদ খান জামাল।

সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে তৎপর ছাত্রদল থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন হওয়া মিফতাহ সিদ্দিকী। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ছাত্রদলের মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), সিলেট ল কলেজের ভিপিখ্যাত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব) ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলু মনোনয়নপ্রত্যাশী। সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ২০১৮ সালে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক জেলা সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী।

মেড ইন ছাত্রদল সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতির নতুন মেটাফর বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের চোখে মোস্ট ওয়ান্ডেট ছিলাম। গ্রেপ্তার এড়িয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা কঠিন ছিল। ছাত্রদল থেকে বিএনপি করেছিলাম বলেই সেই কঠিন অবস্থা মোকবিলা করতে পেরেছি। রাজনীতির মাঠ থেকে ভোটের মাঠেও সেই ভূমিকা এখন আলোচিত হচ্ছে।’

সুনামগঞ্জে ১০ জন: 
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-ধরমপাশা-জামালগঞ্জ-মধ্যনগর) আসন সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় নির্বাচনি এলাকা। এখানে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন প্রয়াত নজির হোসেন। তার স্ত্রী সালমা নজির উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে তৎপর থাকলেও সেখানে রাজনীতিতে সক্রিয় কামরুজ্জামান কামরুল মেড ইন ছাত্রদল প্রার্থী। একই ইমেজে তিনি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিলেন। প্রার্থিতায় মাঠে তৎপর আছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, জামালগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক লিটন আফিন্দী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি পদে থাকা নিজাম উদ্দিন। 

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। এমসি কলেজ ছাত্রাবাস শাখা ছাত্রদলেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সিনিয়রদের সম্মানে তখন ছাড় দিয়েছিলেন। এবার সেই ছাড় তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। তরুণ একটি অংশ তার পক্ষে মাঠে তৎপর।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হরতাল পালনকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হাতে ছাত্রদলের কর্মী হাফিজ নিহতের ঘটনায় একের পর এক মামলার আসামি হয়ে ওই বছরেই দেশ ছাড়েন কয়ছর। সেখানে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার পাশাপাশি এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে আছেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য নাদীর আহমদ।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে যুবদলের সভাপতি ও বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল মনসুর মো. শওকত।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ২০১৮ সালে দলীয় প্রার্থিতার পর থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

মেড ইন ছাত্রদল মেটাফরে নজর কাড়ছেন সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা নাদীর আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেখে সেই স্কুলজীবন থেকে সক্রিয়। দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির মূল্যায়নে দুটি দিক থাকতে হবে। একটি মাঠে থাকা, অন্যটি মাঠ ছাড়া। মাঠে থাকাদের মূল্যায়ন হলে ব্যক্তি নয়, দল লাভবান হবে।’

সরকার ও দলে উপেক্ষিত অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা
ছবি: সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, গুম, নির্যাতন ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন আত্মগোপনে। নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা ছিল–দল ক্ষমতায় এলে তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। তবে দল সরকার গঠনের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত রাজপথের অনেক পরিচিত মুখ, ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতা এখন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তাই অভিমানে তাদের অনেকে এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জুলাই বিপ্লবে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এত কিছুর পরও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি মির্জা আব্বাসের, সান্ত্বনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় মির্জা আব্বাসের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ।

অন্যদিকে, দুঃসময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’র চেয়ারম্যান পদ। এই নিয়োগের পর আফরোজা আব্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারপরও আলহামদুলিল্লাহ’। এর মাধ্যমে কার্যত তার হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, শীর্ষ আইনজীবী নেতা জয়নুল আবেদীন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমান এবং সাবেক জি এস খায়রুল কবির খোকনের মতো হেভিওয়েট নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। সরকার গঠনের পরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব বা পদে তাকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

বিএনপির ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, বিগত দিনে আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি, এমন অনেক ‘হাইব্রিড’নেতা এখন বিএনপিতে জেঁকে বসেছেন এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, ত্যাগীরা হচ্ছেন উপেক্ষিত। বিএনপির এসব সিনিয়র নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন না। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় নিয়মিতই হতাশা প্রকাশ করেন। বিএনপির এসব ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ।  

ঢাকা মহানগরের সাবেক এক বিএনপি নেতা আক্ষেপ করে খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের দুঃসময়ের সহযোদ্ধারা অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তিনি আশা প্রকাশ করছেন, আগামীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে বিএনপির পরীক্ষিত সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা হতে পারে। তখন তাদেরও মূল্যায়ন হবে।

সবচেয়ে বেশি হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একটি অংশের মধ্যে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক নয়ন বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছেন। অথচ যারা একসময় আন্দোলনের ‘তথ্য ছাত্রলীগ ও পুলিশকে সরবরাহ করত’। তারাই এখন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বহালতবিয়তে রয়েছেন।

অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহনেওয়াজ সিনা। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা ‘ক্রসফায়ার’ তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তার নাম ছিল এক নম্বরে। গ্রেপ্তার হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই নেতা। এখন সরকার গঠনের পর তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতি করে এখন শুনতে হয়, আমরা নাকি গুপ্ত জামায়াত। তীব্র অভিমান থেকে তিনি এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তিনটি আসনে দলের পরাজয়ের বিষয়টি হাইকমান্ডের খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
দলের সাবেক ছাত্রনেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী হাইব্রিডদের কারণে এখন সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে নানা মহলে।

তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যন তারেক রহমান সরকার গঠন করেছেন মাত্র ৩ মাস। ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গোছাতে হচ্ছে। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করবেন। এখন সবার উচিত ধৈর্য ধরে সরকারকে সহযোগিতা করা।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, দলের ত্যাগী ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যদি এই বার্তা যায় যে, ত্যাগের মূল্যায়ন হয় না। তবে তৃণমূলে স্থায়ী হতাশা তৈরি হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেলেন ফেসবুক লাইভে এসে কানা করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন।

আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। 

তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন, যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। অথচ তখন কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছি।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণা করার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে নাম থাকলে সেই প্রকল্প উদ্বোধন না করার কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘আজ এই মুহুর্ত থেকে সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে আমার নাম থাকবে না। এটা আমার নির্দেশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করা কাজে আমার নাম থাকবে কেন? এটা হতে পারে না। আমার কার্যকালে যে ফলকে আমার নাম থাকবে সেই ফলক আমি উদ্বোধন করব না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভবন উদ্বোধন পূর্বে আয়োজিত সভায় তিনি (এমপি) তার বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো স্পষ্ট করে সবাইকে জানিয়ে দেন।

এর আগে তিনি তার পুলিশ প্রটোকল বাতিল করেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকার বাজারগুলোর ইজারা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেন।

ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, কলেজ গভনিং কমিটির সভাপতি তালুকার আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাযেদ হোসেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন, বর্তমান অধ্যক্ষ মোস্তফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল্যাহ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের নামধারী কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনার হামলায় আহত ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের স্ত্রী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

আহত জামাল হোসেন (৪৮) নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অন্যরা হলেন, রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে জামাল হোসেন বাঁধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। 

তারা দাবি করেন, ওই জমি কারও কাছে বিক্রি করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। 

তাছলিমা আক্তারের দাবি, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাঁধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে। সেই জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন জামাল হোসেন। পথে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব প্রথমে ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলিও ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জামাল হোসেন প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। আমার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনাও পরিকল্পিত এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আকিবুর রহমান আকিবের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

কুমিল্লা মহানগর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, আকিব যুবদলের কেউ না । সে যেই দল ক্ষমতায় আসে তার অনুসারী হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জহির শান্ত/অন্তরা

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ২৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।​

১৮ জুন কমিটি অনুমোদন দিলেও প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার (১৯ জুন)। 

​ঘোষিত কমিটিতে তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি-কে সভাপতি, গিয়াস উদ্দীন-কে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সরোয়ার হোসেন রুবেল-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মিনহাজ উদ্দিন টিটু সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুজাউদ্দৌলা সজিব সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ৮৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৫২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।​ কমিটিতে অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে ৪৫ জন সহ-সভাপতি, ৫৭ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ জন দপ্তর সম্পাদক ও ৩ জন সহ-দপ্তর সম্পাদক, ১ জন প্রচার সম্পাদক ও ৩ জন সহ-প্রচার সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

 এছাড়াও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ৪৪ জন এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে ৫৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিশাল আকৃতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানো হয়েছে।​কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চট্টগ্রামের উত্তর জনপদে দলের ছাত্র রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এসএন/