দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৩শে জুন) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে ডক্টর শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেহেরপুর জেলা জজ কোর্টের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ৷, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেঞ্জির সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
এর আগে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন আজকে যারা সরকারের কাজ করে সরকারি চাকরি করে, তারা কৃষকের কাছে যায় না, তারা কোন প্রতিবেদনও পাঠায় না। মেহেরপুরে চার ফসলে জমি এখানে চারবার চাষাবাদ করা হয়। এখানে সারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এই বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিতে চায় না। আমরা শুনেছি এখানে কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজের বীজসহ অনেক কিছু উপকরণ দেওয়া হয়। সেটা সঠিকভাবে সরকারের লোকজন বন্টন করছে না। দেশ বাঁচাতে হলে বিএনপিকে বাঁচাতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে সমস্ত নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। তবেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তারেক হোসেন/অন্তরা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নানা কায়দায় চুরি করা টাকা ও পাচার করা লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যবহার করে সমাজ ও দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পচা পানির পানার মধ্য দিয়ে আবার উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের জীবন থেকে সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিল, স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল, সুস্থ জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল এবং মানুষের বাঁচার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বহুদিন পর জনগণের শুভেচ্ছায় ও জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল এবং কেড়ে নিয়ে তার ভয়ংকর দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিল। তার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা এখন ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল বোনার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি—বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন।
রিজভী বলেন, ‘আজকে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির সরকার, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে? কোনো ক্রসফায়ার হয়েছে? কোনো মিথ্যা মামলায় কেউ বন্দি হয়েছে? শুধু দুষ্কৃতকারী ও সমাজের অপরাধীরা ছাড়া কেউ বন্দি হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশ যেভাবে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এই অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আবার বন্ধ করার চক্রান্ত তারা করছে তাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটি আর সম্ভব নয়; জনগণ ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ।’
নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজ করবে। শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছে, যা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।’
জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপ্রিয় মানুষ—সবাইকে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের ইঙ্গিত ও অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে বলেও জানান রিজভী।
অন্তরা/
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে দিনাজপুরের হিলিতে মোটরসাইকেল শোডাউন করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা
রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বাংলাহিলি বাজার খাদ্য গোডাউন মোড়ে থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন বের করেন, শোডানটি হিলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর বিএনপির সভাপতি মোতালেব হোসেন মিঠু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম রাজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে।
গোডাউন শেষে নেতা-কর্মীরা বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যকর্ম এই দেশের মাটিতে হতে দেওয়া যাবে না।
কুদ্দুস আলী/রিফাত/
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাগরিয়ার ত্রাস হিসেবে পরিচিত হাসান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ একই এলাকার শামসুল ইসলামের পুত্র। এ ছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানা এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালী থানায় সর্বমোট ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ গনিপাড়ায় অবস্থিত তার বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়াও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আকতার হোসেনের প্রধান সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম উঠে আসে।
আরিফুল ইসলাম/অন্তরা/
যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর শ্রমিকদল দেশব্যাপী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপপ্রচার, শিষ্টাচার বহির্ভূত ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টায় বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।
পরে মিছিলটি বেনাপোল বাজার ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শার্শা উপজেলা শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, তেমনি ভাবে আওয়ামী লীগ যদি আবার মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, বাসে অগ্নিসংযোগ করে, নৈরাজ্য করে তাহলে বাংলার মাটি থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা জঙ্গি সংগঠন, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। ইতোপূর্বেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার জন্য গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো নৈরাজ্য করলে তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। আওয়ামী লীগের নিরীহ কর্মী যারা আরামে আছেন- তারা কোনো উসকানিতে পা দিয়েন না, বিদেশে পলাতক নেতাদের উসকানিতে পা দিলে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা সবসময় রাজপথে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বেনাপোল পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক তবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আবুল কাশেম, শ্রমিক নেতা মুজিদ, আব্বাস, রফিকুল ইসলাম, মিল্টন, কামরুল ইসলামসহ বন্দরের শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ।
নজরুল/খাদিজা রুমি/