ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার
Nagad desktop

শরিকদের দাবি ২৪২ আসন, বিএনপির আসন কই!

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৯ এএম
শরিকদের দাবি ২৪২ আসন, বিএনপির আসন কই!
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলো যতগুলো আসন দাবি করেছে, তাতে বিএনপির নিজের জন্য খুব বেশি আসন অবশিষ্ট থাকে না। বিভিন্ন সময়ে সরকার গঠন করা দলটির কাছে শরিকরা ২২২টি আসন চেয়ে তালিকা জমা দিয়েছে। তালিকা জমা না দেওয়া গণঅধিকার পরিষদ চেয়েছে ২০টি আসন। শরিকদের দাবি পূরণ করা হলে বিএনপির নিজের জন্য অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৫৮টি আসন। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বিএনপির আসন কোথায়? এমনও কথা উঠেছে, এরপর যদি এনসিপি বা অন্য কারও সঙ্গে নির্বাচনি জোট হয়, তাহলে তো আর বিএনপির হাতে আসনই থাকে না!

বিএনপির কাছে শরিকদের প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তবে বাড়তি আসনের প্রত্যাশা অনেকের আকাশচুম্বী মনে হচ্ছে। ইসলামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে জামায়াতের জোট গঠনের উদ্যোগ বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্ভাব্য ওই জোট বিএনপিকে কিছুটা হলেও চাপে ফেলেছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তাদের মতে, এ কারণে বিএনপির শরিকদেরও দাবির চাপ বেড়েছে। তাদের মনোভাব হলো; জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে মোকাবিলা করতে হলে শরিকদের প্রয়োজন পড়বে বিএনপির।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, ‘জোট গঠন ও মিত্র দলগুলোকে আসনছাড়ের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। পুরো বিষয়টি দেখছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু খবরের কাগজকে বলেন, “শরিকরা আসনের তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দিয়েছে। তাদের আসন চাইতে তো অসুবিধা নেই। চাওয়ার সময় সবাই ‘কামান’ চায়, কিন্তু পায় ‘পিস্তল’। আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।”

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সেই সময়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’কে ১৯টি এবং তৎকালীন ২০-দলীয় জোটকে মোট ৩৯ আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। এর মধ্যে শুধু জামায়াতকেই ছাড়া হয়েছিল ২২টি আসন। এ ছাড়া এলডিপিকে পাঁচটি, খেলাফত মজলিসকে দুটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে তিনটি, জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) দুটি, বিজেপি, কল্যাণ পার্টি, এনপিপি, লেবার পার্টি ও পিপিবিকে একটি করে মোট পাঁচটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। সব মিলিয়ে ওই নির্বাচনে মোট ৫৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল দলটি। এই দলগুলোর মধ্যে গণফোরাম ছাড়া বাকি সব দলের প্রার্থী লড়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।

ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে গণফোরামকে সাতটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) চারটি, নাগরিক ঐক্যকে চারটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে চারটি আসন দেওয়া হয়েছিল। 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দশম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে ৩৯টি আসনে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। জোটের অপর তিনটি দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী ঐক্যজোট এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে দুটি করে আসন ছেড়ে দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে জামায়াত দুটি ও বিজেপি দুটি আসন পায়। 

২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ থাকতে পারে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলো।

শরিকদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বিএনপি। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে আরও ১৫-২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে দলটি। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে চলছে আলোচনা ও দর-কষাকষি। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন ও আসন সমঝোতার ব্যাপারে চলছে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা। জোট হলে এনসিপিকে ২০ থেকে ২৫টি আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারি মোট সাতটি মাধ্যম থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতোমধ্যে ১২ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন তিনি। সূত্রের দাবি, এই ১২ জনের মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বগুড়া-৪ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান রয়েছেন। 

গণতন্ত্র মঞ্চ চায় ১৪৩ আসন 

গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে বিএনপির কাছে ১৪৩ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। মঞ্চের মাহমুদুর রহমান মান্না ও জোনায়েদ সাকিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জামালপুর-৫ আসনে ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, চাঁদপুর-১ আসনে শহীদুল্লাহ কায়সার, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, ফেনী-৩ আসনে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ। তবে মঞ্চের শরিকদের মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না। তা ছাড়া ওই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক এমপি এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে ইতোমধ্যে মনোনয়নের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে রবের স্ত্রী জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবকে ঢাকার উত্তরার একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেখা যেতে পারে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটা আমাদের প্রাথমিক তালিকা। তালিকা আরও ছোট করে বিএনপির সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসব। নির্বাচন নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা শুনব, আমরাও আমাদের মতামত তুলে ধরব। এরপর তালিকার আসন ধরে ধরে হয়তো আলোচনা করব।’ 

এলডিপি চায় ১৩ আসন

এলডিপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ১৩ জনের তালিকা লন্ডনে সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছেন। ময়মনসিংহ-১০ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম তালুকদার, চট্টগ্রাম-৩ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (বীর বিক্রম), চট্টগ্রাম-১২ আসনে শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এম এয়াকুব আলী, ময়মনসিংহ-৮ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, জয়পুরহাট-২ আসনে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক কারিমা খাতুন, চাঁদপুর-৫ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশিরসহ ১৩ জনের তালিকা বিএনপির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। 

১২-দলীয় জোট চায় ২১ আসন 

২১টি আসন চেয়ে বিএনপির কাছে তালিকা দিয়েছে ১২-দলীয় জোট। এর মধ্যে তিনজনকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, মৌলভীবাজার-২ আসনে নবাব আলী আব্বাস, কুমিল্লা-৬ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, যশোর-৫ আসনে রশিদ বিন ওয়াক্কাস, বরগুনা-২ আসনে ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, নোয়াখালী-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান সামসুউদ্দিন পারভেজ, ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব তমিজউদ্দিন টিটু প্রমুখ। 

১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে জোট গঠনের ব্যাপারে ইতিবাচক। আমরা শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে ছিলাম এবং আগামী দিনেও থাকব।’ 

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট চায় ৯ আসন

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পক্ষ থেকে বগুড়া-১ আসনে খন্দকার লুৎফর রহমান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, চট্টগ্রাম-১ আসনে গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মওলাসহ ৯ জনের তালিকা বিএনপির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

গণফোরাম চায় ১৫ আসন

গণফোরামের পক্ষ থেকে বিএনপির কাছে যাদের জন্য যে আসনগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো ঢাকা-৬ আসনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মাগুরা-১ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, নরসিংদী-৩ আসনে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, ঢাকা-৫ আসনে অ্যাডভোকেট এস এম আলতাফ হোসেন, চাঁদপুর-৩ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, কুমিল্লা-৩ আসনে মোস্তাক আহমেদ, ময়মনসিংহ-৯ আসনে লতিফুল বারী হামিম, পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধুসহ ১৫ জন। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিএনপির কাছে এই তালিকা জমা দেওয়া হবে।

ইরানের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি চায় ৬ আসন

ঝালকাঠি-১ আসনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফরিদপুর-১ আসনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, গাজীপুর-৫ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, ঢাকা-৭ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান জোহরা খাতুন জুঁইসহ ছয়জনের তালিকা জমা দিয়েছে দলটি।

এ ছাড়া রাজবাড়ী-২ আসনে এনডিএম মহাসচিব মোমিনুল আমিনসহ এনডিএম ১০ জন এবং বিজেপি ৫ জনের তালিকা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ ২০টিরও বেশি আসনে ছাড় চাইবে বিএনপির কাছে। 

সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী মনোনয়নের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে। যাদের এবার মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের সংসদের উচ্চকক্ষে মূল্যায়নের চেষ্টা করবে দলটি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুগপৎ আন্দোলনের একজন সমন্বয়কারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা চলছে। দলগুলো প্রার্থীদের তালিকাও জমা দিয়েছে। যাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, শুধু তাদের তালিকা দিলে বিএনপির কাছে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হতো। তালিকা ঝুলিয়ে না রেখে যাদের আসন ছাড় দেওয়া হবে, তাদের আগেভাগে জানালে নির্বাচনি আসনে কাজ করা সহজ হবে। এ ছাড়া ওই সব আসনে বিএনপির তৃণমূলের প্রার্থীদের লাগাম টানার পরামর্শ দেন এই নেতা। 

বিএনপির কাছে তারা পাঁচটি আসন চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি মহাসচিব ও ঢাকা-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মতিন সাউদ। তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তবে মূল্যায়নের দায়িত্ব বিএনপির হাইকমান্ডের।’

গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরা নির্বাচনি জোট গঠন করব কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ভারত কর্তৃক অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বুধবার ( ১৭ই জুন) বিকেল ৫টায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৌরভ রায়, মনোয়ারুল ইসলাম ও হেমন্ত দাষ। 

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে।  গত কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের সীমান্তে অবৈধভাবে "পুশইন" করে বাংলাদেশের ভিতরে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতে "অবৈধভাবে" অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ইন করে পাঠানোর কথা ভারত দাবি করে আসলেও কার্যত ভারত কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পুশ ইন করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।  

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, গত প্রায় দুই দশকের অধিককাল ধরে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট কোনো অজানা ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মনোভাব বুঝা যায়। তিনি ভারতের সাথে সম্পাদিত হাসিনা-মনমোহন চুক্তি, হাসিনা- মোদী চুক্তি সহ সকল অসম, অধীনতামূলক চুক্তি, সামরিক চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান। 

সৌরভ রায় বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন হয়ে গেল। এই নির্বাচনে ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও শাসক দল বিজেপির পশ্চিম বঙ্গ শাখা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ বিরোধী, মুসলমান বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছিলো। এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে সাম্রাজ্যবাদী ভারত রাষ্ট্র, একচেটিয়া বড় পুজির দালাল, উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার নিজ দেশের সম্প্রদায় নির্বিশেষে জনগণের ঐক্যকে বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দাই নিচ্ছে না উপরন্তু সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে। উপমহাদেশের জনগণের ঐক্যে বিভাজন তৈরি করে ভারতে ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করে চলেছে।

সৌরভ রায় বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী ভূমিকা রুখে দাঁড়াতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা আজ এক গণতান্ত্রিক কর্তব্য । 

মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সীমান্তের জনগণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভারতের মক্কেল রাষ্ট্র বানানোর দিন গত হয়ে গিয়েছে এই বাস্তবতা ভারত সরকারকে বুঝতে হবে।

হেমন্ত দাষ বলেন, ভারতের আরএসএস, বিজেপি প্রভৃতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো একদিকে ভারতে  সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে জনগণের একতা বিনষ্ট করে চলেছে অন্যদিকে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীসহ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারী দলগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে চলেছে। এরা মাজারে,বাউলগানের অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা চালাচ্ছে।এসবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হেমন্ত দাষ বলেন, মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দেশে দেশ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভয় পায়। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

এসএন/

শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছে বিএনপির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন।

সোমবার (১৫ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন অন্তত পঞ্চাশজন লোক। যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার, বোরহানমোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, লিটন মুন্সি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

মিছিল করা যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি আমাদের দলের একজন কর্মী ও সমর্থক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি। তাই তার মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা। যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিক্ষোভ মিছিলটি দলের কোনো কর্মসূচি ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা মিছিল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর বলেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, লিটন মুন্সিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিধান মজুমদার/নাঈম

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। ছবি: খবরের কাগজ
নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
 
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পদ স্থগিত করা হয়েছে।
 
এর আগে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
 
অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ’এটি পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। কিছু পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।’
 
এদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সসমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তার পদ স্থগিত করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ’অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ’সংগঠনের কেউ অনিয়মে জড়িত হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
গাজী ‍আজম/আজহার/

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ  সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিছিলটি বের করা হয়।

ইতোমধ্যে মিছিলের ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানুকা রুমা সিনেমা হলের সামনে থেকে এসে কলেজ গেটে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহসিন মাদবরকে। মিছিল থেকে জয় বাংলার স্লোগান, শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ’আমরা মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। মিছিলটি আজকের নাকি পূর্বের সেটি নিশ্চিত হতে পারিনি। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/