ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করল বিজিবি গফরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ বিশ্বকাপের শুরুতেই জয়ের হাসি বাংলাদেশের মেয়েদের নওগাঁয় মাকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ছেলে গ্রেপ্তার যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল কচুয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার
Nagad desktop

বিএনপি-এনসিপি জোট গঠনের আলোচনা, আসন নিয়ে চলছে দর-কষাকষি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০০ এএম
বিএনপি-এনসিপি জোট গঠনের আলোচনা, আসন নিয়ে চলছে দর-কষাকষি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর রাজনীতিতে নতুন করে মেরূকরণ শুরু হয়েছে। কারণ এই সনদ স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ওপরে ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জানা গেছে, দলটি ইতোমধ্যে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট করার জন্য তৎপর হতে শুরু করেছে। পর্দার আড়ালে এখন চলছে আলোচনা। কতটি আসনে এনসিপিকে ‘ছাড়’ দেওয়া হবে- সে নিয়েই চলছে বিএনপির সঙ্গে দর-কষাকষি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ থেকে জন্ম নেওয়া ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ বা আপ বাংলাদেশের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এই দুই সংগঠনের উদ্যোগে আগামী ২৩ অক্টোবর রাজধানীর তোপখানা রোডের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আলোচনা সভা। সভায় অতিথি হিসেবে থাকছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান কাইয়ূম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আপ বাংলাদেশের সদস্যসচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করবেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করবেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিও শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ নিতে পারে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে দলটি পর্দার আড়ালে বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রবিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতার বাসায় এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তারা নৈশভোজে মিলিত হন। সূত্রের দাবি, ভবিষ্যৎ নির্বাচনি জোটের বিষয়ে ওই সময় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। সূত্রমতে, পর্দার আড়ালে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও এ বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। 

সূত্রটি জানায়, এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ১০টি আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চলছে এনসিপির। দলটি ২০টিরও বেশি আসন চাইলেও বিএনপি সাত থেকে আটটির বেশি ছাড়তে রাজি হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের উদ্যোগের এই বিষয়টি জামায়াতও অবগত। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা খবরের কাগজের কাছে স্বীকার করেন, এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোট গঠনের তৎপরতা সম্পর্কে তারা জানেন। ওই নেতা জানান, রবিবার জামায়াত সম্পর্কে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অবস্থান দেখেই তারা বুঝতে পারছেন, কিছু একটা হচ্ছে। 

জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার খবরের কাগজকে বলেন, আগামী নির্বাচনে করণীয় বিষয়ে আপাতত কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত কিছু নয়।

জামায়াত-এনসিপি টানাপোড়েন
একসময় একই লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন করা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পর্কে এখন টানাপোড়েন চলছে। সংসদ নির্বাচন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অবস্থান, ‘শাপলা প্রতীক’ এবং ‘পিআর’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও দলীয় স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তুলছে।

প্রতীকের রাজনীতিতে উত্তেজনা
দলের প্রতীক  হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ দাবি করে আসছে এনসিপি, কিন্তু ইসি এখনো সেই প্রতীক দলটিকে দেয়নি। কমিশন জানিয়েছে, শাপলা বাদে বাকি ৫০টি প্রতীকের মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে হবে দলটিকে। এর পেছনে জামায়াতের ইন্ধন দেখছে এনসিপি। দলটির নেতাদের অভিযোগ, ‘শাপলা প্রতীক না দেওয়ার পেছনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতেরও যোগসাজশ রয়েছে।’

এনসিপির এক মুখপাত্র খবরের কাগজকে বলেন, ‘ক্ষমতা পরিবর্তনের পর নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তারা নিয়োগ পেয়েছেন। এখন তারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আমাদের কাছে খবর আছে, এনসিপি যেন শাপলা প্রতীক না পায়, সে ক্ষেত্রে জামায়াতও বাধা সৃষ্টি করছে।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতের রাজনীতিতে একমত না হলে তারা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে। এটিই তাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আচরণে আমরা পক্ষপাতিত্ব লক্ষ করছি। ইসি এখন ধর্মভিত্তিক দলের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেই প্রভাব রয়েছে। শাপলা প্রতীক ইস্যুতে কমিশন একধরনের গোয়ার্তুমি করছে, যা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’ 

জুলাই সনদে দ্বন্দ্বের বিস্তার
জামায়াত ও এনসিপির টানাপোড়েন আরও প্রকট হয়ে ওঠে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে। দুই দল আগে থেকেই আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষরে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে একমত ছিল। এনসিপি জামায়াতকে অনুরোধ করেছিল, আইনি ভিত্তি না পেলে তারা যেন সনদে স্বাক্ষর না করে। এ উদ্দেশ্যে এনসিপির প্রতিনিধিদল জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও হামিদুর রহমান আযাদের সঙ্গে বৈঠকও করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামায়াত অবস্থান বদলে সনদে স্বাক্ষর করে। এতে এনসিপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।

দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রবিবার নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) আন্দোলন, যা জামায়াত শুরু করেছিল, সেটি ছিল এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাতুরী। ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া বানচাল করতেই এটি করা হয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা জনগণের গণ-অভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত সেটিকে দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার বানিয়েছে।’

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জামায়াত কখনোই সংস্কারের কোনো কার্যকর প্রস্তাব দেয়নি কিংবা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি আন্তরিকতা দেখায়নি। বরং তারা সংস্কারবাদের ছদ্মবেশে রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করেছে।

ঐকমত্য কমিশনের ভিন্ন অবস্থান
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাতেও দুই দলের অবস্থান বিপরীতমুখী। এনসিপি অভিযোগ করেছে, জামায়াত কমিশনকে নিজেদের রাজনৈতিক সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। সামান্তা শারমিন বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনকে আমরা পরিবর্তনের একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াত সেটিকে তাদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, উচ্চকক্ষে পিআর বাস্তবায়নের কথা বললেও পরে তারা নিম্নকক্ষে অবস্থান নেয়। কখনো স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দিয়েছে, আবার পরে স্বাক্ষরও করেছে। তাদের অবস্থান অস্পষ্ট এবং রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ঠিক নেই।

এনসিপির মুখপাত্র ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, জামায়াত বলেছিল, আইনি ভিত্তি ছাড়া তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না। কিন্তু তারা করেছে। এটা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও জামায়াত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। তারা জনগণের আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। আইনি ভিত্তিহীন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেও তারা সেটিকে সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (১৪ জুন)  রাত ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় ১১ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ এনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১৭ বছর একটা কঠিন অবস্থা অতিক্রম করেছি। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিলো। আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেককিছু করা হয়েছে। যেটা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তারা আর এর থেকে বের হতে পারেনি।’

সাবেক আউজি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর বলেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড এলার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইর কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’

সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘ওপার থেকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপোষ করব।’ 

সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।

সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভাল থাকবে। নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভাল হবে এর প্রমাণ নেই।’

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বাজেটে অনেককিছু ওয়েভার এসেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না সেটা জানতে চান তিনি। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না এই দু'টি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নাই বাজেটে।’

রিফাত/

বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি এবং ‘গুমের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গুম ও অপহরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগও তোলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘নারীরা আজ জামায়াত-শিবিরের কারণে অনিরাপদ। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা চরিত্রহনন করে। এজন্য বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। আমরা দেখেছি, নারীকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তারা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিল। 

এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা জামায়াত-শিবির প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার বিচার করতে হবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।জামায়াত-শিবিরকে বলতে চাই, এসব গুমের নাটক করবেন না। গুমের নাটক সাজিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।

এদিকে ছাত্রদলের এ কর্মসূচিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছে বেরোবি ছাত্রশিবির। সংগঠনটির নেতা আহমেদুল হক আলবির বলেন, এটি ছাত্রদলের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো অস্পষ্ট। প্রশাসন এখানে বাদী ও বিবাদী কাউকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। আর ঘটনাটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণিত হওয়া এক জিনিস নয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জিসান মিয়া প্রধান অপহরণের শিকার হননি। পুলিশের দাবি, নিজের পরিচয় গোপন করে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আজম/রিফাত/

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাজেটকে আমজনতার ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ও ভারতের সীমান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অন্যায়’ বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারবে না। এটি মূলত বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের ‘আদেশনামা’।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপি সরকারের চার মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণী শ্রমিক-কৃষকদের বিশেষ কোনো জায়গা হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল হলেও শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো খবর নেই। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করা হয়নি।’

এই ঘাটতি বাজেটের পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরেই বর্তাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো হিসাবই জনগণের কাজে আসবে না।’ চলমান সংসদ অধিবেশনেই আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বন্ধুত্বের বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘এই বার্তা যদি আন্তরিক হয়, তবে অবিলম্বে ভারতকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ভারত এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি। সমতা, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে ভারতকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না উল্লেখ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। 

সাইফুল হক  বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার যেটুকু এগিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেই অগ্রগতি দেখাতে পারছে না। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করবে।’

কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুল ইসলাম এবং অরবিন্দু বেপারী বিন্দুসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নেতা-কর্মীরা। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, তোপখানা রোড ও বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা, অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নারী ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। 

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ‘বাহ শফিক চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষণ করে গুমের নাটক, চলবে না চলবে না’, ‘গুমের নাটক করে যারা, দেশবিরোধী শত্রু তারা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিল শেষে শহিদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘গুম একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। হাসিনা সরকারকে হালকাভাবে দেখানোর জন্য বিরোধী দল এ ধরনের নাটক সাজিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র কি না তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। শিবিরের ভণ্ডামির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রকাশ্য ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির পক্ষে মত দেন।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হিরণ বলেন, ‘শিবির নেতা একজন বোনকে ধর্ষণ করে ভ্রূণ হত্যা করেছে এবং নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে।’

তিনি জামায়াত-শিবিরকে ‘অপরাধ জগতের সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এতে ঢোকা সহজ কিন্তু বের হওয়া কঠিন। গুপ্তভাবে ক্যাম্পাসে তাদের কমিটি চালানোর সমালোচনা করেন তিনি।’

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একজন ছাত্রশিবির নেতা ধর্ষণ করে ‘গুমের নাটক’ সাজিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করেছিল, যেখানে জামায়াত-শিবিরের উচ্চপর্যায়ও জড়িত। এর মাধ্যমে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করেছে। ধর্ষণ করে গুমের নাটক করা প্রকৃত গুমের শিকার পরিবারগুলোর বেদনাকে অবমাননা করার শামিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর শান্তিপূর্ণ রাজনীতির সুযোগ ছিল। কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবির বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের এক নেতা নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যায় জড়িত থাকার পর গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা করেছে এবং সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ করেছে।’ 

শিবিরকে সুষ্ঠু রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যথায় প্রতিহত করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমানউল্লাহ খান/রিফাত/ 

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও