নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হিসাবে গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফোনে তার সঙ্গে কথা বলে ওই সিগন্যাল দেন বলে নিশ্চিত করেছেন আনু ছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য সচীব আসাদুজ্জামান আসাদ।
আনোয়ারুল ইসলাম আনুর অপর পরিচয় হলো তিনি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলকের চাচাশ্বশুর।
আনোয়ারুল ইসলামের ওই গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হলে সিংড়া আওয়ামী লীগে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘‘আলহামদুলিল্লাহ’’ লিখে বিভিন্ন খুশির অনুভূতি প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিংড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের একটি অফিসও প্রকাশ্যে খোলার উদ্যোগ নেন তারা। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ।
তথ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সিংড়া উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। এজন্য তার ওপর নেমে আসে নানা হুমকি-মারপিট। তাকে বেশ কয়েকবার যেতে হয় জেলে। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর এলাকার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একরকম নিশ্চিত ছিলেন আগামী নির্বাচনে দাউদার মাহমুদই হবেন ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী। কিন্তু সম্প্রতি আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে গ্রীন সিগন্যাল দেন তারেক জিয়া।
এ বিষয়ে সিংড়ায় আনু আয়োজিত এক বিএনপি সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য সচীব আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আনুকে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়ার বিষয়টি তারেক জিয়া তাকে জানিয়েছেন।
এদিকে ওই বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উচ্ছাস প্রকাশ করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সিংড়ার শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদার এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আরিফুল ইসলাম শিমুল লেখেন ‘‘কইলজা ঠান্ডা!’’।
অপরদিকে পলকের কাছের মানুষ খ্যাত মাহিদুল ইসলাম মানিক লেখেন ‘‘শীঘ্রই ফিরবেন আমাদের অহংকার, তরুণ প্রজন্মের নেতা জুনাইদ আহমেদ পলক ভাই। অপেক্ষায় আছি।’’
এছাড়া বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে সিংড়া বাজারে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলেন পৌর যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক বেলাল খান। এসময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ঘটনাটি সরাসরি দেখান। তবে তালা খুললেও দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় অফিসের শাটারটি খুলতে ব্যার্থ হন তারা।
জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম লেখেন, ‘‘আলহামদুলিল্লাহ, আশা পূরণ’’।
অপরদিকে সমস্ত বিষয় জানার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু আগে সিংড়া কোর্ট মাঠে তারেক জিয়া ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে গণমিছিল, কর্মশালা ও সমাবেশের আয়োজন করে সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি। ওই সমাবেশে ধানের শীষ প্রত্যাশী দাউদার মাহমুদ জানান, বিএনপির একজন কর্মী হিসাবে দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র মানতে তিনি সদা প্রস্তুত। আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান যার হাতে মনোনয়ন দেবেন তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন তারা।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত ২৯ বছর থেকে দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। বিগত ১৭ বছরে ১৫টি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় তাকে ৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সেই নির্যাতনের ফলে এখনও রাতে পা ব্যাথা করে।
তিনি আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে লক্ষ্য করে বলেন, বিগত সময়ে এসি রুমে বসে রাজনীতি করি নাই। বরং তারেক জিয়ার নির্দেশে সব সময় মাঠে ছিলাম। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি ও দেশের সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
ওই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচীব এমএ মালেক, পৌর বিএনপির সদস্য সচীব তায়জুল ইসলাম এবং মহিলাদল নেত্রী রোজিনা আক্তার শিল্পী।
বক্তাদের দাবি, জাতীয়তাবাদ চেতনার পাশাপাশি বিএনপি, সহযোগী সংগঠন ও ভোটারদের পালস্ বুঝে উপযুক্ত ও সকলের পছন্দের প্রার্থীর হাতে আগামী নির্বাচনের জন্য ধানের শীষ তুলে দিতে হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আনোয়ারুল ইসলাম আনু তারেক জিয়ার মাধ্যমে ফোনে গ্রীন সিগন্যালের পাওয়ার ৭ দিনের আগেই আওয়ামী লীগ অফিস খুলেছে। যারা বিগত সময়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীদের পঙ্গু করেছে, তারা এখন ধানের শীষে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার প্রার্থীর জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলছে, যা অশনী সংকেত। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ও কেন্দ্রীয় বিএনপিকে আশু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন তারা।
কামাল মৃধা/মাহফুজ