বিরল মৃত্তিকা খনিজগুলোর ওপর চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে পাশ কাটিয়ে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রবিবার (২৬ অক্টোবর) একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিং বিরল মৃত্তিকা শিল্পের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ ঘোষণা করায়, ট্রাম্পের প্রতিশোধ হিসেবে চীন থেকে আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত বৈঠকের আগে ট্রাম্প বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন।
নতুন মার্কিন-মালয়েশিয়া চুক্তির অধীনে, কুয়ালালামপুর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কোটা আরোপ করা থেকে বিরত থাকার’ অঙ্গীকার করেছে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন মালয়েশীয় পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘মালয়েশিয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছে বিরল মৃত্তিকা ম্যাগনেট বিক্রির ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
এ ছাড়া মালয়েশিয়া মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের উন্নয়নে গতি আনার এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পরিচালন লাইসেন্সের সময়সীমা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, এই চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ‘যতটা সম্ভব মুক্ত এবং যতটা সম্ভব স্থিতিস্থাপক’ করে তুলবে। গ্রিয়ার বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করি, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলো আমাদের উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহ শৃঙ্খল যেন মসৃণ থাকে তা নিশ্চিত করতে ইচ্ছুক অংশীদার হিসেবে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করা খুবই জরুরি।’
মালয়েশিয়া ২০২৩ সালে ঘোষণা করেছিল যে, তাদের প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টন অব্যবহৃত বিরল মৃত্তিকা মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে, কাঁচা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির ওপর একটি দেশব্যাপী স্থগিতাদেশ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
চীনের অতীত পদক্ষেপ ও বাজারের উদ্বেগ
২০১৯ সালে চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ যখন তুঙ্গে ছিল, তখন চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যা উৎপাদকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
২০১০ সালে একটি আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে চীন যখন জাপানে বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, তখন টোকিওকে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পর জাপান সরবরাহ বৈচিত্র্যময় করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা শুরু করে, যার অংশ হিসেবে তারা মালয়েশিয়া থেকে উৎপাদন নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ান গ্রুপ লিনাসের সঙ্গে চুক্তি করে এবং নিজস্ব পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বাড়ায়।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরল মৃত্তিকা সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং নিজেদের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। সূত্র: এএফপি