জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলায় যে রায় হয়েছে, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। একই সঙ্গে অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের সুবিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি৷
সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।
লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসীবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যূত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামে সহস্রাধিক বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের অসংখ্য নাগরিক গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও অবর্নণীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। অবশেষে ছাত্র-গণঅভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতা-শ্রমিক, নারী-শিশুসহ সহস্রাধিক নাগরিকের আত্মদান, অন্ধত্ব, চিরপঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের জঘণ্যতম ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী বাকশালী শাসনামলের পতন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের জনমত এবং বাংলাদেশের জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা ছিল যেন পতিত স্বৈরাচার ও তার দোষরদের মানবতাবিরোধী ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যা অপরাধের বিচার করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে আজকে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও তার দুই দোষরের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়েছে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার কারনে প্রাপ্য সাজা কমিয়ে ৫ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপি অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের সুবিচারের দাবি জানাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি এ ব্যাপরে জনগণকে সদা সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার এবং ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার সহস্রাধিক শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের পরিবার পরিজনদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।
সোমবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ১০টার দিকে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
শফিকুল/নাঈম