ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
Nagad desktop

কিশোরগঞ্জে ব্যানার ধরার লোকও পেলেন না ‘কথিত’ বিএনপি নেতা রহিম মোল্লা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৩ পিএম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৯ পিএম
কিশোরগঞ্জে ব্যানার ধরার লোকও পেলেন না ‘কথিত’ বিএনপি নেতা রহিম মোল্লা
ছবি: খবরের কাগজ

সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর নিজেকে বিএনপি বানাতে গিয়ে এবার বিএনপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে নেমেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে তার গুটিকয়েক অনুসারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে কিছু স্বজন ও ভাড়াটিয়া লোকজনদের নিয়ে কিশোরগঞ্জে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন আব্দুর রহিম মোল্লা। 

জেলা শহরের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতেও করেছেন অবাক কাণ্ড! মানববন্ধনের জন্য করেছেন ৩০টিরও বেশি ব্যানার। কিন্তু সেইসব ব্যানারের পিছনে দাঁড়ানোর মতো লোকজন পাননি তিনি। এমনকি ভালোভাবে ব্যানার ধরার জন্য লোকও ছিল না মানববন্ধন কর্মসূচিটিতে। ফলে বিশাল আকারের প্রতিটি ব্যানার নিয়ে ২/৩ জন করে ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি ব্যানার ধরার লোক না পাওয়ায় অনেকগুলো ব্যানার পাশ্ববর্তী দেওয়ালে টানিয়ে রাখা হয়।

নৌকায় ভ্রমণ শেষে নিজেকে এখন বিএনপির কর্মী বলে দাবি করছেন সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা। তিনি দাবি করছেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ কিশোরগঞ্জের বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানেন না। 

অনেকেই জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। এরপর ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী কামরুল হাসানের নৌকার যাত্রী হয়ে একরকম ভ্রমণবিলাসে দিন কাটিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে তিনি ছিলেন ‘দুর্নীতির বরপুত্র’। যে কারণে উপসচিব হিসেবেই চাকুরি শেষ করতে হয় তাকে। এরপরও তিনি নিজেকে পরিচয় দেন সচিব হিসেবে। আরও অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও চাকরিকালীন প্রভাব কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাগিয়ে নিয়েছেন আব্দুর রহিম মোল্লা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনীতিকে ব্যবসাবৃত্তি হিসেবে বেছে নিতে আব্দুর রহিম মোল্লা খোলস পাল্টে বিএনপির একজন সাজতে চাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে চেয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়ন। কিন্তু এ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে সেই চেষ্টায়ও ব্যর্থ হন আব্দুর রহিম মোল্লা। বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ কোনো পর্যায়ে তার কোনো পদ-পদবী না থাকার পরেও বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে চাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী এবং জনসাধারণের সঙ্গে আব্দুর রহিম মোল্লার সম্পৃক্ততা নাই বললেই চলে। স্বভাবতই নিজ এলাকা ইটনাতেও কর্মসূচি পালন করলে তিনি মানুষ পাবেন না। এছাড়া মূলত ফজলুর রহমানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেকে হাইলাইট করতে চাচ্ছেন। এই কারণে তিনি কখনো ঢাকা এবং কখনো কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে টাকার বিনিময়ে লোকজন জোগাড় করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এর মাধ্যমে আব্দুর রহিম মোল্লা দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্তকেই প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করে চলেছেন। 

কেবল তাই নয়, তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এই তিন উপজেলার গণমানুষের আবেগ-অনুভুতির বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। কেননা, এই আসনে ফজলুর রহমানকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। দলীয় মনোনয়নে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি হাইকমান্ডের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আব্দুর রহিম মোল্লার এমন তৎপরতার বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দলে উনার কোনো পদ-পদবী নেই। এমনটি তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। তাই দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই।

নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালন না করে জেলা সদরে কেন করেছেন? প্রাসঙ্গিকভাবে এই প্রশ্ন করেছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে আব্দুর রহিম মোল্লা বলেছেন, এটি আমাদের জেলা শহর। এখানে আমাদের তিন উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করে। মিডিয়া, প্রশাসন ও জেলা বিএনপির নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এখানে কর্মসূচিটি করা হয়েছে।

তাসলিমা/মাহফুজ

শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছে বিএনপির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন।

সোমবার (১৫ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন অন্তত পঞ্চাশজন লোক। যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার, বোরহানমোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, লিটন মুন্সি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

মিছিল করা যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি আমাদের দলের একজন কর্মী ও সমর্থক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি। তাই তার মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা। যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিক্ষোভ মিছিলটি দলের কোনো কর্মসূচি ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা মিছিল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর বলেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, লিটন মুন্সিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিধান মজুমদার/নাঈম

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। ছবি: খবরের কাগজ
নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
 
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পদ স্থগিত করা হয়েছে।
 
এর আগে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
 
অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ’এটি পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। কিছু পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।’
 
এদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সসমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তার পদ স্থগিত করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ’অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ’সংগঠনের কেউ অনিয়মে জড়িত হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
গাজী ‍আজম/আজহার/

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ  সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিছিলটি বের করা হয়।

ইতোমধ্যে মিছিলের ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানুকা রুমা সিনেমা হলের সামনে থেকে এসে কলেজ গেটে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহসিন মাদবরকে। মিছিল থেকে জয় বাংলার স্লোগান, শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ’আমরা মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। মিছিলটি আজকের নাকি পূর্বের সেটি নিশ্চিত হতে পারিনি। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/

১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে
ছবি: খবরের কাগজ

১৯৭৮ সালের ২৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান এসেছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অংশ নিয়েছিলেন জনসমাবেশে। তার ঠিক ৪৮ বছর পর একই মাঠে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বুধবার (১৭ জুন) তার এই আগমনে স্থানীয় বিএনপি নেতারা যেমন আনন্দিত, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উচ্ছ্বসিত।

বিএনপির প্রবীণ অনেক নেতা ও শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় প্রবীণরাও স্মৃতিকাতর। তারা ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্রীমঙ্গলে আগমন ও সমাবেশের স্মৃতিচারণ করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াকুব মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ’১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রীমঙ্গল সফরে আসেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের (বিটিআরআই) গেস্ট হাউজে ওঠেন। সেখান থেকে তিনি গোপলা নদী ও বিলাছড়ার মধ্যের অংশে একটি খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেন। এখনকার মতো তখন এত বেশি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না। তখন জনবসতিও অনেক কম ছিল। তবুও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।’

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ’আমার তখন ১৩ বছর বয়স। আমি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তাম। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেদিন শ্রীমঙ্গলে আসেন, সেদিন আমরা স্কুল থেকে সবাই মিলে গোপলা নদীতে খাল খননে গিয়েছিলাম। এখনকার মতো তখন এত বাস বা অনান্য যানবাহন ছিল না। দুই তিনটি বাস মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কে চলতো, সেই বাসগুলোকে রিকুইজিশন করে এবং বিভিন্ন চা বাগানের জিপ, ট্রাক্টর নিয়ে সবাই খাল খনন কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিই। যখন রাষ্ট্রপতি এসে পৌঁছান এবং মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তখন উনার গাড়িবহরে হাজার হাজার মানুষ ছিল। সে এক দেখার মতো দৃশ্য ছিল।’

আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেবেন এবং সেখান থেকে তিনি মির্জাপুর ইউনিয়নের সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

পাশাপাশি তিনি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জনকে জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য ৫ জন চা শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দপত্র তুলে দেবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উনার পিতার পদাংক অনুসরণ করেই এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলেন, বিএনপিকে এই অঞ্চলের মানুষ ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিলে তিনি তাদের জন্য সর্বোচ্চ উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। নির্বাচিত হওয়ার চার মাসের মাথায় তার এ সফর মূলত তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রতি তিনি কতটা নিষ্ঠাবান তারই প্রতিফলন।’

হৃদয় শুভ/থিওটোনিয়াস/