চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির মধ্যে সম্প্রতি যে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যের ছবি দেখানো হয়েছিল, তা বেশি দিন টিকল না। সাম্প্রতিক সময়ে বৈঠক ও সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঐক্যের সুর এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চলতি বছরের ১৭ জুলাই ও ২০ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীতে দুই দফা বৈঠক করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা। এ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। সেখানে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার আসনটিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমানের অনুসারীরা সাতকানিয়া উপজেলাধীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী সংলগ্ন পেট্রল পাম্পের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া কেরানীহাট এলাকায় মশাল মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপির ঐক্যে ফাটল দৃশ্যমান হয়। তবে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা অপর দুই নেতা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও সদস্য অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিনের অনুসারীদের রাজপথে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি।
সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন মুজিবুর রহমান। এই আসন থেকে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের অন্যতম দাবিদার। তাকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার ফলে দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।’
শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবেন, আমি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করব। এখানে ব্যক্তি দেখার কোনো সুযোগ নেই, আমরা শুধু দেখব প্রতীক।’ এ বিষয়ে জামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রায় ৩৬ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় যারা রাজপথে ছিল, তারা এই সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারছে না বলেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। দল থেকে এখন প্রাথমিকভাবে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এখনো আশাবাদী দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন।
এ বিষয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ‘আমাদের কোনো নেতা হাই কমান্ডের নির্দেশ অমান্য করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা সবাই এক, অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ আছি।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ইদ্রিস মিয়া বলেন, এই আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর কিছু অতি উৎসাহী নেতা-কর্মী মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও মশাল মিছিল করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এতে ঐক্যে ফাটল হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।’