ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে! রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার তামু ও তার সুপারহিরো বাবার গল্প বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচ ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ

সিলেট বিভাগে বিএনপির প্রথম বিদ্রোহী ‘ভোটের রাজা’ জাকেরীন

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম
সিলেট বিভাগে বিএনপির প্রথম বিদ্রোহী ‘ভোটের রাজা’ জাকেরীন
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল মনোনয়নবঞ্চিত দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের সঙ্গে করমর্দন করছেন। ইনসেটে দেওয়ান জযনুল জাকেরীন। ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় ‘ভোটের রাজা’ খ্যাত রাজনীতিবিদ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন। গত ৪ ডিসেম্বর এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে। ওই দিন রাতে জাকেরীন তার ফেসবুকে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ইঙ্গিত দেন।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।

যোগাযোগ করলে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন তার প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৯ সালে প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর থেকে বিএনপিতে সক্রিয়। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতায় ২০১৮ সালে আমি দল মনোনীত প্রার্থী ছিলাম। তখন অপেক্ষাকৃত সিনিয়র নেতা ও সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়াকে সম্মান দেখিয়ে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকি। তার মৃত্যুর পর এ আসনটিতে আমাকে মনোনীত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে অস্বাভাবিক ঘটনা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র একজনকে মনোনীত করা। এ বিষয়টি দলের অধিকাংশরা মেনে নেয়নি। দল ও ভোটারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সিলেট বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে তিনিই হবেন প্রথম বিদ্রোহী। এ বিষয়ে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীর কাছে জানতে চাইলে এ মুহূর্তে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিএনপির সাংগঠনিক একটি সূত্র জানায়, বড় দল হিসেবে মনোনয়নবঞ্চনার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বেশি হবেই। নির্বাচনকালীন সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন হলে এসব বিষয় দেখা হবে। তবে জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় সিলেট বিভাগে প্রথম বিদ্রোহী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

জানা গেছে, জয়নুল জাকেরীন মরমী কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র। পারিবারিক খ্যাতিতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ভোটের রাজনীতিতে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পৌরসভা থেকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে একবারও হারেননি। এ জন্য তাকে ‘ভোটের রাজা’ বলা হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তার পদ ছেড়ে ১৯৮৪ সালে ভোটের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে জাকেরীনের। সেই থেকে তার জয়রথ শুরু। সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আলফাত উদ্দিন আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন। এক বছর পর পৌর চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেশে প্রথম অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। ১৯৮৫ সালের সেই ভোটের মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মন্ত্রী ও পৌর চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন।

১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগের ভোটের রাজনীতির নেতাখ্যাত প্রয়াত মনোয়ার বখত নেককে হারিয়ে দ্বিতীয় দফা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আবার ফিরলে প্রার্থী হন এবং ২০০৯ তৃতীয়বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হন। এর পর ২০১৪ সালে চতুর্থবার। পঞ্চমবার ২০১৯ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। জয়নুল জাকেরীনের রাজনৈতিক জীবন বিএনপি থেকে শুরু। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি পদে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর পুনর্গঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এখন। দলীয় মনোনয়নবঞ্চনার প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে তার একটি স্ট্যাটাস ঘিরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তিনি ফেসবুকে লিখেন, ‘আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং আপনাদেরই একজন, আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী, আপনাদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার একজন নীরব প্রহরী হিসেবে। দেশ যখন অন্ধকার ভেদ করে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, যখন জাতি ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছে, ঠিক সেই সময় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা সুনামগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুরের মানুষের হৃদয়ে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তা আমাদের সবার বেদনার সম্মিলিত স্মারক হয়ে থাকবে। এই জনপদের সর্বস্তরের মানুষ, মজুর–কৃষক–শ্রমিক, শিক্ষক–বুদ্ধিজীবী, তরুণ–বয়োজ্যেষ্ঠ, হিন্দু–মুসলিম–সব সম্প্রদায়ের আপনজনেরা, যারা শান্তি, সম্প্রীতি, সুশাসন আর মানবিক মর্যাদা-নির্ভর একটি নতুন সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে ছিলেন, সেই স্বপ্ন যেন এক মুহূর্তে থেমে গেছে। আমি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, আপনাদের ভাই, আপনাদের আপনজন। আজ আপনাদের কাছে একটিই কথা বলতে চাই—দল হয়তো আপনাদের আশা বুঝতে পারেনি, আপনাদের আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু আমি আপনাদের বুঝি, আমি আপনাদের অনুভব করি, আপনাদের স্বপ্নই আমার স্বপ্ন—এটাই আমার প্রেরণা। আমি শপথ করে বলছি, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনাদের শক্তিকে পুঁজি করে, সুনামগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সন্ত্রাসমুক্ত এক জনপদে রূপান্তরিত করার লড়াই আমি থামাব না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সংগ্রাম আমার চলবে—ইনশাআল্লাহ। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই আমি আপনাদের নিয়ে সেই নতুন লড়াই, সেই নতুন পথচলার ঘোষণা দেব। যে পথচলা হবে আপনাদের স্বপ্ন রক্ষার, আপনাদের মর্যাদা রক্ষার, আপনাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম। পরম দয়ালু আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর হেফাজতে রাখুন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে শক্তি দিন।’

জাকেরীন-নুরুল সৌজন্য সাক্ষাৎ
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ নুরুল সৌজন্য সাক্ষাতে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। 

সাক্ষাৎ শেষে নুরুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসনটিতে অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এক এক করে সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করব, ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাব ।’

সুমন/

লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা
হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে মামলা হয়েছে। এমনটি জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। 

শনিবার (২০ জুন) রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। ইউকে অ্যালায়েন্সের ফেসবুক পেজে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকেরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্তরা/

মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন
ছবি: খবরের কাগজ

যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে সবার আগে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

এ সময় বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট মাদক ব্যবসায়ীরা এখন রাজনৈতিক খোলস বদলে বিএনপির কোনো না কোনো নেতার ছত্রছায়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জামালপুর শহরের স্টেশন রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই। আপনাদের মাঝে যদি ভূত থাকে তাহলে ওই ভূত ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিন। যদি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যদি সৎ না হয়, স্বচ্ছ না হয়, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কাজেই আপনারা যথাযথ পদক্ষেপ নিন, বিএনপি আপনাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে। আমি আহ্বান জানাব, যদি কোনো বিএনপি নেতাকর্মী মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, সর্বপ্রথম তাকে গ্রেপ্তার করুন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় না দেওয়া। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা নিজেরা কোনোভাবেই এই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হব না। সাধারণত দেখা যায়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক সুবিধা পেয়ে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন ও আনন্দ-ফুর্তি করার সুযোগ পায়। এমনকি তাদের দেখাদেখি অনেকে নতুন করেও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রশাসনও অনেক সময় সরকারি দলের লোকজনকে গ্রেপ্তার করতে দ্বিধাবোধ করে। তাই অন্যদের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমরা কেউ কোনো অবস্থাতেই মাদক সেবন করব না। বিএনপি নেতা যদি মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে অন্যজনকে প্রতিরোধ করা যাবে না।

শহরের স্টেশন রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসুচির আয়োজনকরে জেলা বিএনপি।

মাদকবিরোধী সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি লোকমান আহমেদ খান লোটনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সহিদুল হক খান দুলাল, লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম খান সজিব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। 

বক্তারা বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক হতে হবে।’

সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মাদকবিরোধী র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান/ ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের কাছে আমরা মাথা নত করব না। সরকার যদি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তাহলে আমরা সরকারকেও ছেড়ে কথা বলব না।’

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে অসম্মান করার পরিণতি কী হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’

তিনি আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক, সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করব না।’ তিনি বলেন, ‘খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি, তাই নিয়ে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর. রাজশাহী, বগুড়ার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সব আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

সীমান্তে অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পুশইনের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। ভারত চেয়েছে পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করতে। ভারত লুটপাট করতে এসেছিল, এ দেশের স্বাধীনতার জন্য আসেনি।’

খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর শেখ হাসিনার ভূত ভর করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রতারণা করেছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের দুটি পক্ষ। একটি ভারত পক্ষ, আরেকটি বাংলা পক্ষ। যদি আপনি ভারত পক্ষ নেন তাহলে কঠিন লড়াই হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন সংবিধানের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জুলাই লড়াইকে অস্বীকার করা হচ্ছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে।

যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির (জাপা) যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের ২৫ জন শীর্ষ নেতা-কর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এবং অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা যৌথ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ।

লিখিত বক্তব্যে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করতে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরে কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও ঊর্ধ্বতন নেতাদের অসাংগঠনিক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের কারণে এই দলটি দেশ ও জনগণের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না বলে তারা মনে করছেন।

ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সরকারের যেকোনো চক্রান্ত ও দখলচেষ্টা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

  • গ্রাহক ফোরাম যে কর্মসূচি নেবে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্রাহকদের একদম ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে
  • ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হবে

তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং সেই আন্দোলন সরকারের পতনের কারণও হতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) এক সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একই সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলদের কঠোর সমালোচনা করেন। 

কর্মসূচির খবর তৃণমূলে পৌঁছানো, উপস্থিতির ভুল তথ্য, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান তিনি। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার এমন একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আপনারা আত্মসমালোচনা করেছেন? গতদিন তো অনেক কথা বললাম অনলাইনে। এখন তো আমি বুঝছি অনলাইনের মিটিং। আমি ভাবছিলাম দায়িত্বশীলরা সচেতন, ছোটখাটো কোনো বিষয়ে অনলাইনে নির্দেশ দিলেই কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু খবর তৃণমূল পর্যন্ত ঠিকমতো পৌঁছে না। সময়মতো পৌঁছে না, সবার কাছেও পৌঁছে না। আমরা মেসেজ দিয়ে রেখে দিই, ফোন দিয়ে ফলোআপ করি না–খবরটা নিশ্চিত হলো কি না। আবার এমন সময়ে খবর দিই যে, ওই ব্যক্তির আসাটাই কঠিন। তার মানে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কর্মসূচিগুলো নিতে পারছি না।’ 

উপস্থিতির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘উপস্থিতিগত সমস্যা হয়েছে। অথচ যখন আপনারা সংখ্যা দেন, আল্লাহর ওয়াস্তে একটা বিশাল সংখ্যা চলে আসে। আপনাদের প্রতি সম্মানের সঙ্গে, বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি যদি একজনও না আসে, তা-ই লিখবেন। এর বাইরে তো কল্পনা করা যায় না। আপনি সংখ্যা দিয়ে দিচ্ছেন। যার কাছ থেকে নিচ্ছেন, তিনি কীভাবে সংখ্যা দিলেন? ঘরে বসে সংখ্যা দিল, না খোঁজখবর নিয়ে সংখ্যা দিল? এগুলো আমাদের বিব্রত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের একটি কর্মসূচিতে উপস্থিতি যা হয়েছে, তা যোগ করে দিয়ে দিলেন–এটা কেন? ওয়ার্ড সভাপতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। গতকালের (শুক্রবার) উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। আপনার লোক কতজন এসেছে, কতজন খবর পেয়েছে, কেন খবর পায়নি, আগে খবর দিয়েছেন না পরে দিয়েছেন–এসব খতিয়ে দেখুন।’

দায়িত্বশীলদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুলবুল বলেন, ‘বেলা ১১টার পরে অনুষ্ঠান। ফজরের পর থেকে নিজেরা সজাগ-সচেতন ছিলেন কি না, নাকি অফিস, ব্যবসা, বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন? এগুলো করে কি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব?’

এরপর ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার যে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে, আমাদের যতদূর যাওয়া দরকার আমরা ততদূর যাব। কিন্তু ব্যাংক কারও হাতে আমরা ছেড়ে দেব না। ব্যাংক সুরক্ষা করতে গিয়ে যদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা লাগে, তাহলে এই আন্দোলনও তাদের পতনের কারণ হবে। আমরা ঠিক সেভাবেই নেব।’

কর্মসূচির গুরুত্ব অনুধাবনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ বুঝতে হবে, সময় বুঝতে হবে, কর্মসূচির গুরুত্ব বুঝতে হবে। সংগঠনের কার্যকর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে যদি উদাসীন থাকেন, তাহলে এমনি এমনি আল্লাহ দিয়ে দেবেন–এমনটা হবে না। এখন যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটাকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে আরও বৃহৎ কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।’

গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক ফোরাম যে কর্মসূচি নেবে, সেই কর্মসূচির বাস্তবায়নে গ্রাহকদের একদম ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

সংসদ ও রাজপথ–দুই জায়গাতেই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদেও ফাইট করব, আমরা বাইরেও ফাইট করব। এ ফাইট সমানতালে চলবে। সরকারের পা কতটা লম্বা হয়েছে, সেটাও আমরা দেখে ছাড়ব, ইন্‌শাআল্লাহ।’

ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি সংগঠনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যদি ইসলামী ব্যাংক তাদের মতো করে দখল করতে পারে, তাহলে এখানকার হাসপাতাল–ইবনে সিনা থেকে শুরু করে মানারাত এবং সংগঠনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দিকেও নজর দেবে। এগুলো দখল করতে তাদের বেশি সময় লাগবে না। কাজেই সূচনায় রাস্তা বন্ধ করতে হবে, প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে হবে।’ 

সভার বক্তব্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘এগুলো আবার এডিট করার জন্য কাউকে দিও না। কেউ আমার ফেসবুকে দিও না। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নেবেন। আজকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের তাওফিক দান করেন।’