গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনা আমাদের আসন অফার করেছিল, টাকা অফার করেছিল। কিন্তু আমরা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করিনি। আমরা ২-৪টা আসনের জন্য কারও সঙ্গে জোট করব না। যদি দেশের প্রয়োজনে জোট করি, তা হবে ন্যায্যতার বিচারে, সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে।’
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দিতে স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ এ জনসভার আয়েজন করে। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। ১১ তারিখ তফসিল ঘোষণা করার কথা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় যদি নির্বাচন পেছনোর কোনো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, সেটি হয়তো নির্বাচন কমিশন এবং সরকার বিবেচনা করবে। অন্যথায় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক আর এপ্রিলে হোক- নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। আর দেশের প্রয়োজনে যদি কোনো জোট করি, তাহলে যেসব জায়গায় জনসমর্থন আছে, সেই সব আসনকে নিশ্চিত করেই আমাদের জোট হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা পুরোনো ফ্যাসিস্টদের মতোই হুমকি-ধমকি ও আধিপত্য বিস্তারের অপরাজনীতি দেশব্যাপী কায়েম করতে চায়। তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৬ বছরের অপশাসন মুহূর্তের মধ্যেই চুরমার হয়ে গেছে। জনগণের প্রতিবাদে নেতারা সীমান্ত দিয়ে, হেলিকপ্টার দিয়ে, নদী-নালা ও খাল-বিল দিয়ে যে যেভাবে পেরেছে পালিয়ে গেছে। কেউ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের পরিণতিও তাই হবে।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু, নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ূমসহ অন্যরা।