বরিশালের বাবুগঞ্জে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদে নির্মাণাধীন মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সেতুর ঠিকাদারি কাজে নিয়োজিত চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ চাঁদা দাবি করেছে।
তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী তাকে ঘিরে ধরেন এবং ‘চাঁদাবাজ’ কারা এ প্রশ্ন করেন। তিনি নাম উল্লেখ করতে না পারলে তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিতও করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন।
বিক্ষুব্ধরা এ সময় ‘ফুয়াদের দুই গালে জুতা মারো তালে’ এবং ‘ফুয়াদের চামড়া তুলে নেব আমরা’ এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদার বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ মীরগঞ্জ সেতুকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যাচার’ করেছেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়েছেন। তাই স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়েছে।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনে এসে তিনি সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজ বলেছেন। চীনা কোম্পানির কাছে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি গণমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।’
অন্যদিকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের দাবি, সেতু নির্মাণের উদ্যোগ তার মাধ্যমে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আজকের অনুষ্ঠানটি পণ্ড করতে চেয়েছিল। চীনা কোম্পানির কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি বলা হয়েছে, কিন্তু কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেতু হলে এলাকার উন্নয়ন হবে এ কথাই আমরা বলেছি।’
সবুজ/রিফাত/