ডিসেম্বর বিজয়ের মাস এ মাসেই নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর এসেছিল চূড়ান্ত বিজয়। মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল মুক্তিকামী বাঙালি।
অথচ সেই বিজয়ের মাসেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শহিদ মিনার অবমাননার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কোটালীপাড়া উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুরে কোটালীপাড়া মার্কেট থেকে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. মারুফ শেখের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় সমাবেশ করতে গিয়ে জুতা পায়ে শহিদ মিনারে উঠে পড়েন প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. মারুফ শেখসহ নেতা-কর্মীরা।
এমন ঘটনায় পুরো উপজেলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে; জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনার।
কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন বিজয়ের মাস চলছে। এমন মাসে শহিদ মিনারে জুতা পায়ে ওঠা অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়। যেখানে আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই, সেখানে জুতা পায়ে উঠে তারা অশ্রদ্ধা দেখালেন। তাহলে আমরা শহিদদের প্রতি কী সম্মান দেখালাম? এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. মারুফ শেখের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি তসলিম হুসাইন সিকদার বলেন, ‘শুধু বিজয়ের মাস নয়- প্রতিটি দিবসে আমাদের দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সম্মান জানাতে হবে। আমার মনে হয়, তারা বিষয়টি না বুঝেই করেছেন।’
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘ওই সময় আমি পরিষদে ছিলাম না। এমন একটি ভিডিও আমিও দেখেছি। তবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’
বাদল সাহা/রিফাত