আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপির ঘোষিত মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলের একাধিক প্রবীণ ও সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা।
এদিকে সোমবার বিকেলে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের পক্ষের নেতাকর্মীরা বিশাল মিছিল বের করে। বিকেল ৫টার দিকে জেলা শহরের রথখলা মাঠ থেকে মিছিলটি বের হয়ে গৌরাঙ্গ বাজার ও আখড়া বাজার হয়ে পুনরায় রথখলায় গিয়ে মিছিল শেষ হয়। মিছিলে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নেতারা অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার মুহূর্তে দলের কর্মী-সমর্থকের আবেগকে উপেক্ষা করে একটি ‘‘গভীর ষড়যন্ত্রের’’ অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এ আসনে অর্ধ ডজনেরও বেশি শিক্ষিত, ত্যাগী, নির্যাতিত ও যোগ্য নেতাকে পাশ কাটিয়ে অযোগ্য একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি অতীতে দুই দফায় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনীত হলেও বিজয়ী হতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে “স্বৈরাচারের সহযোগী” থাকার অভিযোগও উল্লেখ করেন বক্তারা।
তারা দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে ওই ব্যক্তি কখনো রাজনৈতিক নিপীড়ন বা মামলার মুখোমুখি হননি, যা বিএনপির ত্যাগী নেতাদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিএনপি নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। স্বাধীনতার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা এমপি থাকা সত্ত্বেও মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় এ আসন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত মাজহারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের পর আমাকে দল থেকে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলার বিএনপির সব নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছেন। হাজার হাজার কর্মী আমার পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আজকে সোমবার হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার পক্ষে মিছিল করেছে। অথচ দলের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দল মনোনয়ন তো সবাইকে দিতে পারবে না। তারা এখন মনক্ষুণ্ন। আমি আশা করছি দলের নির্দেশে তারাও আমার পক্ষে কাজ করবেন।
তসলিমা/মাহফুজ