নাটোর ৩ (সিংড়া) আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদের অনুসারীরা।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাটোর-বগুড়া হাইওয়ের এক লেনে অবস্থান নিয়ে তারা আন্দোলন করেন। তবে এক পর্যায়ে আন্দোলনস্থলে পৌঁছান দাউদার মাহমুদ। তিনি নেতা-কর্মীদের আন্দোলন থামিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করার নির্দেশ দেন।
তথ্যমতে, সিংড়া আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেতে মাঠে ছিলেন দাউদার মাহমুদ ছাড়াও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আনু, ব্যারিস্টার ইউসুফ, খোরশেদ আলম ও সাবেক তিনবারের এমপি কাজী গোলাম মোর্শেদ। প্রাথমিকভাবে ওই আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে তারেক রহমান ফোনে গ্রীণ সিগন্যাল দিলেও প্রথম পর্যায়ে ওই আসনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকালে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়।
সিংড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুন নেছা পুতুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দাউদার মাহমুদ একজন পরীক্ষিত ত্যাগী বিএনপি নেতা। বিগত ১৬ বছরে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। বিএনপি নেতা হওয়ায় তাকে অনেকবার জেল খাটতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা ও হামলা হয়েছে। তবুও তিনি বিএনপির পথ ছাড়েননি। অথচ আনোয়ারুল ইসলাম আনু সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের চাচা শ্বশুর। তিনি বিএনপি নেতা হলেও বিগত আওয়ামী শাসনামলে পলকের ছায়ায় ছিলেন। কখনও তিনি বিএনপির কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম বা বিপদে পড়া কোনো বিএনপির নেতা-কর্মীর পাশে দাঁড়াননি। এ অবস্থায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দাউদার মাহমুদকেই ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।
সিংড়া পৌর বিএনপির সদস্য সচিব তায়েজুল ইসলাম আন্দোলনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্দোলনে উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে চলমান আন্দোলনে এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন প্রিয় নেতা দাউদার মাহমুদ।
তিনি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দল আমাকে মূল্যায়ন না করে আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এতে কোনো আফসোস নেই। আপনারা আমাকে ভালোবাসেন এটাই যথেষ্ট। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করেন। দোয়া শেষে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিক্ষোভ বন্ধ করতে বলেন দাউদার মাহমুদ। উপস্থিত সবাই তার কথায় সম্মান দেখিয়ে বিক্ষোভ স্থগিত করেন।
আন্দোলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সদস্য সচিব এম এ মালেক ও যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মমিন।
কামাল/নাঈম