ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
Nagad desktop

সিলেট-৪: শ্রমিকের মন জয়ের মনোযোগে সবাই

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৮ এএম
সিলেট-৪: শ্রমিকের মন জয়ের মনোযোগে সবাই
আরিফুল হক চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, রাশেল-উল-আলম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ–এ তিন উপজেলাই প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। গ্যাস, খনিজ, বালু, পাথর ও প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রের জন্য ব্যাপক পরিচিত। জাফলং, বিছনাকান্দি, লাল শাপলার বিল, রাতারগুল, সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান সিলেট-৪ নির্বাচনি এলাকায়। তামাবিল ও ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর ছাড়াও তিনটি উপজেলায় বালু-পাথরমহাল, চা-বাগান, গ্যাসক্ষেত্র হওয়ায় শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বিরাট একটি অংশ বরাবর নির্বাচনি এলাকার ভোটে প্রভাব রাখে। সম্পদ ও সম্ভাবনার মধ্যে সমস্যা জিইয়ে রাখার প্রবণতা ছিল অতীতে। সেই প্রবণতা ভাঙতে নির্বাচনি রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে মাঠে আছে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি। ভোটের মাঠে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শ্রমিক শ্রেণির মন জয়ের মনোযোগে ছুটছে রাজনৈতিক দলগুলো। ভোটে জেতার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত প্রান্তিক এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ১৯৯৬ সালে, যখন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এ আসনে নির্বাচন করেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ও ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন ইমরান আহমদ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতির জ্যোতিষীখ্যাত রাজনীতিবিদ নাজিম কামরান চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সাইফুর রহমানের সঙ্গে হেরে গেলেও পরে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন ইমরান। 

সেই উপনির্বাচন থেকে ইমরানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন বিএনপির তখনকার নতুন মুখ দিলদার হোসেন সেলিম। ২০০১ সালের নির্বাচনে সেলিম বিজয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালে সেলিম হারলে বিজয়ী হন ইমরান। ২০১৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না যাওয়ায় ইমরান বিনাভোটে ফের এমপি হন। এরপর ২০১৮ সালে দুজনের মধ্যে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও দিলদার হোসেন সেলিম পক্ষের দাবি, রাতের ভোটে বিএনপিকে হারানো হয়। 

বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ৫ মে মারা যান। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে ছিলেন তার স্ত্রী জেবুন নাহার সেলিম। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, গোয়াইনঘাট উপজেলার একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিম ও সামসুজ্জামান জামান মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে ছিলেন। 

গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রথম দফায় মনোনয়ন ঘোষণার পর সিলেট-৪ আসন খালি রেখেছিল বিএনপি। সিলেট-১ (সদর-মহানগর) আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ঢাকায় ঘুরে সিলেট এসে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, তাকে সিলেট-৪ আসনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এরপর তিনি নির্বাচনি এলাকা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে প্রচার শুরু করেন। তবে যেহেতু দল থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তাই দলের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশী আরিফুল হক চৌধুরীর এই ঘোষণা মেনে নেননি। এ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে অবস্থান নেন। আরিফকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে এই আসনে ‘স্থানীয়’ কাউকে প্রার্থী করার দাবি জানান একাধিক প্রার্থী। 

দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে এ গোলোযোগময় পরিস্থিতির অবসান হয় গত ৪ ডিসেম্বর। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন সিলেট-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম প্রকাশ করেন, তখন দৃশ্যপট বদলে যায়। কারণ বিএনপির পক্ষে এই আসনে আরিফুল হক চৌধুরী একজন শক্তিশালী প্রার্থী। আওয়ামী লীগ জমানায় সিলেট সিটি নির্বাচনে একটানা দুবার তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে ভোটের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আরিফভীতি আছে এই আসনের অন্য দলের প্রার্থীদের মনেও। তাই আরিফুল হককে মনোনয়ন না দিয়ে এই আসনে ‘স্থানীয়’ কাউকে প্রার্থী করার দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হকের নাম আসা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হকের নাম এসেছিল। তিনি এ আসনের প্রার্থী হচ্ছেন বলে প্রচারও চলছিল। তবে আরিফ তখন জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো পরিবেশ এলে সিলেট-৪ নয়, মহানগরীর আসনে (সিলেট-১) মনোনয়ন চাইবেন। ভোটের রাজনীতির শেষ অঙ্কে তিনি এখন সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েই সন্তুষ্ট।

সিলেট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ২০১৮ সাল থেকে ভোটের মাঠে। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনেরও নেতা। বালু-পাথরমহালের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়। এনসিপি মনোনীত রাশেল-উল-আলম ও খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী আহসান উসামা মাঠে আছেন। প্রার্থিতায় জাতীয় পার্টি বা অন্য কেনো রাজনৈতিক দলের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থিতার আওয়াজ এখনো ওঠেনি। 

জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, ৮-দলীয় জোটের সমীকরণে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল ৮-দলীয় জোটের প্রার্থী হলে ভোটের রাজনীতিতে নতুন দৃশ্যপটের উদয় হতে পারে। তবে ভোটের মাঠ মোটেই রাজনৈতিক নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। তারা জানান, তিনটি উপজেলার বালু ও পাথরমহাল বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক শ্রেণির বিরাট একটি অংশ বেকার। বেকারত্বের প্রভাবে তিন উপজেলার ভোট বালু-পাথরমহাল খোলার দাবি উচ্চারিত হচ্ছে। পাশাপাশি কোম্পানীগঞ্জ ছাড়া বাকি দুটি উপজেলার চা-বাগান শ্রমিকদেরও রয়েছে নানা সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিশ্চিত দেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ হবে।

জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে আয়তন ও ভোটার সংখ্যার দিক দিয়ে সিলেট-৪ আসনের পরিসর বেশ বড়। পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের মধ্যে শ্রমিক শ্রেণি প্রভাবিত ভোটার সংখ্যা অর্ধেকের বেশি। এর মধ্যে বালু-পাথরমহালকেন্দ্রিক শ্রমিকদের মধ্যে বারকি শ্রমিক ও চা-শ্রমিক ভোটের বড় ফ্যাক্টর। বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ইতোমধ্যে তার প্রচারে শ্রমিক শ্রেণি ও সম্পদ-সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ভোটের মাঠে তার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের সদ্ব্যবহার ও বেকারদের কর্মসংস্থান করা হবে। 

আরিফুল হক চৌধুরী সনাতন পদ্ধতিতে পাথর ও বালুমহাল খোলার কথা বলছেন। আরিফুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ নির্বাচনি আসন এটি। পাহাড়, হাওর, জলাবন, চা-ভূমি আছে। বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র এখানে। এত সব সম্পদ থাকার পরও বিগত ১৭-১৮ বছরে এখানে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নই হয়নি। অথচ এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ, বালু, পাথর সম্পদ ও চা-বাগান সারা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। আমি প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার করার কথা বলছি। সম্পদের সদ্ব্যবহার হলে কর্মসংস্থানের অভাব হবে না।’ 

জামায়াতের জয়নাল আবেদীন পাথরমহাল খোলার দাবিতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ বিষয়টি তুলে ধরে শ্রমিক শ্রেণির ভোট টানার চেষ্টায় আছেন জয়নাল। 

বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে কিছুটা তফাতে কথা বলছেন এনসিপির প্রার্থী রাশেল-উল-আলম। এনসিপির মনোনয়ন ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও পর্যটন নিয়ে স্থানীয় ভাবনা নয়, সুদূরপ্রসারী ভাবনার বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচনি এলাকা যুগের পর যুগ একই অবস্থায় থাকুক, এটা কেউ চায় না। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার হালনাগাদ করার পর সিলেট-৫ আসনে এখন মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫২ জন। ১৬৯ ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৯৫৪টি। অস্থায়ী কক্ষ থাকবে ৪৭টি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার ১২১ জন।

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ভারত কর্তৃক অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বুধবার ( ১৭ই জুন) বিকেল ৫টায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৌরভ রায়, মনোয়ারুল ইসলাম ও হেমন্ত দাষ। 

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে।  গত কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের সীমান্তে অবৈধভাবে "পুশইন" করে বাংলাদেশের ভিতরে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতে "অবৈধভাবে" অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ইন করে পাঠানোর কথা ভারত দাবি করে আসলেও কার্যত ভারত কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পুশ ইন করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।  

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, গত প্রায় দুই দশকের অধিককাল ধরে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট কোনো অজানা ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মনোভাব বুঝা যায়। তিনি ভারতের সাথে সম্পাদিত হাসিনা-মনমোহন চুক্তি, হাসিনা- মোদী চুক্তি সহ সকল অসম, অধীনতামূলক চুক্তি, সামরিক চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান। 

সৌরভ রায় বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন হয়ে গেল। এই নির্বাচনে ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও শাসক দল বিজেপির পশ্চিম বঙ্গ শাখা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ বিরোধী, মুসলমান বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছিলো। এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে সাম্রাজ্যবাদী ভারত রাষ্ট্র, একচেটিয়া বড় পুজির দালাল, উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার নিজ দেশের সম্প্রদায় নির্বিশেষে জনগণের ঐক্যকে বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দাই নিচ্ছে না উপরন্তু সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে। উপমহাদেশের জনগণের ঐক্যে বিভাজন তৈরি করে ভারতে ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করে চলেছে।

সৌরভ রায় বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী ভূমিকা রুখে দাঁড়াতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা আজ এক গণতান্ত্রিক কর্তব্য । 

মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সীমান্তের জনগণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভারতের মক্কেল রাষ্ট্র বানানোর দিন গত হয়ে গিয়েছে এই বাস্তবতা ভারত সরকারকে বুঝতে হবে।

হেমন্ত দাষ বলেন, ভারতের আরএসএস, বিজেপি প্রভৃতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো একদিকে ভারতে  সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে জনগণের একতা বিনষ্ট করে চলেছে অন্যদিকে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীসহ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারী দলগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে চলেছে। এরা মাজারে,বাউলগানের অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা চালাচ্ছে।এসবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হেমন্ত দাষ বলেন, মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দেশে দেশ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভয় পায়। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

এসএন/

শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছে বিএনপির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন।

সোমবার (১৫ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন অন্তত পঞ্চাশজন লোক। যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার, বোরহানমোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, লিটন মুন্সি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

মিছিল করা যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি আমাদের দলের একজন কর্মী ও সমর্থক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি। তাই তার মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা। যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিক্ষোভ মিছিলটি দলের কোনো কর্মসূচি ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা মিছিল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর বলেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, লিটন মুন্সিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিধান মজুমদার/নাঈম

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। ছবি: খবরের কাগজ
নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
 
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পদ স্থগিত করা হয়েছে।
 
এর আগে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
 
অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ’এটি পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। কিছু পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।’
 
এদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সসমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তার পদ স্থগিত করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ’অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ’সংগঠনের কেউ অনিয়মে জড়িত হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
গাজী ‍আজম/আজহার/

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ  সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিছিলটি বের করা হয়।

ইতোমধ্যে মিছিলের ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানুকা রুমা সিনেমা হলের সামনে থেকে এসে কলেজ গেটে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহসিন মাদবরকে। মিছিল থেকে জয় বাংলার স্লোগান, শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ’আমরা মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। মিছিলটি আজকের নাকি পূর্বের সেটি নিশ্চিত হতে পারিনি। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/