দুর্বৃত্তের গুলিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে দেশের আট বিভাগে একযোগে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় শাহবাগে কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে। বলা হলো, খুনিকে দেশে এনে বিচার করা হবে। খুনি তো একটা গুটি কিনা। রাঘব-বোয়াল কারা তাদের পরিচয় আমাদের জানাতে হবে। আগামীকাল (আজ রবিবার) বেলা ১১টা থেকে ৮ বিভাগে এক যোগে অবরোধ ঘোষণা করছি। ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমাদের অবরোধ চলবে। ওসমান হাদির সব খুনিকে জনতার সামনে না আনা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। আমরা আন্দোলন ছোট করব না, আমরা আন্দোলন আরও বড় করব। আজকে আপনারা বাসায় চলে যাবেন, রবিবার বেলা ১১টায় ফের শাহবাগে জমায়েত হবেন এবং শহিদ ওসমান হাদির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’
তার এই বক্তব্যের পর রাত পৌনে ১১টার দিকে অবরোধকারীরা শাহবাগ ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হন।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি হাদি হত্যার চার্জশিট দেওয়া হবে। আমরা ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের প্রচেষ্টা চলছে এবং যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয় এবং আগামীকাল (আজ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও এর পেছনে জড়িত সবার নাম-পরিচয়-ঠিকানা উন্মোচন করা হবে।
এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালেই হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আমি হাদির একজন গুণগ্রাহী, তাকে আমি আমার ভাই মনে করি। এখনো আমি আমার ভাই মনে করি। তার মতো মানুষের আমাদের অনেক দিন প্রয়োজন ছিল। যেই মানুষের মৃত্যুতে ১২ থেকে ১৫ লাখ লোক জানাজা পড়ে, সেই মানুষের মৃত্যুর বিচার একটি জাতীয় কর্তব্য। তিনিও এই হত্যাকণ্ডের চার্জশিট ২৬ সালের ৭ জানুয়ারির মধ্যে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ। তারা কনকনে শীতের মধ্যে শাহবাগে রাতযাপন করেন। গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল শাহবাগ এলাকা। শাহবাগের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়। গতকাল রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও মহাসড়ক অবরোধ, কোথাও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ওসামন হাদি।