ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান

দেশ ছাড়েননি, শেষ শয্যাও দেশের মাটিতেই

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
দেশ ছাড়েননি, শেষ শয্যাও দেশের মাটিতেই
খালেদা জিয়া

আশির দশকের শুরুর দিকের কথা। স্বামী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে খানিকটা দিশেহারা গৃহবধূ খালেদা জিয়া। দুই সন্তান নিয়ে সংসার সামলাচ্ছিলেন। স্বামীর প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তখন কান্ডারিশূন্যতায় দোদুল্যমান। জ্যেষ্ঠ নেতারা নানাভাবে বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে দলের দায়িত্ব নিতে রাজি করালেন। তিনি হাল ধরলেন বিএনপির। কাঁটাযুক্ত রাজনীতির মাঠে তাকে পথ চলতে বারবার বেকায়দায় পড়তে হয়। কিন্তু দমে যাননি তিনি। ভয় পেয়ে থমকে দাঁড়াননি। গৃহবধূর আবরণ ঝেড়ে দ্রুতই তিনি হয়ে ওঠেন মাঠের লড়াকু রাজনীতিক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন শেষ দিন পর্যন্ত। এ জন্য বারবার আটক-গ্রেপ্তার বা জেলে যেতে হয়েছে তাকে। রাজনৈতিকভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় অসুস্থতায় ভুগেছেন। বারবার এভাবে চরম প্রতিকূলতার মাঝে পড়লেও শেষনিশ্বাস পর্যন্ত প্রিয় মাতৃভূমিকে আগলে বেঁচে ছিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত হন খালেদা জিয়া। তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৩ বছর। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে, তিনবার প্রধানমন্ত্রী, আর দুবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ওয়ান-ইলেভেনের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আরেকবার গ্রেপ্তার করা হয়। এক বছরের বেশি সময় কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের আদেশে মুক্তি পান। তিনি আইনি লড়াই করে সব মামলায় জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে থাকাকালে তাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন। 

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময় আসে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে। ওই সরকারের আমলে দুটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই বাড়িটিতে ২৮ বছর বসবাস করেছিলেন বেগম জিয়া। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার সেনানিবাসের বাড়িটি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। ছোট ছেলে কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মারা যান। তখন থেকেই বেশ ভেঙে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করা হয়। এ নিয়ে মোট ছয়বার গ্রেপ্তার হন বা কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে যাওয়ার আগে গাড়ি থেকে হাত নেড়ে আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থাকা নেতা-কর্মীদের সাহস জুগিয়েছিলেন। শুরু হয় তার দীর্ঘ কারাবাস। ছোট একটি কক্ষে তার সঙ্গে থাকতেন শুধু গৃহকর্মী ফাতেমা। কারাগারে শারীরিক জটিলতা ধীর ধীরে বাড়তে থাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও তাতে আওয়ামী লীগ সরকার সাড়া দেয়নি। ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর তাকে প্রথম কারাগার থেকে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে বারবার আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও আইনি নানা ব্যাখ্যা-অজুহাত দিয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নির্বাসিত হয়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় মায়ের পাশে থাকতে পারছিলেন না। এরপর করোনা মহামারি দেখা দিলে খালেদা জিয়া ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগারের বাইরে নিজ বাসায় থাকার অনুমতি পান। কিন্তু এ সময় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় তার ওপর। যার মধ্যে রাজনীতিতে অংশ নিতে না পারা, বিদেশ যেতে না পারা ইত্যাদি। শেষ দিনগুলোতে শারীরিক নানা জটিলতায় হাসপাতাল থেকে বাসা আবার বাসা থেকে হাসপাতালেই কেটেছে তার সময়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক জটিলতা ক্রমেই বেড়ে যায়। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল করোনা পজিটিভ হন। এরপর তিনি করোনার তিন ডোজ টিকা নেন। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর তার প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৩ জুন তার হার্টে পেসমেকারও বসানো হয়। অনেকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট নির্বাহী আদেশে সব মামলা থেকে খালাস পান খালেদা জিয়া। এরপর ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বেগম জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান ও চিকিৎসা শেষে গত বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। দৃঢ় মনোবল, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে দেশের মানুষকে ছেড়ে তিনি কখনোই বিদেশ পাড়ি জমাতে চাননি। তাই চরম প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের মাটিতেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

স্বাধীনতাযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চৌকস সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে সাধারণ বাঙালি গৃহবধূর মতো জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যয় করছিলেন। এমনকি তার স্বামী জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলে তখনো খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতি বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সেভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সামরিক অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণ করেন জিয়াউর রহমান। এরপরই বিএনপি এক সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়ে। একপর্যায়ে দলের নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। 

বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পরই নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে তিনি সাতদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’র এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। দল ঐক্যবদ্ধ রেখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে তোলেন আন্দোলন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনকালে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। জেল-জুলুমের পরও আন্দোলন থেকে সরে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন।

গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে রবিবার চারজন এবং সোমবার ৩০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গাজীপুরের বাসন থানায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে এবং সদর থানায় আটজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের দলীয় পদবি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পলাশ/রিফাত/

চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন
চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন। ছবি: সংগৃৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ারকে শোডাউনে নেতৃত্ব দিতে এবং বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে আবরার শাহরিয়ারকে বলতে শোনা যায় ‘৫ আগস্টের সময় ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েছিলাম, আমরা ফিরে আসব। আমরা কথা রেখেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের রাজাকারদের মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা আতুড়ঘর হতে দেব না।’

তবে ভিডিওটি কবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে এটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন, ঝুপড়িসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ ওঠে। এসব পোস্টারে সংগঠনটির বিভিন্ন স্লোগান ও বার্তা দেখা যায়।

পোস্টার সাঁটানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মোটরসাইকেল শোডাউনের ভিডিও সামনে আসায় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনটির তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল আরাফ/রিফাত/

সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নৈরাজ্য, হানাহানি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

সোমবার (২২ শে জুন) বিকেলে উপজেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, নৈরাজ্য বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান সরকার, সাবেক সদস্যসচিব বনি আমিন, শফিকুল ইসলাম শফি, মনোয়ার হোসেন শামীম, হেলাল উদ্দিন প্রামানিক, মোহাম্মদ আলী ভূইয়া, শামীম সরকার, আলম প্রামানিক, রাজিব সরকার এবং  খায়রুল ইসলাম আইয়ুবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ সময় নেতারা বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সবসময় সচেতন রয়েছেন। যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।’

বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

আলামিন/রিফাত/

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের
ছবি: খবরের কাগজ

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই ঘোষণা দেন শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পেছনে অবস্থিত দলীয় টেন্ট থেকে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পরিবহন চত্বরে মিলিত হয়।

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ছাত্রলীগ বাড়িস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’; ‘খুনি হাসিনার আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ধর ধর ধর লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’; ‘আপা আপা করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’; ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘পাক ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেন।

​সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী সরকারের কাছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস ও রাজশাহী জেলাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। সব নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এসব সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে কেউ যদি ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

​সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে এ দেশের জনগণ গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে ছাত্র-জনতা হত্যা করেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা কাজ করেনি। তারা এখন স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না। যেখানে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের হাত-পা সব ভেঙে চুরমার করে দেবে।’

এ সময় তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী ‘দেখামাত্রই পেটানো’র ঘোষণা দেন।

​বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীসহ ছাত্রদলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শাকিবুল হাসান/থিওটোনিয়াস

মানবতাবিরোধী অপরাধ হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় আগামী ৩০ জুন।

সোমবার (২২ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এই দিন ধার্য করেন।ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ।

হাসানুল হক ইনুর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ও কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়। 

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি।

আমান/