জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনে দলটির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন গুলশানের দিকে লাইন দিচ্ছে, আগে তারা লাইন দিতো ধানমন্ডিতে দিকে। এছাড়া মিডিয়া এখন বিএনপি থেকে বড় বিএনপি হয়ে গেছে, বড় বিএনপি হয়েছে আমলারাও।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লা দেবিদ্বার পৌরসভার ভোষণা এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এ কথাগুলো বলায় হয়তো আমার ভোট কমবে, হয়তো আমাকে মারবে, হয়তো বা আমার উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্যাতন-নিপীড়ন চালাবে; তবে আমি এসবে কেয়ার করি না। এখন দেখবেন, যে মিডিয়া তারেক জিয়াকে স্বৈরাচার, দেশদ্রোহী বলে বলে সিরিজ রিপোর্ট করেছে, আগুন সন্ত্রাস প্রচার করছে, এসব মিডিয়ার মালিকরা এখন তারেক জিয়ার পছন্দের মানুষ।
এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল আছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, ভারতের আগ্রাসন বিরোধীতায় যারা শহিদ হয়েছেন, সর্বশেষ শহিদ উসমান হাদির কাছে আমাদের কমিটমেন্ট রয়েছে। আমরা এই দেশটাকে আর ভারতের গোলাম হতে দিব না। বিএনপি জামায়াতসহ যারা রক্ত দিয়েছে তাদের দায় আমাদের আছে। দল যেহেতু রক্তের দায় নিতে ভুলে যাচ্ছে, আমরা এই দায় এড়াতে পারিনা। আমরা হয়তো এনসিপির রাজনীতি করি, কিন্তু যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধিতায় এক ফোটা রক্ত রাজপথে দিয়েছে তারা আমার ভাই। সে যে দলই করুক। এই দায় আমার আছে আমি এই দায় সব সময় নিয়ে চলব।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, এবার আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন, কেন্দ্র দখল করতে আসলে তাদেরকে প্রতিহত করবেন। এবার আমরা টাকার কাছে বিক্রি হবো না। যে টাকা নিয়ে আসবে তাদেরকে আমরা প্রত্যাখ্যান করব। নেতা একদিন ভোটারদের পিছনে ঘুরে ১ হাজার টাকা নিয়ে, আর ভোটাররা পাঁচ বছর টাকা নিয়ে ঘুরে নেতার পিছনে পিছনে। আপনারা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন, ভোট তাদের বিরুদ্ধে দিবেন যারা দুর্নীতি করে, টেন্ডারবাজি করে, মামলাবাজি করে। ইনসাফের জন্য, দুর্নীতি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য এবার আমরা ভোট দিব।” যারা কেন্দ্র দখল করতে আসবে তাদের শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।
এর আগে সকালে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এসময় জামায়াতে ইসলামের পৌর শাখার আমির ফেরদৌস আহমেদ, সেক্রেটারি ক্বারী মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, এনসিপির উপজেলার প্রধান সমন্বয়ের পৌরসভার সহকারি সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন, পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জহির/মাহফুজ