আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সরকারকে সক্রিয় ও কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এটি সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্মময় জীবনের ছবি প্রদর্শনী উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি।
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ঠেকাতে কিছু অপশক্তি বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তবে এদেশের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামে পরিশুদ্ধ হয়েছে, এসব অপকর্ম দিয়ে তাদের থামানো যাবে না।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় জীবন এতটাই বিস্তৃত ও বর্ণাঢ্য যে একটি অনুষ্ঠান বা একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা পুরোপুরি ধারণ করা সম্ভব নয়। তার আন্দোলন-সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিজীবনের নানা দিক আলাদা আলাদা আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে। এদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে জানতে চায়, বুঝতে চায় এবং তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা সরাসরি তার আন্দোলন-সংগ্রাম দেখেনি, এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হবে।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, গণতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি সারা জীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। তার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কতটা গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সব রাজনৈতিক নেতা উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারেন না। কিন্তু খালেদা জিয়া তার আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমানকে রেখে গেছেন। তিনি এখন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মানুষ তার নেতৃত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায়।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইশতেহার ও নির্বাচন পরিচালনা একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আলাদা টিম কাজ করছে। খুব শিগ্গিরই তা প্রকাশ পাবে।
দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।
শফিকুল ইসলাম/এসএন