ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক

আওয়ামী ভোটার নিয়ে টানাটানি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আওয়ামী ভোটার নিয়ে টানাটানি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ও জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে দলটি ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের বিশাল ভোটব্যাংক এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন ধারণা–এই নীরব আওয়ামী ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন। তাই এই ভোটারদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ভোট দেবেন কি না এবং দিলে কোন দলকে দেবেন, তা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এই অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া বড় দলগুলো সেই ভোটারদের টার্গেট করে প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটের দিকে এখন নজর রাখছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ সব রাজনৈতিক দল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভোটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সমর্থন পেয়ে যেতে পারে বলে ভোটের মাঠে আওয়াজ আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু আওয়ামী লীগের মতো বড় দল এবারের নির্বাচনে নেই, তাই অন্তত তাদের ভোটারদের সরব উপস্থিতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কাজে লাগবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকলেও তাদের ভোটারদের সিদ্ধান্তই বলে দেবে ক্ষমতায় যাবে কারা। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও মনোনীত প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। এসব বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে নিরাপত্তার আশ্বাস, মামলা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করার প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনের পর স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা। মাঠপর্যায়ে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিএনপির নেতারা সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

গত বছরের ১৮ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরে বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি জনগণের অধিকার হরণ করে নয়; বরং বিনয়ী হয়ে ভোট চাইবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একই কথা বলেছেন যে মানুষকে শাসিয়ে বা তাদের অধিকার হরণ করে ভোট পাওয়া যাবে না; বরং বিনয়ী হয়ে ভোট চাইতে হবে।’ সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ আসনেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দেন। 

এ ছাড়া বিএনপির তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য নেতা বলা হয় দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী গত ৯ জানুয়ারি এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হলে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করা হবে। হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতীক নেই। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু কেউ যদি আওয়ামী লীগ করেন এই অজুহাতে তাকে হয়রানি করা হয় বা ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ করার অভিযোগ তুলে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা নেই, তাদের যেন কোনোভাবেই হয়রানি করা না হয়। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই থানা ঘেরাও করব।’ 

বিএনপির কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে অনেক প্রার্থী ও নেতা এমন কথা বলেছেন। 

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কখনো ‘ভাই’, কখনো ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে ভোট চাওয়ার ঘটনা ঘটছে। দল দুটির নেতারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সহানুভূতির ভাষা ব্যবহার করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। জেলা পর্যায়ের গ্রেপ্তার বা মামলায় জড়ানো আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড়িয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতঘনিষ্ঠদের তৎপরতা দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই জামায়াত কৌশলে এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংশোধন ও ক্ষমার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে কোনো ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে আমরা তাদেরও সহযোগিতা করব।’ 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার। তারা জামায়াতের নীতি ও আদর্শ দেখে ভোট দেবে। আমরা আশা করি, এবার সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ১০-দলীয় জোট বিজয়ী হবে।’

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত রায়পুর উপজেলার এক পথসভায় ক্লিন ইমেজের আওয়ামী ভোটারদের প্রতি জামায়াতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসারে, ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সরাসরি ভোটের লড়াই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতির দীর্ঘদিনের চিত্র। তুলনামূলক বিবেচনায় ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তবে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও একধরনের সন্তুষ্টি রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। এসব নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট অর্জন করেছে। 

ইসি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পায় ৩০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৯ দশমিক শূন্য শতাংশ ভোট পায় দলটি। 

অন্যদিকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পায় ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, জামায়াত ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, জামায়াত পায় ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জামায়াত পায় ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পায় ৩৩ দশমিক ২০ শতাংশ, ওই নির্বাচনে জামায়াত পায় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালে পায় ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০০১-এ পায় ৭ দশমিক ২৫ ও ২০০৮-এ ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোট।

এদিকে আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানাটানি করার দুটি দিক দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, প্রথমত আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট না দিলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। দেশে তো বটেই, বিদেশি পর্যবেক্ষদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। দ্বিতীয়ত, তারা প্রতিপক্ষকে ভোট দিলে নিজেরাই ‘একধরনের পরাজিত’ হবে। তাই ভোট নিজের পক্ষে টানার জন্য সব দলই সব রকমের চেষ্টা চালাবে। 

অধ্যাপক মামুন আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যে এখনো দলীয় আদর্শের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও কর্মী অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছেন। তাদের অনেকেই আজ অভিযুক্ত। তবে কোটি কোটি ভোটারের সবাই না। তাই আওয়ামী লীগের ভোটারদের দিকে সব দলের নজর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির প্রভাশালীরা হয় জেলে, না হয় বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির বহু নেতা-কর্মী হামলা, মামলা ও প্রতিশোধমূলক পরিস্থিতির মুখে নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অনেকেই এখন আত্মগোপনে বা এলাকা পরিবর্তন করে বসবাস করছেন। ফলে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরাই ভোটের মাঠে প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, আওয়ামী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে এবং নিজেদের পক্ষে টানতে নানা কৌশল প্রয়োগ করছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নিজেদের পক্ষে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি না এলেও গোপনে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন। 

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াত। 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত ভোটারদের কাছে টানার জন্য গোপনে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, সেখানকার দুই আসনে আওয়ামী ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত সক্রিয়। বিএনপি গোপনে মামলা প্রত্যাহার, পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নলছিটিতে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি হিন্দু ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে উৎসাহিত করছে। ঝালকাঠি সদরে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদানের খবর পাওয়া গেছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুর-১ আসনে সংখ্যালঘু ভোট বেশি। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা চলাচ্ছেন প্রার্থিরা। দিনাজপুর-২ আসনে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকলেও অনেক নেতা ও ভোটার নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ ছাড়া জামায়াতের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট কিছু অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভোট তিন ভাগের দুই ভাগ বিএনপির দিকে এবং এক ভাগ জামায়েতের দিকে যেতে পারে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার আওয়ামী লীগের ভোট নিজের ঝুলিতে নেওয়ার জন্য একসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ১০০ জনকে দলে যোগদান করান। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে তদবির করেন।    

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, জেলার দুটি আসনে আওয়ামী লীগের ভোটার টানতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কৌশল সক্রিয়। 

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা-১ ও ২ আসনে আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, সেখানকার চারটি আসনে জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপি একযোগে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিগত দুর্গাপূজা উৎসবের সময় জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন, আর্থিক অনুদান দিয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পরকীয়া ও মুতা বিয়ে ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “কোন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার দিক সংসদে আলোচনার বিষয় নয়।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে খোন্দকার আবু আশফাক বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলেন। কিন্তু গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাটি আসলে কী ছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, “মুতা বিয়ে কী জিনিস আমি জানতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল এবং বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।

তার বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বলেন, “অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সংসদে না আনাই ভালো। যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।” মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “আমাকে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা না করাই ভালো।”

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, “উনি কোনো মুতা বিয়ে করেননি। তাকে হ্যারাস করা হয়েছিল।” বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও বক্তব্যটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার বলেন, “মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না।”

এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানও প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মুতা বিয়ে একসময় ছিল, এখন তা নিষিদ্ধ ও হারাম।” শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলিস/আমান

প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এর নামে একটি রাষ্ট্রীয় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তিনি প্রায় দেড় বছর আগে মৃত্যুবরণ করলেও তার নাম ব্যবহার করে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য একটি রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরের জন্য এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। ১৭ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ডেস্কে চিঠিটি পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান ছেলে সাঈদ আল নোমান। তিনি লেখেন, সংসদ এখনো তার প্রয়াত পিতার নামকে সম্মান ও স্মৃতিতে ধারণ করছে—এমন অনুভূতি তার মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি লিখেন, আজ ১৭ই জুন ২০২৬ আমার জীবনের বিশাল এক বিমূর্ত প্রাপ্তির দিন। অধিবেশন চলাকালীন এ মুহূর্তটি আমার আবেগের জগতকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। আমার ডেস্ক-এ একটি দাওয়াতপত্র পৌঁছলো, যেখানে “আবদুল্লাহ আল নোমান” নামটি লেখা।

হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল। কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ একেবারেই অন্যরকম। আমার মনে হলো, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে—“আবদুল্লাহ আল নোমান” সংসদে উপস্থিত আছেন; তিনি এখনও বেঁচে আছেন মানুষের অনুভূতিতে, তাঁদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। তাই প্রশ্ন জাগে মনে — “মৃত নোমান কি জীবিত নোমানের চেয়েও শক্তিশালী?” উত্তর নিঃসন্দেহে ‘হ্যাঁ’!

এসএন/

পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্মমতার মধ্য দিয়ে পুশ ইনের মুখোমুখি হয়েছে ছাত্র নামধারী রাজাকারদের সমর্থকগোষ্ঠীর উল্টা-পাল্টা কথা আর আচরণের কারণে।

একথাও সত্য প্রমাণিত হয়েছে- বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে যে জুলাইয়ের জন্ম দিয়েছে ছাত্র নামধারী যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকগোষ্ঠী, সেই জুলাইয়ের কারণে আজ যুদ্ধাপরাধীরা সংসদ সদস্য হতে পেরেছে, জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে ছাত্র নামধারী বিশ্ববাটপার গোষ্ঠীর সমন্বয়করা। যারা ৫ আগস্টের আগে যারা স্লোগান দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যেও ঠাঁই নাই; তারাই পরে স্লোগান দিলো ‘দিল্লি না ঢাকা; এখন আর আবার সেই দিল্লিতেই চিকিৎসার জন্য বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীকে নিয়ে যায়।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী মুন্নি আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হরি দাস সরকারসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, নতুনধারার মিডিয়া সেল সদস্য সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, জাতীয় শ্রমিকধারার আহ্বায়ক বাবুল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আহমেদ ফারুক, গীতিকার রুবেল, রাব্বি হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংহতি প্রকাশ করেন সংবাদযোদ্ধা গাজী তুষার আহমেদ ও মানবাধিকারকর্মী নূরে আলম আকন্দ। সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নতুনধারার নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখা হয়- নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি গত ১৩ বছর ধরে অন্যায়-অপরাধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, খুন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে রাজপথে কথা বলার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, মাদকদ্রব্যসহ সব চোরা চালান বন্ধের দাবিতে সোচ্চার ছিলো, এখানো আছে, আগামীতেও থাকার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ আছে। সেই পথচলায় আজকের এই স্মারকলিপি প্রদান করছি। যাতে করে সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার পরিহার করা হয়, কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদকদ্রব্যসহ কোনো প্রকার চোরাচালান যেন না করতে পারে সে জন্য নিরবিচ্ছিন্ন তদারকি দুই দেশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধিরও দাবি জানাচ্ছি ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক মেলবন্ধন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে। পরিশেষে আশা করবো যে, আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা, প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের জীবনের কথা ভেবে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিত থাকবেন ও রাখবেন।

 চলমান পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের অনেকেই চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন নারী, শিশু ও জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন এমন প্রবীণ মানুষও। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাই করা হলে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রহণ করা আর বাংলাদেশি না হলে সসম্মানে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করত চলমান সমস্যা সমাধানেরও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এর দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনে হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বরাবর পুশ ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে কমিশন থেকে জানানো হয়- আপাতত পুশ ইন সংক্রান্ত কোনো স্মারকলিপি গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে নতুনধারার চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেন, ইমেইলে স্মারকলিপি পাঠানো হবে, তাদের উত্তরের পর আমরা গণমাধ্যমের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।

এসএন/

কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলায় একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি দক্ষিণবাজার ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন৷ এজন্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কুটি দক্ষিণবাজারে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ ডাকে তার কর্মী-সমর্থকরা। কুটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এ আয়োজনের নেতৃত্বে আছেন কুটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জল মিয়া।

অন্যদিকে, একই সময় ও স্থানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে কুটি ইউনিয়ন বিএনপির একাংশ ৷ কুটি ইউনিয়ন বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম শাহীনকে সংবর্ধনা দিতে এ কর্মসূচির ডাক দেয় ইউনিয়ন বিএনপি। দুই পক্ষের এ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় সংঘাত এড়াতে দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, ১৪৪ ধারার জারিকৃত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম জানান, দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন পার্থ
সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যের জন্য মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যের উত্থাপিত ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা সংক্রান্ত দাবিকে ঘিরে সংসদের আলোচনার শিষ্টাচার ও মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনের আলোচনা শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পার্থ বলেন, “জামায়াতের এমপির এই ডিমান্ড—ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস—এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়।” তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে জনগণের সমস্যা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন, ব্যক্তিগত সুবিধা নয়।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু সংসদের ভেতরে নয়, দেশের বাইরে গিয়েও সংসদকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রভাব আন্তর্জাতিক ও সামাজিকভাবে পড়ে। “একজন এমপি যখন ওয়াশিং মেশিন বা মাইক্রোওভেনের দাবি নিয়ে কথা বলেন, তখন তা সংসদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে,” বলেন তিনি।

গত সংসদে গণতন্ত্র ও সংসদীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, নতুন সংসদে সেই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “আমরা গাড়ি বা প্লট নেব না—এ ধরনের ঘোষণার পরও যদি সংসদে এমন ব্যক্তিগত চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়, তা দুঃখজনক।”

এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বিব্রত করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি উনার এসব প্রয়োজন থাকে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত।”

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দাবি বিবেচনার অনুরোধ জানান এবং সংসদে আলোচনার মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে বুধবার (১৭ জুন) বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এবং দরজা-জানালায় পর্দা দেওয়ার দাবি জানান।

সংসদ/এলিস/আমান