বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে যে সংস্কারের কথা বারবার বলা হচ্ছে, সব পত্রিকা-রেডিও-টেলিভিশনেও প্রচার করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে সব উপদেষ্টা নেমে গেছেন প্রচারে। ভালো কথা। কিন্তু সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদের প্রশ্ন করে অনেকে আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। এই যে জিনিসগুলো সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে। আমাদের অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের ও মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যখন জাতীয়তাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন একটি বিশেষ দল ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব।’
পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি তো এখন ওদের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করেনি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে।’
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সিধা রাস্তায় রাজনীতি করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! চিন্তা করেন, এরা এসব মোনাফেকি করে, মানুষকে ভুল বোঝায়। বিভ্রান্ত করে। আমি কথাগুলো বলতে আজকে বাধ্য হচ্ছি। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে যারা মানুষ মেরেছে, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছে, সেই হিসাব আমরা ভুলিনি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যখন দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে তা গ্রহণ করার জন্য; তখন তারা (জামায়াত) আবার সেটাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে ধর্মের নাম দিয়ে। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার-আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন।’
আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচনে দুটি দল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসন দখলের চেষ্টা করছে। তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক করেছে, যাতে বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে পারে। তাদের একটি বড় দল, আরেকটি তাদের বাচ্চা। তাদের নির্বাচনি প্রচার নেই বললেই চলে। অথচ তারা বলে তারা জিতবে।’
জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দেশের সব বিভাজন দূর করে গোটা জাতিকে একই সুতায় বেঁধেছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি একদলীয় বাকশাল হটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে মুক্তভাবে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে, পড়তে হবে। তার আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশ পরিচালনা করতে হবে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।