বিয়ের পর প্রথম শ্বশুরবাড়িতে পা রাখা। এসেই তিনি নেমে পড়েছেন স্বামীর জন্য নির্বাচনি প্রচারে। গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোট চাইছেন। চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল। আর নববধূকে দেখতে পেয়ে খুশি ভোটাররাও।
নববধূর নাম শ্যামলী সুলতানা জেদনী। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী তিনি। গত ৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শ্যামলী এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিয়ের পর গত সোমবার প্রথমবার হাতিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন শ্যামলী। শ্বশুরবাড়িতে বেড়ানোর পাশাপাশি স্বামীর জন্য ভোটারদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন তিনি। গত বুধবার বিকেলে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাস গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে যান এই নববধূ। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নারীদের সঙ্গে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার স্বামী আবদুল হান্নান মাসউদকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
নববধূকে কাছে পেয়ে গ্রামের নারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শ্যামলীর সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আশিক এলাহি, তমরদ্দি ইউনিয়নের সদস্যসচিব ইনজামামউল হক নিশান, পৌরসভা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী এবং জামায়াতে ইসলামীর পৌরসভা শাখার একজন নারী নেত্রী।
জাতীয় ছাত্রশক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আশিক এলাহি বলেন, ‘হাতিয়ার নারীরা রক্ষণশীল। গ্রামের নারীরা তাদের সমস্যা নিয়ে নারীদের সঙ্গেই কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ জন্য আমাদের নেত্রী নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে হাতিয়ায় চলে এসেছেন। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলছেন। ভোটগ্রহণ পর্যন্ত তিনি মাঠে থাকবেন।’
এ বিষয়ে শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে কাজটি আমার জন্য সহজ। এ ছাড়া হান্নান মাসউদ ইতোমধ্যে হাতিয়ায় উন্নয়নমূলক কাজ করার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। নির্বাচন পর্যন্ত যে সময় আছে, স্ত্রী হিসেবে আমি তার সঙ্গে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব।’