ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গণমাধ্যমকে অন্ধকার থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহিদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন শাকিব, পূর্ণিমার ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ মানবতার এক ফোঁটা রক্ত জীবন বাঁচায় নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দেশব্যাপী ‘Go For Gold’ রাইডিং ক্যাম্প শুরু করল উত্তরা মোটর্স প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত যাত্রী ছাউনি, উপকার হচ্ছে না যাত্রীদের উদ্ভাবনের উৎসবের পর্দা নামল মাগুরায়, জাতীয় পর্যায়ে লড়বে বিজয়ী দল বেনজীরকে দ্রুত ফেরাতে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২০০ দোকান উচ্ছেদ চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু দেশে এখনও প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে ওঠেনি: সিইসি এমডি লালপুরে টপ সয়েল কাটায় গ্রেপ্তার ২ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উদযাপন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন লবণ মাঠে অভিযান: গ্রেনেড, গুলি ও গাঁজা উদ্ধার
Nagad desktop

ইশতেহারের আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ইশতেহারের আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে মুখর। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার প্রকাশের আগেই ভোটারদের কাছে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ‘ভিশন’ ও ‘রূপরেখা’ তুলে ধরছে। বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বেকারত্ব দূরীকরণ, রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের বিষয়গুলো। মূলত ইশতেহারের আগাম বার্তা হিসেবেই দলগুলো তাদের এই প্রাথমিক অঙ্গীকারগুলো ভোটারদের সামনে নিয়ে আসছে। ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

জানা গেছে, বিএনপি এবং জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই দলই ইশতেহার পুস্তক আকারে প্রকাশ করবে। ইশতেহারের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দল দুটির শীর্ষ নেতারাসহ সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করতে পারে দল দুটি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি ইশতেহারও প্রায় চূড়ান্ত। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ চলমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কাজ করছেন। এবারের ইশতেহার হবে দেশবাসীর সামনে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা আবদুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইশতেহার তৈরির কাজ চলমান। বিভিন্ন মহলের বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের মতামত নিয়ে একটি কমিটি ইশতেহার তৈরির কাজ করছে। শিগ্‌গিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।’

ভোটারদের কাছে বিএনপির যেসব প্রতিশ্রুতি 
নির্বাচন সামনে রেখে গত ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেট থেকে বিএনপির নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। নতুন করে খাল খনন, কৃষকদের কার্ড প্রদান, নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের মতো বিশেষ সহায়তা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এরপর তারেক রহমান মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় যোগ দিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় জনসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। 

এসব জনসভা থেকে ভোটারদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; নতুন করে খাল খনন; কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান; নারীদের ফ্যামিলি কার্ড; তরুণদের কর্মসংস্থান; বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ; মাদক নিয়ন্ত্রণ; কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন করে আধুনিকায়ন করা; যুবকদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা; ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা; পরিবেশ সুরক্ষায় ৫০ কোটি গাছের চারা রোপণ; বায়ুদূষণ কমাতে ধাপে ধাপে পুরোনো ও জরাজীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার; ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা; ঢাকা শহরের ভেতরের চক্রাকার মনোরেল রেল চালু; উপজাতিদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; গ্রামীণ এলাকায় এক লাখ প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ; যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচসি) আদলে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা’; প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা; কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা; বিদেশে চাকরি ও শিক্ষার জন্য সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা; কুমিল্লায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা; বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

গতকাল ময়মনসিংহ জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্লোগান হবে একটাই– করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবার মনে রাখতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব, আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব।

জামায়াত যেসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নির্বাচনি জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন জামায়াত। এরপর পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গায় ও ঝিনাইদহ জনসভায় নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। সবশেষ গতকাল যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটে জনসভায় যোগ দেন শফিকুর রহমান।

এসব জনসভায় থেকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ; ধনী-গরিব, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, নারী-পুরুষ, শিশু, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার; জনগণের চাওয়া অনুযায়ী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ; দিনাজপুর ও বগুড়াকে পৃথক সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা; বগুড়ায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা; দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ; উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো; কৃষিকে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ ও জায়গায় জায়গায় সংরক্ষণাগার তৈরি; বিগত সাড়ে ১৫ বছরে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা; চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়া; নারীদের সম্মান অটুট রাখা; মায়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করা; কুষ্টিয়ার নদীগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা; চালের ট্রাক থেকে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ করা; মামলাবাণিজ্য বন্ধ করা; যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা; বন্ধ কলকারখানা চালু; জনগণের চৌকিদার হয়ে তাদের সম্পদের আমানত হেফাজত করা; জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের প্রতিবছর জনগণের সামনে প্রকাশ করা; শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা; কর্মস্থল ও রাস্তায় নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; যুবকদের বেকার ভাতা নয় বরং সরকারি খরচে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রবীণদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা, চাঁদাবাজদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; দলের কোনো জনপ্রতিনিধি কালোটাকার দিকে হাত বাড়াবে না; বিদেশি কাউকে প্রভুর মতো আচরণ করতে দেব না; ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের আমির। 

জানা গেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের মতোই একই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

গতকাল খুলনার জনসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তাদের হাতে হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে দিচ্ছে মা-বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছে, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই।

চরমোনাই পীরের প্রতিশ্রুতি
জামায়াত জোট থেকে শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করছেন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে একটা শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলা; দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা; বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করা, সব ধর্ম-বর্ণভেদে ধনী-গরিব সবার সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে। 

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ১৮ অঙ্গীকার
নির্বাচনের ইশতেহারে ১৮টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন; গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন; স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ; নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা; অর্থনৈতিক পুনর্গঠন; কর্মসংস্থান; দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন; জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার গণমুখী সংস্কার; খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার; শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা; নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা; যুবশক্তির বিকাশ; পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো; পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা; বিজ্ঞান-প্রযুক্ত ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার; গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, লুটপাটের অর্থনীতি বন্ধ, প্রতিটি মানুষের ও দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংসদে ভূমিকা নেবেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরা। ঢাকা সচল করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে উন্নয়ন করতে হবে, যাতে ওইসব এলাকায় মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা পায়। দেশে দরিদ্রতা বাড়ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র গড়ে উঠছে না। বন্ধ কলকারখানা চালু করে অবস্থা পরিবর্তনে ব্যবস্থা করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা, অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নারী ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। 

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ‘বাহ শফিক চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষণ করে গুমের নাটক, চলবে না চলবে না’, ‘গুমের নাটক করে যারা, দেশবিরোধী শত্রু তারা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিল শেষে শহিদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘গুম একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। হাসিনা সরকারকে হালকাভাবে দেখানোর জন্য বিরোধী দল এ ধরনের নাটক সাজিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র কি না তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। শিবিরের ভণ্ডামির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রকাশ্য ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির পক্ষে মত দেন।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হিরণ বলেন, ‘শিবির নেতা একজন বোনকে ধর্ষণ করে ভ্রূণ হত্যা করেছে এবং নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে।’

তিনি জামায়াত-শিবিরকে ‘অপরাধ জগতের সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এতে ঢোকা সহজ কিন্তু বের হওয়া কঠিন। গুপ্তভাবে ক্যাম্পাসে তাদের কমিটি চালানোর সমালোচনা করেন তিনি।’

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একজন ছাত্রশিবির নেতা ধর্ষণ করে ‘গুমের নাটক’ সাজিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করেছিল, যেখানে জামায়াত-শিবিরের উচ্চপর্যায়ও জড়িত। এর মাধ্যমে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করেছে। ধর্ষণ করে গুমের নাটক করা প্রকৃত গুমের শিকার পরিবারগুলোর বেদনাকে অবমাননা করার শামিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর শান্তিপূর্ণ রাজনীতির সুযোগ ছিল। কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবির বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের এক নেতা নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যায় জড়িত থাকার পর গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা করেছে এবং সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ করেছে।’ 

শিবিরকে সুষ্ঠু রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যথায় প্রতিহত করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমানউল্লাহ খান/রিফাত/ 

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও

সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে এক নারীকে পেটানোর ভিডিও ভাইরালের পর মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকতের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) নামের এক নারীকে বেদম পেটান ওই যুবদল নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

বহিষ্কৃত মো. শফিকুল ইসলাম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন খবরের কাগজকে বলেন, 'সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ইকবাল হোসেন/থিও

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাজেট ঘোষণার পর বাজারের অবস্থা এবং মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। মানুষের সন্তুষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুশি। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা সরকারের সাফল্য ও জবাবদিহির অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এই বাজেটকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়েই।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী ও তরুণদের কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, এই দুই কর্মসূচিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। সরকারের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বাজেটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্টার্টআপ ফান্ড, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে। বাজেটে তরুণদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতিকে সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এই বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। 

একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, খাল পুনর্খনন, স্থানীয় বাজার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ শহর ও গ্রামের আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে, যা নির্বাচনি ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন।

বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই বিএনপি তার ইশতেহারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসই ভিত্তি পাবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের বাজেট। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এই বাজেট সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।’

দলটির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

তার মানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষাও। আগামী মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে, এই বাজেট সত্যিই ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের’ সফল যাত্রা শুরু করতে পারে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/