জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও ১৩ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। তবে এ আসনে এখন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপে পড়েছে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
এ আসন থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হারিয়েছেন জামানত। অন্তত ৯০ ভাগ ভোটারই এখানে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। তাই ভোটের হিসাব করা এখানে খুব কষ্টসাধ্য।
তবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকখ্যাত গোপালগঞ্জ-২ আসনে হানা দিতে মরিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে এসব ভোট বাগিয়ে নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ আসনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ১৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির দুই বিদ্রোহী ও সদ্য বহিষ্কৃত নেতাসহ ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকি ৭ জন রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। তারা হলেন, বিএনপির কে এম বাবর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শুয়াইব ইব্রাহিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম শিকদার, গণফোরামের শাহ মফিজ, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের দ্বীন মোহাম্মাদ।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, এম এইচ খান মঞ্জু, উৎপল বিশ্বাস, মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, রনী মোল্লা ও শিপন ভূঁইয়া। এদের মধ্যে এম এইচ খান মঞ্জু সাবেক জেলা চেয়ারম্যান ও এমপি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অপর প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের রয়েছে নিজের গোষ্ঠীর অন্তত ২৫ হাজার রিজার্ভ ভোট। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়ারও রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে হিন্দু ভোটারদের ভোট টানতে মাঠে আছেন উৎপল বিশ্বাস।
কিন্তু এ আসনের ভোটাররা অবশ্য ভোট কেন্দ্রে যাবেন কিনা, ভোট দেবেন কিনা, এসব বিষয় নিয়ে রয়েছে নানা মত। কেন্দ্রেগুলোয় কোনো সহিংসতা হবে কিনা, সেটা নিয়েও তাদের রয়েছে নানা মত-দ্বিমত।
প্রার্থীদের সবার আশা, তারা এত দিন জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ দেখেছেন। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবং নির্বাচন করতে না পারায় সেসব ভোটারের নিজেদের পক্ষে নিতে পারবেন এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।