ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬ হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’ চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমান কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?

আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না: তারেক রহমান

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহিদ আবু সাঈদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘এ মাটি আবু সাঈদের রক্তে মেশানো মাটি। সেই ত্যাগ আমরা কখনো বৃথা যেতে দেব না। কিন্তু কীভাবে আমরা সেই আবু সাইদের ত্যাগকে মূল্যায়ন করব। আবু সাঈদসহ ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এই মানুষগুলো ত্যাগের মূল্যায়ন আমরা তখনই করতে পারব, যখন এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’ 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সংস্কার নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন আসল, অন্তর্বর্তী সরকার এসে সংস্কার কমিশন করল এবং বাংলাদেশের প্রায় কম-বেশি রাজনৈতিক দলগুলোকে সেখানে আহ্বান করল। আমরাও গিয়েছি। সেখানে আমাদের সংস্কার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। মোটামুটিভাবে সংস্কার প্রস্তাব যেগুলো আমরা দিয়েছি, যা আমরা জনগণের সামনে অনেক আগে উপস্থাপন করেছিলাম, সেটাই কম-বেশি তারাও দিয়েছে। হতে পারে কোনো কোনোটির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কিছু কিছু দ্বিমত আছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে যদি দ্বিমত থাকে, আমরা লুকোছাপা করিনি। আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বলেছি, কোনটিতে আমরা সম্মতি দিয়েছে। কোনটিতে আমাদের অসম্মতি আছে।’

গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। চট্টগ্রামে ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। এ রকম হাজারও মানুষ যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। 

তিনি বলেন, ‘তাদের জীবন উৎসর্গকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সেই জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। সে জন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব যে ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, ১২ তারিখে একই সঙ্গে আপনাকে যে দ্বিতীয় ব্যালট পেপারটি দেবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’, সেখানে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকেই বলে থাকেন এই রংপুর এলাকা গরিব অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি, এই অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক ব্যক্তির এবং সঠিক নেতৃত্বের। তাহলেই এই বিভাগের আমরা আমূল পরিবর্তন করতে পারব।’ 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আমরা দেখেছি এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। ১৬ বছরের উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। এই অঞ্চলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সঠিক কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নতুন মানুষের টিকে থাকার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য কারখানা কোনো কিছুই এখানে করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘একটু আগে আমি আবু সাঈদের বাড়ি থেকে আসলাম। আমি জানতাম না সেই এলাকা পর্যন্ত কয়লা আছে। আমি জানতাম, দিনাজপুরে কয়লা আছে। আজ আমি শুনলাম যে সেখানেও কয়লা আছে। এই কয়লা যদি আমরা উত্তোলন করতে পারি, তা দিয়ে আমরা অনেক কিছু করতে পারব। আমরা সবাই জানি, এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এ এলাকার ম্যাক্সিমাম মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। সে জন্যই আমরা দেখেছি, বিগত ১৬ বছর অন্যদের সঙ্গে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা কীভাবে অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছে, কীভাবে কৃষিজাতীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ার সঙ্গে কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা ১২ তারিখ ভোট দিতে যাবেন। কখন যাবেন? ১৬ বছর যেমন নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছিল, আমরা এবার করতে দেব? দেব না। এবার হচ্ছে জনগণের পালা। জনগণ এবার সিদ্ধান্ত নেবে তারা আবার কী করবে। জনগণ সব হিন্দু-মুসলমান-খ্রিষ্টান যে যে ধর্মের হোক না কেন, প্রত্যেককে ভোরবেলায় গিয়ে ভোটের মাঠে লাইন ধরে দাঁড়াতে হবে। যাতে করে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। এ জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’

এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাত ৮টা ৩১ মিনিটে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। নির্বাচনি জনসভা সভাপতিত্ব করেন রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু। 

তারেক রহমানের কাছে শহিদ আবু সাঈদের বাবার ৩ দাবি বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার আগে করতে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওই ঘটনার প্রথম শহিদ রংপুরের আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। গতকাল সন্ধ্যায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুরে শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি গেলে তিনি এ আবেদন জানান। 

সেখানে মকবুল হোসেন ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। পরে তিনি দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি বাড়ির উঠানে যান। সেখানে মকবুল হোসেন, আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম, ভাই রমজান আলী, আবু হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসেন। তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

এ সময় তারেক রহমানকে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আল্লাহ যদি আপনাকে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে প্রথমেই আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন। আহতদের সুচিকিৎসাসহ পুনর্বাসন করবেন। পীরগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।’

এ সময় তারেক রহমান মকবুল হোসেনকে প্রতিশ্রুতি দেন যে শহিদ আবু সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং দেশের সব সূচকে উন্নয়ন করবেন।

হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফলসি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে  আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী জানায়, শুক্রবার পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার রকিবুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই।

ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে বজলুর রহমান চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজনের সাথে বিএনপি সমর্থিত মশিয়ার রহমান (সাবেক ইউপি সদস্য) সমর্থকদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, মতিয়ার রহমান (৫০), ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪), বাচ্চু মিয়া (৩২) ও রুবেল মন্ডল (৩২)।

গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও তিনজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন। আমাদের ৬/৭ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বোয়ালিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকায় উত্তর জেলা ছাত্রলীগও মিছিল করেছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পৃথকভাবে এই মিছিল দুটি বের করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে হঠাৎ করেই কলেজের ভেতরে ১০-১৫ জনের একদল যুবক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষে স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের মূল ভবনসংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। হঠাৎ সংঘটিত এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন আকস্মিক তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

২ নম্বর গেইটে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, নেতৃত্বে তপু

এদিকে নগরের ২ নম্বর গেইট এলাকায় শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের ব্যানারে আরেকটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসাইন তপু।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুপুরে হঠাৎ করেই একদল নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সড়কে বের হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কয়েক মিনিট অবস্থান করার পর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিছিল সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের একাধিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে জিইসি মোড় ও ২ নম্বর গেইটসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র আমিনুর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান চালাবে।’

রিফাত/

সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন পিরোজপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী শাকিল আহমেদ আয়ান এবং সোনারগাঁ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাকিল আহমেদ আয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 তিনি নয়াগাঁও গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

এদিকে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে সোনারগাঁও পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 তিনি পৌরসভার নোয়াইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

তাদের সোনারগাঁ থানায় করা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মহাসড়কে মিছিল করে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইমরান হোসেন/এসএন

সরকার ও দলে উপেক্ষিত অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা
ছবি: সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, গুম, নির্যাতন ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন আত্মগোপনে। নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা ছিল–দল ক্ষমতায় এলে তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। তবে দল সরকার গঠনের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত রাজপথের অনেক পরিচিত মুখ, ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতা এখন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তাই অভিমানে তাদের অনেকে এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জুলাই বিপ্লবে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এত কিছুর পরও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি মির্জা আব্বাসের, সান্ত্বনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় মির্জা আব্বাসের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ।

অন্যদিকে, দুঃসময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’র চেয়ারম্যান পদ। এই নিয়োগের পর আফরোজা আব্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারপরও আলহামদুলিল্লাহ’। এর মাধ্যমে কার্যত তার হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, শীর্ষ আইনজীবী নেতা জয়নুল আবেদীন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমান এবং সাবেক জি এস খায়রুল কবির খোকনের মতো হেভিওয়েট নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। সরকার গঠনের পরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব বা পদে তাকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

বিএনপির ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, বিগত দিনে আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি, এমন অনেক ‘হাইব্রিড’নেতা এখন বিএনপিতে জেঁকে বসেছেন এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, ত্যাগীরা হচ্ছেন উপেক্ষিত। বিএনপির এসব সিনিয়র নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন না। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় নিয়মিতই হতাশা প্রকাশ করেন। বিএনপির এসব ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ।  

ঢাকা মহানগরের সাবেক এক বিএনপি নেতা আক্ষেপ করে খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের দুঃসময়ের সহযোদ্ধারা অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তিনি আশা প্রকাশ করছেন, আগামীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে বিএনপির পরীক্ষিত সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা হতে পারে। তখন তাদেরও মূল্যায়ন হবে।

সবচেয়ে বেশি হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একটি অংশের মধ্যে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক নয়ন বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছেন। অথচ যারা একসময় আন্দোলনের ‘তথ্য ছাত্রলীগ ও পুলিশকে সরবরাহ করত’। তারাই এখন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বহালতবিয়তে রয়েছেন।

অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহনেওয়াজ সিনা। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা ‘ক্রসফায়ার’ তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তার নাম ছিল এক নম্বরে। গ্রেপ্তার হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই নেতা। এখন সরকার গঠনের পর তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতি করে এখন শুনতে হয়, আমরা নাকি গুপ্ত জামায়াত। তীব্র অভিমান থেকে তিনি এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তিনটি আসনে দলের পরাজয়ের বিষয়টি হাইকমান্ডের খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
দলের সাবেক ছাত্রনেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী হাইব্রিডদের কারণে এখন সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে নানা মহলে।

তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যন তারেক রহমান সরকার গঠন করেছেন মাত্র ৩ মাস। ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গোছাতে হচ্ছে। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করবেন। এখন সবার উচিত ধৈর্য ধরে সরকারকে সহযোগিতা করা।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, দলের ত্যাগী ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যদি এই বার্তা যায় যে, ত্যাগের মূল্যায়ন হয় না। তবে তৃণমূলে স্থায়ী হতাশা তৈরি হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেলেন ফেসবুক লাইভে এসে কানা করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন।

আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। 

তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন, যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। অথচ তখন কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছি।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণা করার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা