বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মো. মনির হোসেন নামে এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে প্রায় ৫৫ একর আয়তনের একটি মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখল, এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে ঘেরের ভেতরে নতুন বেরি (সীমানা) নির্মাণ এবং ঘেরে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ‘৮০ কুরার ঘের’ নামের ওই মৎস্য ঘেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঘের মালিক মো. বাবুল হাওলাদার বাদী হয়ে জামায়াত নেতা মনির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল ২৯ জানুয়ারি রাতে ‘৮০ কুরার ঘের’ হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘেরে থাকা মাছ লুট করে নিয়ে যায় এবং ঘেরের মধ্যখানে নতুন বেরি নির্মাণ করে দখল নেয়।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা জাল টেনে ঘের থেকে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ লুট করে নিয়ে যায়। পরে ঘেরটি স্থায়ীভাবে দখলের উদ্দেশ্যে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ঘেরের বাঁধ ও সীমানা ভেঙে ফেলা হয়।
এ সময় ঘেরের পাহারাদারদের জিম্মি করে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘের মালিক মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আমরা একাধিক মালিক মিলে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এই ঘের চাষ করে আসছি। হঠাৎ করে রাতে অন্ধকারে হামলা চালিয়ে ঘের কেটে দখল নেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
স্থানীয় গ্রামবাসী জাকির ভান্ডারি বলেন, ‘অনেকে মিলে এই ঘেরটিতে মাছ চাষ করতাম। রমজান মাসে মাছের ভালো দাম পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু রাতে অন্ধকারে সবকিছু লুট করে নিয়ে গিয়ে বেরি দিয়ে দখল করে নেয়। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অন্য ঘের মালিকরা বলেন, ‘আমরা অনেকে মিলে নগদ টাকা বিনিয়োগ করে মাছ চাষ করছিলাম। হঠাৎ করে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মনির হোসেন হাওলাদার রাতে দেশীয় অস্ত্রসহ ২০-৩০ জন লোক নিয়ে ঘের কেটে দখল করে নেন।’
ঘেরের পাহারাদার সেলিম সেপাই বলেন, ‘দেশীয় অস্ত্র ও এক্সকাভেটর (ভেকু) নিয়ে এসে এক রাতের মধ্যেই ঘেরের মধ্যখানে বেরি বেঁধে নেয়। প্রায় ৯-১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। আসন্ন রমজান মাসে বিক্রির জন্য রাখা মাছ লুট হওয়ায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. মনির হোসেন মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘ওই বিলে আমারও কিছু জমি রয়েছে। কোনো সমাধান না পেয়ে আমি আমার অংশে মাটি কেটেছি। তবে রাতে যাওয়াটা ঠিক হয়নি।’
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুর রহমান বলেন, ‘ঘের ও জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় অভিযোগকারীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
রিফাত/