স্বাধীনতার ৫৪ বছরে সরকারের লোকদের কপালের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু জনগণের কপালের পরিবর্তন হয়নি। সারাদেশের মধ্যে একটি জেলার নামের আগে বীর চট্টলা বলা হয়, এই বীরত্ব ন্যায়ের পক্ষে, দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে। আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফ ও যুবসমাজের পক্ষে ইনশা আল্লাহ বলে মন্তব্য করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সংলঘ্ন ডেবারপাড় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মায়েরা আমাদের গর্ভধারণ করেছেন, বুকের দুধ খাইয়েছেন, লালন-পালন করেছেন। এই ঋণ জীবনেও শোধ করার মতো নয়। তারা আমাদের মাথার তাজ। আমরা তাদের সর্বোচ্চ আসনে রেখে কিছুটা ঋণ শোধ করতে চাই। পুরো ঋণ শোধ করা কখনো সম্ভব নয়। মায়েদেরকে নিয়ে কেউ কেউ উল্টোপাল্টা বলছে আমরা জানি, আমি এর প্রতিবাদ জানাই। গত পরশুদিন থেকে কেউ কেউ আমার পেছনে লেগেছে। যারা লেগেছে এটা একদিন তাদের গলার ফাঁস হয়ে ঝুলবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে বলেন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের ঘরের বাইরে বের হতে দেবে না। আমাদেরও মা-বোন আছে না? তারা সব করছে না? তারা যদি উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তাহলে দেশের প্রত্যেক মা-বোনদেরও আমরা সেভাবে গড়ে তুলব। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধ টাকা নিয়ে ভোট চাইতে আসে আপনারা তাদের ছেড়ে দেবেন না, তখন তাদের ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেবেন। পাহারাদারী করবেন, তবে নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না। যারা চাঁদাবাদ, ধান্ধাবাজ, যারা মামলাবাজ, দূর্নীতিবাজ তাদের বলবো এগুলো ছেড়ে দেন। এগুলো খারাপ কাজ। এ দেশকে আর কোনো ঋণ খেলাপীর হাতে তুলে দেব না। গরীব হোক ধনী হোক যারা তাদের হক নষ্ট করেছেন, আমরা তাদেরকে সৎ পথে আসার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ ২৪ আকাঙ্খার বাংলাদেশ। অতীতের বস্তা পঁচা রাজনীতিতে যারা ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে, সম্মান ডুবিয়ে দিয়েছে ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করবো। আমার ভোট আমি দেব, আমার ভোটে হাত দিলে সেই হাত গুড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি আমার অধিকার নয় দায়িত্বও। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল আমার হাতে মর্যাদার কাজ দাও, আমরা দেশ গড়তে চাই, কারো কাছে বেকারভাতা চাই না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়, আমরা দলীয় কিংবা পরিবারের রাজত্ব কায়েম চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই এবং সেই বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’ শেষে ১১ দলীয় জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি ভোট চান ।
এর আগে জোহরের নামাজের পর থেকে উত্তর জেলা জমায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদার সভাপতিত্বে নির্বাচনি জনসভা শরু হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলার শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বক্কর, এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান (চট্টগ্রাম-১), অধ্যক্ষ নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-০২), আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪), নাছির উদ্দিন মনির (চট্টগ্রাম-৫), শাহজাহান মঞ্জু (চট্টগ্রাম-৬), ডা. এটিএম রেজাউল করিম (চট্টগ্রাম-৭), সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, চবির শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, উত্তর জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি-শওকত আলী, আসন পরিচালক (ছাত্র) হাসান ইমাম, এনসিপি নেত্রী শাফতা বুশরা মিশমা, বাংলাদেশ খলাফত মজিলস- মাওলানা জাফারউল্লাহ নিজামী, এবি পাটির জিয়া চৌধুরী, নেজামে ইসলাম পাটির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আলী, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, আকবরশাহ থানা আমীর- অধাপক আব্দুল হান্নান চৗধুরী, সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের আমীর- মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ, ফটিকছড়ি উপজেলার আমীর-নাজিম উদ্দিন ইমু, ভূজপুর উপজেলা আমীর- অধাপক জাহাঙ্গীর আলম, হাটহাজারি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর-অধাপক শোয়াইব চৗধুরী, রাউজান উপজেলা আমীর-শাহজাহান মঞ্জু, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর- মাওলানা হাসান মুরাদ মিরসরাই উপজেলা আমীর-মাওলানা নুরুল কবির জোরারগঞ্জ উপজেলা আমীর- মাওলানা নুরুল হুদা হামিদী প্রমুখ।
মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম