প্রচার-প্রচারণায় যোগ হয়নি ঢোল ঢাক কিংবা মাইকের আওয়াজ। একা অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন প্রগতি বর্মন। তিনি রংপুর-৪ (পীরগাছা -কাউনিয়া) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী।
প্রগতি বর্মণ রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের হাতিরাম গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী কাশি প্রতীক নিয়েই লড়ছেন এই আসনে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রগতি বর্মণের নিজ এলাকায় গিয়ে কথা হয়। কথার ফাঁকে তিনি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'বুর্জোয়া' রাজনীতির বাইরে গিয়ে মানুষের জন্য রাজনীতির করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী, ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের বিপরীতে এ আসনে ৯ জন প্রার্থী। এছাড়া ও এই আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) সদস্য সচিব মনোনীত আখতার হোসেন, বিএনপি এমদাদুল হক (ভরসা), জাতীয় পার্টি আবু সানের শাহ মো মাহবুবার রহমান, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায়, জয়নুল আবেদীন ও শাহ আলম বাসার স্বতন্ত্র।
গণসংযোগে সঙ্গী হয়েছেন বাবা- মা:
প্রগতি বর্মনের নির্বাচনি প্রচার এখন বৈঠকেই ভরসা। নেই কোন মিছিলের বহর কিংবা পথসভা। পায়ে হেঁটে চলছে গণসংযোগ আর খুনসুটি। সঙ্গে নিয়ে যান মা মলিনা রায় ও বাবা পীযূষ কান্তি বর্মনকে। পথে কথা হয় মলিনা রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেয়ে আমার মানুষের জন্য আজীবন কাজ করতে চায়। মানুষকে নিয়ে তার ভাবনা। তাই শিক্ষাজীবনে চাকরি করেন নি।
পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারি ইউনিয়নের মনিষা বালা বলেন, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ভোটের আহ্বান করছেন। কিন্তু প্রচার প্রচারণা কম দেখা যায়। অন্য প্রার্থীর মতো ঢোল ঢাক পেটাচ্ছেন না। তবে যারা বুঝবে তারা অবশ্যই তার প্রার্থীর কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনবে এবং পাশে থাকবে।
ওই এলাকার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, প্রার্থী প্রচার প্রসারনায় যে কথাগুলো বলছে এগুলো বাস্তবতা। কিন্তু আমরা কজন বাস্তবতা মেনে চলি।
রাজনীতিতে কেন এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। আমি চাকরি পাব কি পাবো না সেটিও নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতি। আমাদের দেশে বেকার সমস্যার সমাধান হতে হলে যুব সমাজের চাকুরী দরকার সেটিও রাজনীতির উপর নির্ভর করে। রাজনীতি যেহেতু সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের দেশে তখন সেই রাজনীতি জানা উচিত বলে মনে করি আমি।
কৃষকদের অধিকার আদায়ের ঘোষণা
পীরগাছা- কাউনিয়া আলু প্রধান এলাকা হওয়ায় কৃষকদের অধিকার নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করছেন প্রগতি বর্মন। তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত শস্য দিয়ে খরচ ওঠে না। সরকারি প্রণোদনা লুটপাট হয়। উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য পান না। ফলে প্রায়ই দেখা যায় কৃষকদের আলু রাস্তায় ফেলে ন্যায্য মূল্য পেতে আন্দোলন করতে। এই সংকট কাটাতেই কৃষকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করার অভয় দিচ্ছি। নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক ও কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংসদ হচ্ছে আইন তৈরি করার জায়গা। সেই সংসদে আমরা ব্যবসায়ীদের জায়গা করে দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধি এমন মানুষ পাঠাতে হবে যে কৃষকের হয়ে কথা বলবে। এবং কৃষকের হয়ে আইন পাস করবে।
প্রগতি বর্মণ বলেন, আমাদের দেশের অর্ধেক এই নারী। তাই নারীরা গৃহস্থালি থেকে শুরু করে কৃষি পর্যন্ত সব জায়গায় কাজ করে থাকে। তারা যে কাজ করে এটার একটা সামাজিক মর্যাদা প্রয়োজন। এই মর্যাদা আমাদের দেশে নারীদের নাই। নারীরা যে কাজ করে যাচ্ছে সেটার একটা স্বীকৃতি দরকার। নারীদের এই স্বীকৃতি আদায়ের কাজ করে যাচ্ছি।
নির্বাচনি ইশতাহারে মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের উপর বিশেষ করে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তরুণদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সচেতনতা চালাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অভয় দিচ্ছেন।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তিনি বলেন, তার দল মাত্র গণচাঁদার উপর ভিত্তি করে চলছে সেখানে অন্যান্য দল অর্থের খেলায় মেতেছে।
সেলিম সরকার/এসএন