বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ভাইয়েরা কেন্দ্রে থাকলে জিনও ভোট চুরির সাহস পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণ আঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
একটি দল ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন নামসর্বস্ব সংস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষকের নামে ভোট রিগিং করার চেষ্টা করছে। আমি বিশ্বাস রাখতে চাই আমার যেসব ছাত্র ভাইয়েরা কামানের মুখে, গোলাবারুদের মুখে, হাসিনার চোখে চোখ রেখে, হাসিনার পেটুয়াবাহিনীর বিরুদ্ধে গিয়ে যারা জুলাইতে রাস্তায় নেমে এসেছিল আমার এই ভাইয়ের আবার ১২ তারিখে ভোট কেন্দ্রগুলো পাহারা দিতে নেমে আসবে। আমি বিশ্বাস করি আমার ছাত্র শিবিরের ভাইয়েরা, ছাত্রশক্তির ভাইয়েরা কেন্দ্রগুলোতে থাকে তাহলে জিনও সাহস পারবে না ভোট চুরি করার।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যশোরে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘যারা সুদখোর, যারা ঘুষখোর, যারা জমি দখল করে তারা আজ বাংলাদেশ পক্ষীয় জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা যেহেতু অবস্থা নিয়েছে সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আমরা ঠিক পথে আছি। কেবল আমাদের দ্বারাই বাংলাদেশের প্রগতি, সমৃদ্ধি, উন্নতি সম্ভব।’
আগামী ১২ তারিখ আপনারা প্রত্যেকেই সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের মালিকানা বুঝে নিন। আপনাদের ক্ষমতা আপনাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আপনাদের সময় এসেছে দেশের মালিকানা বুঝে নেওয়ার।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়। নেতা চাঁদাবাজি করতে অর্ডার দেন; বাস্তবায়ন করতে হয় কর্মীদের। তৃণমূলের অনেক কর্মী আছে, তারা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। গত ১৭ বছর যে সব বিএনপির নেতা-কর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছে, গুম হয়েছেন, তারা মার্জিনাইজ। হাইব্রিড বিএনপি এসে মূল বিএনপিদের কর্ণার করে দিয়েছে। আপনারা বিএনপি ভাইদের কাছে যাবেন, যারা জিয়ার দর্শনকে বিশ্বাস করে, খালেদা জিয়ার ধারণ করে, তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা ধানের শীষের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছে। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, তারা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবে, কিন্তু ভোটটা দিবে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনি যে পোশাক পরিধান করে আছেন, সেটি আপনার যোগ্যতা, মেধায় অর্জন করেছেন। আপনাকে অনুরোধ করব, আপনার বাসায় সন্তান রয়েছে। আপনার মা-বাবা রয়েছে। আপনি যদি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো আবার যদি ঘুষের টাকা স্পর্শ করেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠবে। আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামীর বাংলাদেশ, সন্তানের ভবিষ্যত চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দিবেন নাকি ইনসাফের বাংলাদেশে দেবেন। পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে না। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থাকলে কী পরিণতি হয়, সেটি গত জুলাইয়ে দেখেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকুন। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে আসছেন। জনতার ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন হয়। কোনো রাজনৈতিক দলের টাকায় আপনার বেতন হয় না।’
নির্বাচনি পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত যশোর সদর আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের, এনসিপি যশোরের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ।
এইচ আর তুহিন/অমিয়/