আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেন্দ্রে ভোটার আনতে চলেছে নানামুখী তৎপরতা। ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থী ও তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা ‘ডোর-টু-ডোর’ প্রচার চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগ-বিহীন এই নির্বাচনে ভোটের লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে ৯২ জনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ভোটের মাঠে তাদের কেউ কেউ বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’, আবার কেউ কেউ ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ বলে অভিহিত করছেন। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিএনপির বলয়ের বাইরে আরও ৬ জন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটারদের দৃষ্টিতে আছেন।
ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অন্তত ৪৩টি আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। এদের মধ্যে ৩৫-৪০টি আসনে তারা শক্ত অবস্থানে আছেন। তাদের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে তারা নিজেরা ও তাদের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে তৎপর।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচনে যে কেউ জয়লাভ করতে পারেন। নির্বাচনের আগের দিন মোড় ঘুরে যেতে পারে। অনেক সময় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের মতামত পরিবর্তন করে থাকেন। তাই আগাম কোনো কিছু বলা কঠিন।’
বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনি আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। আবার কেউ কেউ ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য। ফলে ভোটের মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের চেয়ে তারাই এখন এগিয়ে আছেন। তাদের পক্ষেও দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ কাজ করছেন। দলের বহিষ্কৃত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য অনেক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জেলা-উপজেলায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ভোটের মাঠে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না দলটির হাইকমান্ড।
ঢাকায় ধানের শীষের প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থীরা
ঢাকা-৭ আসনে (লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালি) বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী হাজি এনায়েত উল্লা। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ইসহাক সরকার (ফুটবল)। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমুখী নানা কাজ করেছেন। ভোটারদের ভাষ্যমতে, এই আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবল প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। ফুটবল জয়লাভ করতে পারে।
ঢাকা-১২ আসনের (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল-হাতিরঝিল) প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বিএনপির জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (কোদাল), দলের বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরব (ফুটবল) ও জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান মিলন। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে নীরবের পক্ষে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ থাকায় ভোট ‘কোদাল’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। আর এর সুযোগ নিয়ে দাঁড়িপাল্লার ভাগ্য ভালো হতে পারে।
হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, এই আসনে তিন সাইফুলই শক্তিশালী প্রার্থী। তবে নীরব যেহেতু এলাকার ছেলে, তিনি কিছুটা এগিয়ে আছেন।
ঢাকা-১৪ আসনে (মিরপুর-দারুসসালাম) দারুসসালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। সাবেক এমপি খালেকের এই আসনে নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এই আসনে যে কেউ জয়লাভ করতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ জয়লাভের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। তবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল। ইকবাল স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ভোটের মাঠে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে ফরহাদ ইকবালের একচেটিয়া সমর্থন তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ভোটারদের একটি অংশ ধানের শীষ বলতে আজাদকে বোঝেন। অনেকের ধারণা- এই আসনে শেষ পর্যন্ত আজাদই জয়ী হবেন।
এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের প্রত্যেকের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে যা ভোটের মাঠের হিসাব পাল্টে দেবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
খুলনা বিভাগের ৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আলোচনায়
বাগেরহাট জেলার উন্নয়নের কারিগর সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার একাই তিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তার প্রতীক ‘ঘোড়া’।
বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মতুয়া সম্প্রদায়ের সোমনাথ দে বিপরীতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন বিজয়ী হতে পারেন। স্থানীয় ভোটার সাইফুল ইসলাম মনে করেন, বাগেরহাটের উন্নয়নের জন্য সেলিমের বিকল্প নেই। বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-২ আসনে তার জয়ের পাল্লা ভারী।’
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনী-কালীগঞ্জ) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীনের বিপরীতে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহীদুল আলম। গরিবের ডাক্তার নামে পরিচিত শহীদুল আলম জয়ী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে।
এছাড়া খুলনা বিভাগে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া তিন আসনেও শক্ত অবস্থানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এরা হলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (কাপপিরিচ), যশোর-৫ আসনে শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস) এবং নড়াইল-২ আসনে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। এই তিন আসনে জোটের প্রার্থীরা হলেন- নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি রশীদ আহমাদ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।
চট্টগ্রাম বিভাগের চারজন আলোচনায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল-আশুগঞ্জ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তবে সবখানে আলোচনায় আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ভোটের মাঠে তার জনপ্রিয়তাও অন্যসব প্রার্থীদের চেয়ে বেশি। এই আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও দলের আরেক বিদ্রোহী এস এন তরুণ দে। তবে এই আসনে রুমিন ফারহানা এগিয়ে আছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন ব্যক্তিকে চান যিনি সৎ, সাহসী এবং সত্যিকার অর্থেই এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। ভোটাররা যেভাবে চাইবেন, আমি সেভাবেই এলাকার উন্নয়ন করব। নির্বাচিত হতে পারলে আমার আসনটিকে উন্নয়নের রোল মডেল করব।’
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী (ফুটবল)। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং জামায়াত জোটের মাওলানা জহিরুল ইসলাম। ধারণা করা হচ্ছে, উপকূলীয় এলাকার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে লেয়াকত আলী বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নিজেকে ‘কৃষকের ছেলে’ পরিচয় দিয়ে লেয়াকত আলী ব্যতিক্রম প্রচার চালাচ্ছেন।
এ ছাড়া নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব। নোয়াখালী-২ আসনে কাজী মফিজুর রহমান ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।
রাজশাহী বিভাগের সাত হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া)। নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার জোরদার করেছেন তারা। বিএনপির প্রার্থীকে অনেকটাই চাপে ফেলেছেন তারা।
নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে লড়ছেন দলটির সাবেক দুই নেতা। নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমীন পুতুলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু ও জেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার ইয়াসির আরশাদ রাজন। রাজন ও পুতুল আপন ভাইবোন হওয়ায় এই আসনে এগিয়ে আছেন টিপু। আর নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের আরেক বিদ্রোহী নেতা দাউদার মাহমুদ।
এই বিভাগের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর-চাটমোহর) আসনে সাবেক এমপি এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জাকারিয়া পিন্টু আলোচনায় আছেন। ধানের শীষ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন তারা।
সিলেট বিভাগের ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটারদের আলোচনায়
সিলেট বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থী ৫ জন। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) ও জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মুফতি আবুল হাসান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ও চাকসু মামুন সম্পর্কে খালাতো ভাই। এই আসনে চাকসু মামুন জয়ী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভপুর) আসনে শক্তিশালী প্রার্থী মরমী কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টানা চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠে তিনি কখনই হারেননি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল, জামায়াতের শামছ উদ্দিন। তবে জয়নুল জাকেরীন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন।
এছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ধানের শীষের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে হাসান মামুন (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-১ আসনে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-৩ আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনে আনোয়ার সাদাত (কাপপিরিচ) আলোচনায় আছেন।
৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নেই
ঢাকা-৯ আসনে (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা) নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় আছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তিনি দলটি থেকে সরে দাঁড়ান। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জারা প্রচারে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছেন গতানুগতিক প্রচারের বাইরে গিয়ে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতের শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এই আসনে আহমেদ আযম খানকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ পদত্যাগ করেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ভোটার মোহাম্মদ বেলাল বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের বিপুল ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মোট প্রার্থী ৭ জন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ও হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তবে এই আসনে ভোটারদের সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, এই আসনে লতিফ সিদ্দিকীর পরিবার বরাবরই বিজয়ী হয়ে আসছে। এবারও তাই হতে চলছে বলে অনেকের ধারণা।
খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে ভোটযুদ্ধ হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমার (ঘোড়া)। পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের গোপন সমর্থন থাকায় তিনি এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এ ছাড়া জয়পুরহাট-১ আসনে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেকুন নাহার শিখা (ঘোড়া মার্কা) ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে চিলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন আলোচনায় আছেন।