ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

৪০ আসনে বিজয়ী হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
৪০ আসনে বিজয়ী হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেন্দ্রে ভোটার আনতে চলেছে নানামুখী তৎপরতা। ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থী ও তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা ‘ডোর-টু-ডোর’ প্রচার চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগ-বিহীন এই নির্বাচনে ভোটের লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে ৯২ জনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ভোটের মাঠে তাদের কেউ কেউ বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’, আবার কেউ কেউ ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ বলে অভিহিত করছেন। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিএনপির বলয়ের বাইরে আরও ৬ জন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটারদের দৃষ্টিতে আছেন।

ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অন্তত ৪৩টি আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। এদের মধ্যে ৩৫-৪০টি আসনে তারা শক্ত অবস্থানে আছেন। তাদের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে তারা নিজেরা ও তাদের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে তৎপর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচনে যে কেউ জয়লাভ করতে পারেন। নির্বাচনের আগের দিন মোড় ঘুরে যেতে পারে। অনেক সময় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের মতামত পরিবর্তন করে থাকেন। তাই আগাম কোনো কিছু বলা কঠিন।’ 

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনি আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। আবার কেউ কেউ ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য। ফলে ভোটের মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের চেয়ে তারাই এখন এগিয়ে আছেন। তাদের পক্ষেও দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ কাজ করছেন। দলের বহিষ্কৃত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য অনেক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জেলা-উপজেলায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ভোটের মাঠে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না দলটির হাইকমান্ড।

ঢাকায় ধানের শীষের প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থীরা
ঢাকা-৭ আসনে (লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালি) বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী হাজি এনায়েত উল্লা। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ইসহাক সরকার (ফুটবল)। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমুখী নানা কাজ করেছেন। ভোটারদের ভাষ্যমতে, এই আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবল প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। ফুটবল জয়লাভ করতে পারে। 

ঢাকা-১২ আসনের (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল-হাতিরঝিল) প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বিএনপির জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (কোদাল), দলের বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরব (ফুটবল) ও জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান মিলন। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে নীরবের পক্ষে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ থাকায় ভোট ‘কোদাল’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। আর এর সুযোগ নিয়ে দাঁড়িপাল্লার ভাগ্য ভালো হতে পারে। 

হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, এই আসনে তিন সাইফুলই শক্তিশালী প্রার্থী। তবে নীরব যেহেতু এলাকার ছেলে, তিনি কিছুটা এগিয়ে আছেন। 

ঢাকা-১৪ আসনে (মিরপুর-দারুসসালাম) দারুসসালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। সাবেক এমপি খালেকের এই আসনে নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এই আসনে যে কেউ জয়লাভ করতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। 

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ জয়লাভের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। তবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল। ইকবাল স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ভোটের মাঠে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে ফরহাদ ইকবালের একচেটিয়া সমর্থন তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ভোটারদের একটি অংশ ধানের শীষ বলতে আজাদকে বোঝেন। অনেকের ধারণা- এই আসনে শেষ পর্যন্ত আজাদই জয়ী হবেন। 

এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের প্রত্যেকের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে যা ভোটের মাঠের হিসাব পাল্টে দেবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। 

খুলনা বিভাগের ৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আলোচনায়
বাগেরহাট জেলার উন্নয়নের কারিগর সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার একাই তিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তার প্রতীক ‘ঘোড়া’। 

বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মতুয়া সম্প্রদায়ের সোমনাথ দে বিপরীতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন বিজয়ী হতে পারেন। স্থানীয় ভোটার সাইফুল ইসলাম মনে করেন, বাগেরহাটের উন্নয়নের জন্য সেলিমের বিকল্প নেই। বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-২ আসনে তার জয়ের পাল্লা ভারী।’ 

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনী-কালীগঞ্জ) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীনের বিপরীতে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহীদুল আলম। গরিবের ডাক্তার নামে পরিচিত শহীদুল আলম জয়ী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে।

এছাড়া খুলনা বিভাগে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া তিন আসনেও শক্ত অবস্থানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এরা হলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (কাপপিরিচ), যশোর-৫ আসনে শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস) এবং নড়াইল-২ আসনে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। এই তিন আসনে জোটের প্রার্থীরা হলেন- নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি রশীদ আহমাদ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান। 

চট্টগ্রাম বিভাগের চারজন আলোচনায় 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল-আশুগঞ্জ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তবে সবখানে আলোচনায় আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ভোটের মাঠে তার জনপ্রিয়তাও অন্যসব প্রার্থীদের চেয়ে বেশি। এই আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও দলের আরেক বিদ্রোহী এস এন তরুণ দে। তবে এই আসনে রুমিন ফারহানা এগিয়ে আছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন ব্যক্তিকে চান যিনি সৎ, সাহসী এবং সত্যিকার অর্থেই এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। ভোটাররা যেভাবে চাইবেন, আমি সেভাবেই এলাকার উন্নয়ন করব। নির্বাচিত হতে পারলে আমার আসনটিকে উন্নয়নের রোল মডেল করব।’

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী (ফুটবল)। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং জামায়াত জোটের মাওলানা জহিরুল ইসলাম। ধারণা করা হচ্ছে, উপকূলীয় এলাকার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে লেয়াকত আলী বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নিজেকে ‘কৃষকের ছেলে’ পরিচয় দিয়ে লেয়াকত আলী ব্যতিক্রম প্রচার চালাচ্ছেন। 

এ ছাড়া নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব। নোয়াখালী-২ আসনে কাজী মফিজুর রহমান ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।

রাজশাহী বিভাগের সাত হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল) এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া)। নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার জোরদার করেছেন তারা। বিএনপির প্রার্থীকে অনেকটাই চাপে ফেলেছেন তারা।

নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে লড়ছেন দলটির সাবেক দুই নেতা। নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমীন পুতুলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু ও জেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার ইয়াসির আরশাদ রাজন। রাজন ও পুতুল আপন ভাইবোন হওয়ায় এই আসনে এগিয়ে আছেন টিপু। আর নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের আরেক বিদ্রোহী নেতা দাউদার মাহমুদ। 

এই বিভাগের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর-চাটমোহর) আসনে সাবেক এমপি এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জাকারিয়া পিন্টু আলোচনায় আছেন। ধানের শীষ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন তারা।
 
সিলেট বিভাগের ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটারদের আলোচনায়
সিলেট বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থী ৫ জন। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) ও জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মুফতি আবুল হাসান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ও চাকসু মামুন সম্পর্কে খালাতো ভাই। এই আসনে চাকসু মামুন জয়ী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভপুর) আসনে শক্তিশালী প্রার্থী মরমী কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টানা চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠে তিনি কখনই হারেননি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল, জামায়াতের শামছ উদ্দিন। তবে জয়নুল জাকেরীন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন।

এছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ধানের শীষের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে হাসান মামুন (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-১ আসনে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ (ঘোড়া), ময়মনসিংহ-৩ আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনে আনোয়ার সাদাত (কাপপিরিচ) আলোচনায় আছেন।

৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নেই
ঢাকা-৯ আসনে (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা) নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় আছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তিনি দলটি থেকে সরে দাঁড়ান। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জারা প্রচারে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছেন গতানুগতিক প্রচারের বাইরে গিয়ে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতের শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এই আসনে আহমেদ আযম খানকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ পদত্যাগ করেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ভোটার মোহাম্মদ বেলাল বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের বিপুল ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মোট প্রার্থী ৭ জন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ও হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তবে এই আসনে ভোটারদের সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, এই আসনে লতিফ সিদ্দিকীর পরিবার বরাবরই বিজয়ী হয়ে আসছে। এবারও তাই হতে চলছে বলে অনেকের ধারণা।

খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে ভোটযুদ্ধ হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমার (ঘোড়া)। পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের গোপন সমর্থন থাকায় তিনি এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। 

এ ছাড়া জয়পুরহাট-১ আসনে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেকুন নাহার শিখা (ঘোড়া মার্কা) ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে চিলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন আলোচনায় আছেন।

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ
লক্ষ্মীপুর শহরে  যুবদলের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা যুবদল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাশিদুল হাসান লিংকনের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবেনা, সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবেনা, তারেক রহমানের বাংলায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুবদলের নেতারা বলেন, আমরা রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্ব রাজপথে রয়েছি। আমরা আওয়ামী লীগের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেব। সকাল থেকে আওয়ামী লীগের কেউ রাজপথে নামার সাহস পায়নি। ১৭ বছরের অপকর্মের কারণে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে সর্বস্তরের জনগণ। কর্মসূচিতে জেলা-উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নাশকতার আশংকায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ ‍সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও বা তাদের সহযোগি সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে ঘিরে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে, সেদিকে কঠোর অবস্থানে আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।

 ‎মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রতিবাদ মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মালখানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন বের করা হয়। 

শোডাউনটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল আহমেদ রানা। এ সময় যুবদল, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

পরে দুপুরে সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা অপপ্রচার, গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সর্বশেষ ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সারা দেশে একযোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অপপ্রচার, গুজব ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।

সুমন/রিফাত/

ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

স্থানীয় যুবদল সুত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে আশঙ্কায় যুবদল এ প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, রেলগেট, বাজার এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয় এবং বেলা ১১টায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে।

যুবদল নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে প্রতিবাদ মিছিলটি রেলগেট ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয় এবং বাজারের ১নং গেটে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম ‌আহ্বায়ক হিরক সরদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আউয়াল কবির, ছাত্রদল নেতা তৌফিক আলম সোহেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান জুয়েল প্রমুখ। 

বক্তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনীতি করতে চাইলে আইনি বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেন, কিন্তু নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজপথে আসার চেষ্টা করবেন না, করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। আপনাদের প্রতিহত করার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীর ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যে নিপীড়নমূলক হামলা চালিয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভুলে নাই। এখন তারাই ঘরে বসে দেশের অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীর হোসেন/থিওটোনিয়াস

মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি। 

মঙ্গলবার (২৩শে জুন) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে ডক্টর শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেহেরপুর জেলা জজ কোর্টের সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ৷, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেঞ্জির সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এর আগে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন আজকে যারা সরকারের কাজ করে  সরকারি চাকরি করে, তারা কৃষকের কাছে যায় না, তারা কোন প্রতিবেদনও পাঠায় না। মেহেরপুরে চার ফসলে জমি এখানে চারবার চাষাবাদ করা হয়। এখানে সারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এই বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিতে চায় না। আমরা শুনেছি এখানে কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজের বীজসহ অনেক কিছু উপকরণ দেওয়া হয়। সেটা সঠিকভাবে সরকারের লোকজন বন্টন করছে না। দেশ বাঁচাতে হলে বিএনপিকে বাঁচাতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে সমস্ত নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। তবেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

তারেক হোসেন/অন্তরা

দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নানা কায়দায় চুরি করা টাকা ও পাচার করা লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যবহার করে সমাজ ও দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পচা পানির পানার মধ্য দিয়ে আবার উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের জীবন থেকে সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিল, স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল, সুস্থ জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল এবং মানুষের বাঁচার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বহুদিন পর জনগণের শুভেচ্ছায় ও জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল এবং কেড়ে নিয়ে তার ভয়ংকর দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিল। তার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা এখন ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল বোনার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি—বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র‌্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির সরকার, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে? কোনো ক্রসফায়ার হয়েছে? কোনো মিথ্যা মামলায় কেউ বন্দি হয়েছে? শুধু দুষ্কৃতকারী ও সমাজের অপরাধীরা ছাড়া কেউ বন্দি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশ যেভাবে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এই অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আবার বন্ধ করার চক্রান্ত তারা করছে তাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটি আর সম্ভব নয়; জনগণ ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ।’

নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজ করবে। শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছে, যা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।’

জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপ্রিয় মানুষ—সবাইকে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের ইঙ্গিত ও অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে বলেও জানান রিজভী।

অন্তরা/