অন্য দলকে ভো্ট দিলে (ট্রাক প্রতীক ছাড়া) ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা হারানো বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। গতকাল সোমবার রাতে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাকসার গ্রামে বিএনপি জোটের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ হুমকি দেন তিনি।
ওইদিন মধ্যরাতে তার দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও মুন্সী দাবি করেছেন- ‘হুমকি’ নয় তিনি ‘কথার কথা’ হিসেবে এমনটা বলেছেন। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, ভিডিও তিনি দেখেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তা ওই আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তা প্রেরণ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ওই বক্তব্যের ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি আপনাদের কাউকে ছাড়বো না। ঘর-বাড়ি সব পুড়াইয়া ছারখার করে দিবো। আমি কথা পরিষ্কার করে বলেছি। এটা মনে কইরেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিতে পারেন। আমার অসুবিধা নাই’।
ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটা মিন করতেছি। সুতরাং আমাকে যেন অপমানিত হতে না হয়। আমি যদি অপমানিত হই, সেই অপমানের প্রতিশোধ ওইভাবে নিব কিন্তু।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি আমাকে অপমানিত হতে দিবেন? তখন উপস্থিত সকলে ‘না’ বলে উত্তর দেন। এরপর তিনি বলতে থাকেন, ‘সবাই কিন্তু ১২ তারিখে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়া জয় যুক্ত করবেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করবেন। তারেক রহমানকে সরকার গঠনে করতে সহায়তা করবেন। গুনাইঘরবাসিকে সহায়তা করবেন’।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি শুনেছি, কুমিল্লা-৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের কাছে ভিডিওটি ও লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
তবে বিষয়টিকে ‘কথার কথা’ বলে জানিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ অনেকে এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মূলত বিষয়টি ছিল কথার কথা। ওই উঠান বৈঠক যখন হয়, তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। আমি খুবই টায়ার্ড ছিলাম। সারা দিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। মধ্যরাতে এমন সময়ে কথার কথা বলতে গিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের কথাটি বলেছি। এটা কথার কথা। এর বাইরে কিছু নয়।’
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বক্তব্যটি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একান্তই ব্যক্তিগত এটি দলীয় বক্তব্য নয় এর দায়ভারও দলের নয়। এরপরও আমারা এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলাকলি), বিএনপি জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের মো. জসিম উদ্দিন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম (হাত পাখা)।
জহির/মাহফুজ