আজকের দিনটি নিজেদের মালিকানা বুঝে নেওয়ার দিন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর রহমতুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন তিনি।
ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আজকের দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনটি নিজেদের মালিকানা বুঝে নেওয়ার দিন। বিগত ১৬ বছর এ দেশের মানুষের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সুযোগ ছিল না। আজ সেই সুযোগ এসেছে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে, নির্ভয়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে আসুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে এবং গণভোটে 'হ্যাঁ' প্রদানের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে।’
নাহিদ ইসলাম ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বুধবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি অভিযোগ করেন
কুড়িগ্রাম, নোয়াখালী ও হাতিয়া: আতিক মুজাহিদ ও হান্নান মাসুদসহ এনসিপির একাধিক প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
কুমিল্লা-৪: আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনি এলাকায় কয়েকদিন ধরেই ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নাহিদ অভিযোগ করেন, গত রাতে নিজের নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন ভোট ক্যাম্পেও হামলার ঘটনা ঘটে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই প্রতিকূলতাকে ফোকাস না করে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা এসব করছে, ব্যালটের মাধ্যমেই মানুষ তাদের জবাব দেবে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং মিডিয়ার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এত আন্দোলন, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগ সব বৃথা হয়ে যাবে যদি ভোট সুষ্ঠু না হয়। আমরা আশা করব প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে পেশিশক্তি ব্যবহারকারীরা সফল হতে পারবে না।’
সরকার গঠন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে এবং আমরা সেই দ্বারপ্রান্তেই রয়েছি। ইনশাআল্লাহ, ব্যাপক জনভিত্তি ও উপস্থিতি নিশ্চিত হলে আমরাই জয়ী হব।’
তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না এবং যেকোনো জনরায়কে তারা মাথা পেতে নেবেন। তার মতে, ‘জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।’
জয়ন্ত/রিফাত/