ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া দুটিতে ১১-দলীয় জোট ও একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এই তিনটি আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মোতাহার হোসেন তালুকদার ও আখতার উল আলম পরাজিত হয়েছেন।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের এমন ভরাডুবিতে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে পরাজিত হওয়ার কারণ। উঠে এসেছে একাধিক তথ্য। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা, নির্বাচনের সময় শক্তিশালী গ্রুপিং এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নেতা-কর্মীদের বিরূপ কর্মকাণ্ডের কারণে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
তবে পরাজিতরা বলছেন, নির্বাচিতরা ভোটের দিন ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ভোট গণনার আগেই জোর করে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যালট পেপার অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ‘ধানের শীষের ভোট অন্য প্রার্থীর পক্ষে’ গণনা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি ছিলেন জেলার সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে জেলার বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনিই শেষ হাসি হেসেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ে ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পান। সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পান ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
এ বিষয়ে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন ছিল। নির্বাচনের ফল দেখে বোঝা গেছে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে ফলকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করছি। ভোট পুনরায় গণনা করলে আমি বিজয়ী হব।’
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ধানের শীষে সিল দেওয়া ব্যালট রিকশা প্রতীকের সঙ্গে মিশিয়ে গণনা করা হয়েছে। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে ফলকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম সবচেয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পাঁচজনের মধ্যে চতুর্থ হয়েছেন ধানের শীষের এই প্রার্থী।
আখতারুল আলম বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাইনি। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীদের প্রশাসন মারধর করেছে। প্রশাসন একটি বিশেষ দলকে বিজয়ী করতে কাজ করেছে।’