ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা

নড়াইলে আ. লীগ কার্যালয়ে মুজিব-হাসিনার ছবি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
নড়াইলে আ. লীগ কার্যালয়ে মুজিব-হাসিনার ছবি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন
ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা শাখা কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি ছবি টাঙিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের জয়পুর এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত রায় বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই, তবে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

শরিফুল/রিফাত/

ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেলেন ফেসবুক লাইভে এসে কানা করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন।

আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। 

তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন, যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। অথচ তখন কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছি।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণা করার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে নাম থাকলে সেই প্রকল্প উদ্বোধন না করার কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘আজ এই মুহুর্ত থেকে সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে আমার নাম থাকবে না। এটা আমার নির্দেশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করা কাজে আমার নাম থাকবে কেন? এটা হতে পারে না। আমার কার্যকালে যে ফলকে আমার নাম থাকবে সেই ফলক আমি উদ্বোধন করব না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভবন উদ্বোধন পূর্বে আয়োজিত সভায় তিনি (এমপি) তার বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো স্পষ্ট করে সবাইকে জানিয়ে দেন।

এর আগে তিনি তার পুলিশ প্রটোকল বাতিল করেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকার বাজারগুলোর ইজারা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেন।

ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, কলেজ গভনিং কমিটির সভাপতি তালুকার আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাযেদ হোসেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন, বর্তমান অধ্যক্ষ মোস্তফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল্যাহ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের নামধারী কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনার হামলায় আহত ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের স্ত্রী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

আহত জামাল হোসেন (৪৮) নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অন্যরা হলেন, রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে জামাল হোসেন বাঁধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। 

তারা দাবি করেন, ওই জমি কারও কাছে বিক্রি করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। 

তাছলিমা আক্তারের দাবি, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাঁধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে। সেই জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন জামাল হোসেন। পথে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব প্রথমে ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলিও ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জামাল হোসেন প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। আমার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনাও পরিকল্পিত এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আকিবুর রহমান আকিবের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

কুমিল্লা মহানগর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, আকিব যুবদলের কেউ না । সে যেই দল ক্ষমতায় আসে তার অনুসারী হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জহির শান্ত/অন্তরা

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ২৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।​

১৮ জুন কমিটি অনুমোদন দিলেও প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার (১৯ জুন)। 

​ঘোষিত কমিটিতে তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি-কে সভাপতি, গিয়াস উদ্দীন-কে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সরোয়ার হোসেন রুবেল-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মিনহাজ উদ্দিন টিটু সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুজাউদ্দৌলা সজিব সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ৮৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৫২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।​ কমিটিতে অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে ৪৫ জন সহ-সভাপতি, ৫৭ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ জন দপ্তর সম্পাদক ও ৩ জন সহ-দপ্তর সম্পাদক, ১ জন প্রচার সম্পাদক ও ৩ জন সহ-প্রচার সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

 এছাড়াও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ৪৪ জন এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে ৫৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিশাল আকৃতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানো হয়েছে।​কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চট্টগ্রামের উত্তর জনপদে দলের ছাত্র রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এসএন/

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী
এনসিপি কর্মীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন দলটির কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা। 

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সস্মেলন করেন ভুক্তভোগী। 

সংবাদ সস্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন আমাকে একাধিকবার ফোনকল ও বার্তা পাঠিয়ে জানায়, জাতীয় নারী শক্তির কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। তাই তিনি আমাকে নগরের জিইসি মোড়স্থ হোটেল পেনিনসুলার টপ ফ্লোরে অবস্থিত বারে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে দেখি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দীন, সাদিয়া আফরিন এবং আরও দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ অবস্থান করছিলেন। নারী শক্তির কমিটি গঠনসংক্রান্ত বৈঠক বলা হলেও সাদিয়া আফরিন ছাড়া আর কোনো নারী সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না৷ তাই শুরু থেকেই বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য সাংগঠনিক আলোচনা বলে উল্লেখ করা হলেও সেখানে কোনো সাংগঠনিক বিষয়, কমিটি গঠন, কর্মপরিকল্পনা বা রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। বরং আমার ব্যক্তিগত পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ করা হয় এবং পরবর্তীতে আমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ প্রদানের আশ্বাস, ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

তিনি বলেন, বৈঠকস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ধূমপান করছিলেন এবং আমাকে ধূমপানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আমাকে মদ্যপানেও উৎসাহিত করা হয়। আমি এসবে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন বারবার আমাকে সুজা উদ্দীনের কথামতো চলতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকার অজুহাত দেখিয়ে বৈঠকের স্থান ত্যাগ করেন এবং আমাকে দুইজন পুরুষের উপস্থিতিতে একা রেখে যান। একজন নারী নেত্রী হিসেবে তার এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন, অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক। পরে পারি, তিনি সেখানে আশপাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সানজিদা বলেন, সাদিয়া আফরিন চলে যাওয়ার পর সুজা উদ্দীন আমার প্রতি অশোভন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেন এবং একাধিকবার অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক ইঙ্গিত দেন। তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর ইঙ্গিত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি তার প্রস্তাবে কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া না দিলে তিনি বারবার ‘ডিল অর ডেথ’ বাক্যটি উচ্চারণ করতে থাকেন এবং তার প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে নেতিবাচক পরিণতির ইঙ্গিত দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতার লোভ দেখিয়ে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ হয়ে উঠলে আমি বৈঠকের স্থান ত্যাগ করি। নিচে নেমে এসে সাদিয়া আফরিনকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের এভাবে পার্সোনাল সময় দিতে হয়, এটাই রাজনৈতিক কালচার।’

তিনি বলেন, আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করছি, দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের আচরণ সেই আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। 

সংবাদ সম্মেলন শেষে এনসিপি কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা বলেন, আমি একটি ধর্মীয় ও মুল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেছি। রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সাংগঠনিক বৈঠকের কথা বলে আমাকে একটি আবাসিক হোটেলের বারে ডেকে নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি করা আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক, বেদনাদায়ক এবং রাজনৈতিকভাবে হতাশাজনক। আমি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসিনি। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি চাই, আমার অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হোক। যদি আমার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মী যেন এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এসএন/