ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

বড় নেতা, তবু পদ নেই বিএনপিতে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮ এএম
বড় নেতা, তবু পদ নেই বিএনপিতে
ছবি: সংগৃহীত

কেউ ছিলেন দলের চেয়ারম্যান, কেউবা সাধারণ সম্পাদক। আবার কেউবা ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে। প্রত্যেকেই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে রাজপথেও ছিলেন সক্রিয়। কোনো কোনো নেতা আবার নিজের দলই বিলুপ্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন শরিক দলের আট নেতা। যোগদান করা একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও তাদের নেই কোনো পদ-পদবি। বড় দলে যোগ দিয়েও যেন ‘পরিচয়হীন’ অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। নির্বাচন শেষ হওয়ায় বিএনপিতে তাদের প্রকৃত অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে সবাই একসঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চিন্তাভাবনা করছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুধু বিএনপির সদস্য ফরম পূরণ করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামেন শরিক দলের সাত নেতা। এরা হলেন গণফোরামের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। এদের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ জয়ী হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন গণফোরামের আরেক সিনিয়র নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ। তিনি ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এই আট নেতারই যোগদানের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো মেলেনি কাঙ্ক্ষিত দলীয় পদ। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় সংকট কাটাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার কথা ভাবছেন তারা। কয়েকজন নেতা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন।

যদিও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের পদ-পদবির বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তাদের কাউন্সিলের মাধ্যমে পদ-পদবি দেওয়া হতে পারে। এপ্রিল-মে মাসে দলের কাউন্সিল হতে পারে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে তাদের ব্যাপারে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। বিএনপির চেয়ারম্যানের ওপর তাদের পদ-পদবি নির্ভর করছে। 

যদিও যোগ দেওয়া একাধিক নেতা বলেন, বিএনপিতে অনেক পদ এখনো শূন্য আছে। 

হাইকমান্ডের সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সময়ই তাদের পদ দেওয়া সম্ভব। 

যোগদান করা একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে যখন বিএনপির কেউ কথা বলতে পারত না, তখন তারাই জাতীয় রাজনীতিতে কথা বলেছেন। টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলে যোগ দিতে বলেছেন, তাই তারা যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখন আর তাদের পুরোনো দলে ফেরার পথও বন্ধ। দল বিলুপ্ত করেছেন, সেই দলও আর গড়তে চান না তারা। শুধু বিএনপিতে সম্মানটুকু চান তারা। দলে যোগদান করার সময় পদ-পদবি নিয়ে আলোচনা করার মতো পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না বলেও জানান একাধিক নেতা। 

নির্বাচনের মাঠে পরাজয়ের কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলেন, প্রতিটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী থাকায় শরিকদের ভোটের মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদেরও একটি অংশ তাদের পক্ষে কাজ করেননি। ভোটের মাঠে তাদের পরাজয়ের এটিই অন্যতম কারণ। 

নিজেদের দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। দুজনই বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার হাতে গড়া ২০-দলীয় জোটের অংশ ছিলেন। ২০-দলীয় জোট বিলুপ্ত হওয়ার পর ১২-দলীয় জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন সেলিম ও হুদা। এরপর আবারও যোগদান করেন যুগপৎ আন্দোলনে। রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তারা। সৈয়দ এহসানুল হুদা জুলাই আন্দোলনের সময়ে তাকে পুলিশ আটক করেছিল। 

শাহাদাত হোসেন সেলিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘দলীয় পদ-পদবির বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। কথা বলার সময়ও পাইনি। আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেছি, তারা সবাই মিলে কথা বলব। আমাদের তো রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। আমরা তো সার্বক্ষণিক রাজনীতিবিদ। এখন সুযোগ না দিলে ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারব না।’ 

বিএনপি দলীয় পদ-পদবি নিয়ে যোগাযোগ করেছে কি না–জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো যোগাযোগ করেনি। মাত্র তো সরকার গঠন করল। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সময় দলের পদ-পদবি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ দিতে বলেছেন, আমরা যোগ দিয়েছি। তখন দলের পদ-পদবির বিষয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না।’

সৈয়দ এহসানুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, ‘মাত্র নির্বাচন শেষ হলো। এ বিষয়ে আসলে কারও সঙ্গে কথাও হয়নি। আর এই মুহূর্তে তো আসলে দলীয় পদ বা অন্য কিছু দেওয়ার কোনো সুযোগ ওইভাবে দেখছি না। দলের কাউন্সিল না হলে আশা করাটা ঠিক হবে না। আমরা নিজের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। আসলে জানি না এই মুহূর্তে বিএনপি আমাদের নিয়ে চিন্তা করছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে আছি। আমি আর দল বদল করব না। আর দল গঠন করব না। সেই জায়গা থেকে আমি মূল্যায়ন পেতে পারি না?’

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শুরু থেকেই রাজপথে সক্রিয় ছিল গণঅধিকার পরিষদ। সেই সময়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাশেদ খান বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করাসহ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থেকে অবদান রেখেছেন তিনি। আর সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের সময় দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন রাশেদ খান। 

খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন থেকে সেই সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যুগপৎ আন্দোলন চলার সময় থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্ক ও যোগাযোগ। গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে তার পরামর্শে আমি ও নুরুল হক বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অনেক বিষয় সমন্বয় করেছি।’

তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের আদর্শিক জায়গাটার অনেকটা মিল রয়েছে। নুরুল হক নুর বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। যারা দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেছেন, তাদের বিএনপি অবশ্যই কাজ করার জন্য সুযোগ তৈরি করে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাশেদ প্রধান।

গণঅধিকার পরিষদে ফিরে যাওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু সেটা আমার কথা নয়। আমি বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচন করেছি এবং এখানে থেকেই রাজনীতি করতে চাই। বিএনপির সঙ্গে থেকেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই। এর বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’

১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভারও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপিতে যোগ দেন। এরপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট থেকেই শরিক ছিলেন তিনি। সম্প্রতি আবারও তার পুরোনো ঠিকানা বিএনপিতে ফেরেন। খবরের কাগজকে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, দলের ভেতরে তার অবস্থান নিয়ে কারো সঙ্গে এখনো আলোচনা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কথা বলবেন। বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তিনি তাকিয়ে আছেন বলেও জানান।

বিএনপির সঙ্গে জোট রাজনীতির আরেক শরিক এনপিপির সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তিনিও সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেন। যদিও খবরের কাগজকে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘মাত্রই নির্বাচন শেষ হলো। এখন কোনো কিছু চিন্তা করিনি। তবে আমি জোট থেকেই নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছি। আমি দলও বিলুপ্ত করিনি। শুধু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছি।’

বিভিন্ন দল ঘুরে সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন রেজা কিবরিয়া। আর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দল এনডিএম। ববি হাজ্জাজ দলের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও বিএনপিতে নেই তার কোনো পদ।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আনন্দ মিছিলে জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদাত মানু, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান হোসেনসহ জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

নেতারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আনন্দ মিছিলে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুমন/রিফাত/

জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমন করা যাবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

রিফাত/

ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড হওয়ার পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

ফয়সল/রিফাত/