ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ৬ আসন পাওয়া এনসিপির ভবিষ্যৎ কী

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
৬ আসন পাওয়া এনসিপির ভবিষ্যৎ কী
ছবি: সংগৃহীত

রুহুল আমিন বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি হতাশ ছিলেন। তিনি একটি বিশ্বাসযোগ্য তৃতীয় শক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই ছাত্রনেতারা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন, তখন ত্রিশোর্ধ্ব আমিন মনে করেছিলেন, অবশেষে তিনি এমন একটি দল পেয়েছেন, যাকে ভোট দিতে পারবেন এবং নিজের দল বলতে পারবেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির নেতারা তখন ব্যাপক জনসমর্থন পান। তাদের দল বেশ শক্তিশালী। এমনকি ভবিষ্যতে সরকার গঠনের ইঙ্গিতও দেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রনেতাদের ব্যাপক সমর্থন থাকলেও, এনসিপি তৃণমূলে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে রূপ নিতে পারেনি অর্থাৎ এককভাবে সংসদীয় নির্বাচনে লড়তে সক্ষম হয়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দলটির সমর্থন এক অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল।

শেষ পর্যন্ত এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে। জোট অংশীদার হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টিতে প্রার্থী দেয় এবং ছয়টিতে জয় পায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আর জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৭টি আসন।

তবে বিএনপির বিজয়ে আমিনের মনোবল ভাঙেনি। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘নতুন দল হিসেবে আমরা ভালো করেছি। আমরা মাত্র শুরু করেছি। আগামী কয়েকটি নির্বাচনি চক্রে এনসিপি নতুন বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে।’

২০২৪ সালের আন্দোলনে পরিচিতি পাওয়া এনসিপির কয়েকজন নেতা এখন সংসদ সদস্য। সমর্থকদের কাছে ছয়টি আসন একটি নবীন দলের জন্য অপ্রত্যাশিত সাফল্য। তবে সমালোচকদের মতে, এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে একটি প্রতিবাদভিত্তিক আন্দোলন থেকে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে রূপান্তরের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কতটা গভীর।

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ফলাফলকে উৎসাহব্যঞ্জক বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১১ মাসের একটি দলের জন্য এটি খুবই ভালো ফল। অবশ্যই আরও ভালো হতে পারত। আমরা আরও আশা করেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সন্তুষ্ট।’

আসিফ মাহমুদের দাবি, ভোট গণনায় অনিয়মের কারণে এনসিপি আরও দুই-তিনটি আসন অল্প ব্যবধানে হেরেছে। প্রমাণের প্রশ্নে তিনি জানান, নির্বাচন চলাকালে দলটি তাদের আপত্তি জানিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ মানেই আপস। তিনি বলেন, ‘আমরা শুরুতে এককভাবে লড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক কাঠামো বিবেচনায় প্রতিনিধিত্ব ও টিকে থাকার জন্য জোটে যেতে হয়েছে।’

জামায়াতের সঙ্গে এই জোট এখন এনসিপির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় টানাপোড়েন। দেশের বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক দল জামায়াত ঐতিহাসিকভাবে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং নারীর অধিকার বিষয়ে রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা সংবিধানের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থীও দিয়েছিল তারা। তবে এই জোট এনসিপির ভেতরে বিভাজন তৈরি করেছে।

জোট ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই এক ডজনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট ২০২৪ সালের অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে দলের মধ্যপন্থি ভিত্তি দুর্বল হবে। তবে আসিফ মাহমুদ এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছায়া রাজনীতি করছি না। আমাদের বক্তব্য জামায়াতের সঙ্গে এক নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি একটি নির্বাচনি জোট, রাজনৈতিক একীভূতকরণ নয়।’

এনসিপি জানিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে লড়তে চায়, যদিও জামায়াতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। বান্দরবান থেকে নির্বাচনে পরাজিত এনসিপি নেতা এসএম সুজা উদ্দিন বলেন, তখন তাদের বিকল্প সীমিত ছিল এবং জামায়াতের সঙ্গে জোট ছিল রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়া। তার মতে, এনসিপি দেশের নেতৃত্ব সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি ‘প্রজন্মগত সংশোধন।’

অন্যদিকে, সাবেক নেতা অনিক রায় মনে করেন, এই জোট এনসিপিকে কাঠামোগতভাবে জামায়াতের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে। তার ভাষায়, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া এনসিপি হয়তো একটি আসনও পেত না।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলি বলেন, বাস্তবে এনসিপি এখনো স্বতন্ত্র তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তার মতে, দলটি ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর কৌশল অনুসরণ করছে, শুধু মুখগুলো তরুণ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, সংসদে প্রবেশ ইতিবাচক সূচনা হলেও এনসিপির স্বাধীনভাবে শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার সুযোগ সীমিত, বিশেষ করে সংগঠনগত দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের অনুভূতিগত বৈধতা পুরোপুরি মুছে যায়নি। দলটি যদি নিজেদের সুসংগঠিত করতে ও আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে, তাহলে সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। বর্তমানে এনসিপি এক অদ্ভুত অবস্থানে রয়েছে। সংসদে উপস্থিত, ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীকী উত্তরাধিকার বহন করছে, কিন্তু একই সঙ্গে একটি তীব্র মেরুকৃত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জোট-রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা করছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল পরীক্ষা, এবং এনসিপি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

কিন্তু ছয়টি আসন সত্যিই তৃতীয় শক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। দলটি জোটের সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক গড়তে পারবে কি না এবং স্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরতে পারবে কি না, সেসব বিষয়ের ওপর।

আমিন আশাবাদী। তার কাছে ছয়টি আসন শেষ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ছাত্রনেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় শুরু করেছি। এখন আমরা সংসদে। আমরা আর পেছনে ফিরব না।’ সূত্র: আল-জাজিরা

সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন
সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের (রামগতি ও কমলনগর) সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

রবিবার (২১ জুন) বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাজার নামাজ শেষে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারস্থ পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

এ সময় রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), রামগতি থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দেশের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে মোশাররফ হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএলএফ-এর নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রামগতি-কমলনগর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রামগতিবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।’

তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

রফিকুল/রিফাত/

গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। 

ভিডিওতে পুলিশের উদ্দেশে কথিত হুমকিমূলক ‘সামনে আসবি না, মেরে ফেলব’ বক্তব্য শোনা যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে মিছিলের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে হুমকিসূচক বক্তব্য দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহল, সাধারণ মানুষ এবং অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মিছিলটি বাসন থানার শেষ সীমানা হয়ে মালেকের বাড়ি গরুর হাটে এসে শেষ হয়। 

একই সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি-দাওয়া এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মিছিলটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে। তবে ভিডিওতে বক্তব্যদানকারী ব্যক্তির পরিচয়, মিছিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলকারীদের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা দাবি করা হলেও সেসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতা-কর্মীও ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভাইরাল ভিডিও, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত।

পলাশ/রিফাত/

বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু
আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেনন। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় ভবনের ছাদ থেকে পড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রাশেদ খান মেননের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাশেদ খান মেনন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত প্রকৌশলী হেমায়েত উদ্দিন বাদশার ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার বেলা তিনটার দিকে কাউনিয়া থানার পুলিশের ৯-১০ সদস্যের একটি দল রাশেদের বাসায় যায় তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে। এ সময় তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে বাসার ছাদে উঠে নিচে লাফ দেন বলে জানা যায়।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক নিকটাত্মীয় জানান, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা ও পুলিশের হয়রানির আশঙ্কায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলেও ওই স্বজন জানান।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে ওই সময় তিনি বাসায় না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওই রাতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক খান ও ফয়েজ খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাশেদ খান মেনন বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশের পুনরায় অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

সবুজ/রিফাত/

মাদক সেবনের ভিডিও কাণ্ডে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি‎

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
মাদক সেবনের ভিডিও কাণ্ডে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি‎
ছবি: খবরের কাগজ

ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি সাইদুলকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। গঠন করা হয় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। ‎‎

আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম এখন থেকে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হবে।

সাগর কুমার/তামান্না রুপা/

সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই
মোশারফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর -৪ আসনের (রামগতি ও কমল নগর)সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

শনিবার (২০ জুন) রাতে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা শেষে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারস্থ পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দেশের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে মোশারফ হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএলএফ-এর নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/