রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান মুছে ‘বিজয় বাংলাদেশ’ লেখা কর্মসূচি শুরু করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী পর্বে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘‘নতুন প্রজন্ম মানে নিকৃষ্ট স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থক জুলাই আন্দোলনকারী ইনকিলাব মঞ্চ বা এনসিপি নয়; নতুন প্রজন্ম মানে দেশপ্রেমী শিক্ষার্থী সমাজ। যারা মনে প্রাণে বাংলাদেশ-স্বাধীনতা-লাল সবুজের পতাকা-সংবিধান এবং একাত্তরের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস ধারণ করেন। তারা রক্ত-জীবন দিয়ে হলেও এই দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে ফের নিশ্চিহ্ন করে দেবে; তবু বাংলাদেশের মাটিতে ‘মুক্তিযোদ্ধারা গাদ্দার’ যারা লিখবে তাদেরকে কোনো ছাড় দেবে না।’’
এ সময় তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, মতিঝিল, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচিটির আওতায় দুই শতাধিক স্থানে স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান নতুনধারার নেতারা মুছে দিয়ে ‘বিজয় বাংলাদেশ’ স্লোগান লিখেছেন।
এতে নেতৃত্ব দেন দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বার রাশেদা চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ ফারুক প্রমুখ।
এ সময় মোমিন মেহেদী গণমাধ্যমকে আরও বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনের নামে মানবতাবিরোধী-দেশবিরোধী-ধর্মবিরোধী দুর্নীতিবাজদেরকে গত ১৯ মাসে সব অন্যায়-অপরাধের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার বাসনায় লিপ্ত থাকতে দেখেছি। ছাত্র নামধারী একটা বড় দেশবিরোধী সমর্থগোষ্ঠীর কারণে আজ যুদ্ধাপরাধীদেরকে সংসদের মত পবিত্র স্থানে দেখতে হচ্ছে। যেই অপরাধ এই জুলাইয়ে তারা করেছে, সেই অপরাধের শাস্তি তাদেরকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেই। ইতোমধ্যেই তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে জুতা-ঝাড়ুর মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ বিরোধীদের সঙ্গে মিলে এদেশের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে যুদ্ধাপরাধীদেরকে সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে আগামীতে তারা আইনিভাবে বিচারের মুখোমুখি হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘নতুনধারার অঙ্গীকার-দুর্নীতি থাকবে না আর...’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে আত্মপ্রকাশ করে নতুনধারার রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মটি। আলোচিত জুতামিছিল, ঝাড়মিছিল, তরকারি মিছিল, চুলামিছিল ও ব্ল্যাক র্যালিসহ বিভিন্ন অপরাধ-দুর্নীতির প্রতিবাদে দুই হাজারেরও অধিক সফল কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চলা নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি সব শর্ত মেনে নির্বাচন কমিশনে ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও শুধু উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্রের কারণে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ সালে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও এখনও উত্তর না পাওয়ায় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে রিট করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নতুনধারার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মুন্নি আলম।
সুমন/