ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ করলো বাংলাদেশ ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৬, বাদ অনেক হেভিওয়েট

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
সংরক্ষিত আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৬, বাদ অনেক হেভিওয়েট
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে ৩৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত তালিকায় একাধিক নতুন মুখ স্থান পেয়েছে। তবে আলোচনায় থাকলেও কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছেন। তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ১০ জন। তবে বড় চমক হলো সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার। এ ছাড়া দুজন নেত্রীকে নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার আগে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী বিস্তৃত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সেই প্রক্রিয়া শেষে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তভাবে ৩৬ জনকে মনোনীত করে। আজ নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

ঘোষিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার নতুনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বেশি। মোট ২৬ জন নারী প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিন পরাজিত প্রার্থী এবার সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। তারা হলেন শেরপুর-১ আসনের যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, যশোর–২ আসনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি, ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি।

এ ছাড়া প্রথমবার সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেবা আমিন খান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পরিচালক ফাহমিদা হক, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গমেজের স্ত্রী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেত্রী আন্না মিনজ, গোপালগঞ্জের সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি, ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার, বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী মর‌হুম অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে ও মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আদিব চৌধুরী, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফ্রান্সপ্রবাসী মমতাজ আলো, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ও নাদিয়া পাঠান পাপন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব সানজিদা ইয়াসমিন তুলি, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আরা আক্তার, বান্দরবান জেলা পরিষদে সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশিতা এবং রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী।

তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন ওঁরাও সম্প্রদায়ের আন্না মিনজ। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার এবার সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। আর সরাসরি রাজনীতি না করেও মনোনয়ন পেয়েছেন জহরত আবিদ চৌধুরী।

সাবেক ১০ জন সংসদ সদস্য
চূড়ান্ত মনোনয়নে সাবেক ১০ জন সংসদ সদস্যকে বেছে নিয়েছে বিএনপি। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, সহ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আক্তার রানু, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।

নিলুফার চৌধুরী মনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত ও নির্বাচিত করার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’ 

তিনি বলেন, ‘এই সম্মান আমার জন্য বড় দায়িত্বের প্রতীক। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে আরও নিবেদিত রেখে, ন্যায়, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

বাবা মন্ত্রী ও স্বামী সংসদ সদস্য
তালিকায় এমন দুজন নারী স্থান পেয়েছেন, যাদের স্বামী, বাবা কিংবা শ্বশুর সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তার বাবা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আর শ্বশুর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আরেকজন হলেন শিরিন সুলতানা। তার স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য। 

দুজনকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় 
ঘোষিত তালিকার মধ্যে অন্তত দুজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা এবং বিগত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। 

তালিকায় গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুরের স্থান পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় শিক্ষক। কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

অন্যদিকে তিন পার্বত্য জেলায় মনোনয়ন পেয়েছেন আইনজীবী মাধবী মারমা। তার অতীত রাজনৈতিক ও পেশাগত সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের নিযুক্ত বান্দরবান জেলার সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাধবী। পরে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পান। সবশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। তবে মাঝে মাঝে তাকে বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে দেখেছি। 

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি বুঝেশুনেই দিয়েছি। ভুল হলেও সবকিছু জেনেশুনে দিয়েছি। রাজনীতিতে অনেক কিছু অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে করতে হয়।’

আলোচনায় থেকেও বাদ পড়লেন হেভিওয়েট যেসব নেত্রী
দলের ভেতর-বাইরে সর্বোচ্চ আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন হেভিওয়েট নেত্রীরা। তারা হলেন বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সহ-সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ও রিজিয়া পারভীন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নাসির উদ্দীন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে মাহরীন খান, সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, প্রয়াত মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদারের একমাত্র মেয়ে আর্কিটেক্ট ডিজাইনার সালিমা বেগম আরুণি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, মহিলা দলের সহ–স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ। তাদের মধ্যে আফরোজা আব্বাস, হাসিনা আহমদ ও রুমানা মোর্শেদ বিএনপির মনোনয়ন ফরম তোলেননি। এ ছাড়া সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক, মডেল ও আক্টিভিস্ট ফারজানা সিঁথিকে নিয়েও জোর আলোচনা থাকলেও তাদের নাম তালিকায় আসেনি।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, যারা বাদ পড়েছেন তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১ হাজার ১২৪ জন এবং মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৯০৭ জন। তাদের মধ্যে থেকে ৮ শতাধিক নেত্রীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছিল বিএনপি। গত শুক্র ও শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এরপর চূড়ান্ত ৩৬ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করল বিএনপি। 
 
স্বতন্ত্র জোটে মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী জুঁই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে স্বতন্ত্র ৬ এমপির জোট থেকে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র এমপি শেখ মজিবর রহমান ইকবাল এবং ময়মনসিংহ-১ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ সালমান ওমর জুঁইয়ের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এখানে উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র এমপিদের জোটের সবাই বিএনপির।

সরকার ও দলে উপেক্ষিত অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা
ছবি: সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, গুম, নির্যাতন ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন আত্মগোপনে। নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা ছিল–দল ক্ষমতায় এলে তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। তবে দল সরকার গঠনের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত রাজপথের অনেক পরিচিত মুখ, ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতা এখন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তাই অভিমানে তাদের অনেকে এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জুলাই বিপ্লবে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এত কিছুর পরও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি মির্জা আব্বাসের, সান্ত্বনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় মির্জা আব্বাসের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ।

অন্যদিকে, দুঃসময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’র চেয়ারম্যান পদ। এই নিয়োগের পর আফরোজা আব্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারপরও আলহামদুলিল্লাহ’। এর মাধ্যমে কার্যত তার হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, শীর্ষ আইনজীবী নেতা জয়নুল আবেদীন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমান এবং সাবেক জি এস খায়রুল কবির খোকনের মতো হেভিওয়েট নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। সরকার গঠনের পরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব বা পদে তাকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

বিএনপির ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, বিগত দিনে আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি, এমন অনেক ‘হাইব্রিড’নেতা এখন বিএনপিতে জেঁকে বসেছেন এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, ত্যাগীরা হচ্ছেন উপেক্ষিত। বিএনপির এসব সিনিয়র নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন না। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় নিয়মিতই হতাশা প্রকাশ করেন। বিএনপির এসব ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ।  

ঢাকা মহানগরের সাবেক এক বিএনপি নেতা আক্ষেপ করে খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের দুঃসময়ের সহযোদ্ধারা অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তিনি আশা প্রকাশ করছেন, আগামীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে বিএনপির পরীক্ষিত সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা হতে পারে। তখন তাদেরও মূল্যায়ন হবে।

সবচেয়ে বেশি হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একটি অংশের মধ্যে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক নয়ন বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছেন। অথচ যারা একসময় আন্দোলনের ‘তথ্য ছাত্রলীগ ও পুলিশকে সরবরাহ করত’। তারাই এখন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বহালতবিয়তে রয়েছেন।

অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহনেওয়াজ সিনা। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা ‘ক্রসফায়ার’ তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তার নাম ছিল এক নম্বরে। গ্রেপ্তার হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই নেতা। এখন সরকার গঠনের পর তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতি করে এখন শুনতে হয়, আমরা নাকি গুপ্ত জামায়াত। তীব্র অভিমান থেকে তিনি এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তিনটি আসনে দলের পরাজয়ের বিষয়টি হাইকমান্ডের খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
দলের সাবেক ছাত্রনেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী হাইব্রিডদের কারণে এখন সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে নানা মহলে।

তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যন তারেক রহমান সরকার গঠন করেছেন মাত্র ৩ মাস। ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গোছাতে হচ্ছে। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করবেন। এখন সবার উচিত ধৈর্য ধরে সরকারকে সহযোগিতা করা।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, দলের ত্যাগী ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যদি এই বার্তা যায় যে, ত্যাগের মূল্যায়ন হয় না। তবে তৃণমূলে স্থায়ী হতাশা তৈরি হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেলেন ফেসবুক লাইভে এসে কানা করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন।

আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। 

তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন, যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। অথচ তখন কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছি।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণা করার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে নাম থাকলে সেই প্রকল্প উদ্বোধন না করার কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘আজ এই মুহুর্ত থেকে সরকারি উন্নয়নের যে কোনো নামফলকে আমার নাম থাকবে না। এটা আমার নির্দেশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করা কাজে আমার নাম থাকবে কেন? এটা হতে পারে না। আমার কার্যকালে যে ফলকে আমার নাম থাকবে সেই ফলক আমি উদ্বোধন করব না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভবন উদ্বোধন পূর্বে আয়োজিত সভায় তিনি (এমপি) তার বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো স্পষ্ট করে সবাইকে জানিয়ে দেন।

এর আগে তিনি তার পুলিশ প্রটোকল বাতিল করেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকার বাজারগুলোর ইজারা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেন।

ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, কলেজ গভনিং কমিটির সভাপতি তালুকার আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাযেদ হোসেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন, বর্তমান অধ্যক্ষ মোস্তফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল্যাহ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের নামধারী কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনার হামলায় আহত ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের স্ত্রী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

আহত জামাল হোসেন (৪৮) নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অন্যরা হলেন, রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে জামাল হোসেন বাঁধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। 

তারা দাবি করেন, ওই জমি কারও কাছে বিক্রি করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। 

তাছলিমা আক্তারের দাবি, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাঁধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে। সেই জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন জামাল হোসেন। পথে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব প্রথমে ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলিও ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জামাল হোসেন প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। আমার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনাও পরিকল্পিত এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আকিবুর রহমান আকিবের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

কুমিল্লা মহানগর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, আকিব যুবদলের কেউ না । সে যেই দল ক্ষমতায় আসে তার অনুসারী হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জহির শান্ত/অন্তরা

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ২৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।​

১৮ জুন কমিটি অনুমোদন দিলেও প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার (১৯ জুন)। 

​ঘোষিত কমিটিতে তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি-কে সভাপতি, গিয়াস উদ্দীন-কে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সরোয়ার হোসেন রুবেল-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মিনহাজ উদ্দিন টিটু সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুজাউদ্দৌলা সজিব সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ৮৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৫২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।​ কমিটিতে অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে ৪৫ জন সহ-সভাপতি, ৫৭ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ জন দপ্তর সম্পাদক ও ৩ জন সহ-দপ্তর সম্পাদক, ১ জন প্রচার সম্পাদক ও ৩ জন সহ-প্রচার সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

 এছাড়াও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ৪৪ জন এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে ৫৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিশাল আকৃতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানো হয়েছে।​কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চট্টগ্রামের উত্তর জনপদে দলের ছাত্র রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এসএন/