রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের শাওন নামে এক নেতাকে বহিরাগত এনে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের এক জুনিয়র কর্মী আকাশের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রক্টোরিয়াল বডি এক বহিরাগতকে আটক করেছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিসিপ্লিনের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। অভিযুক্ত আকাশ একই ডিসিপ্লিনের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শাওনের অভিযোগ, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজে তার নাম ভাঙিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করার জন্য রবিবার সকালে আকাশকে ডেকে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন তিনি। এর জেরে রাতে আকাশ নগরীর কয়েকজন ‘টোকাইদের’ সঙ্গে নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
শাওন আরও জানান, এর আগে সিনিয়রদের সামনে ধূমপান করতে নিষেধ করায় আকাশের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি মোটরবাইক নিয়ে যাওয়ার সময় আকাশ ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে আমার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শাওন বাইক নিয়ে চারুকলা অভিমুখে যাওয়ার সময় আকাশসহ কয়েকজন তাকে পথরোধ করে। এরপর হঠাৎ তাকে কিল-ঘুষি মেরে বাইক থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আকাশ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাফিন আজমীরের রাজনৈতিক কর্মী। শাফিন আজমীরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলার আগেই বিষয়টিকে অস্বীকার করে।
তিনি বলেন, ‘আকাশকে আমি চিনি না, তার নামও শুনিনি। রবিবার আমি রাজশাহীর বাইরে ছিলাম। নাটোর থেকে ফিরছিলাম, পথে ঘটনাটি শুনেছি।’
অভিযুক্ত আকাশও কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘শাওন আমার মেয়ে সহপাঠীদের উত্যক্ত করতেন এবং আমাকে কয়েকবার র্যাগ দিয়েছেন। রবিবার সকালেও তিনি আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন। এসব বিষয়ে কথা আমার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে তার সঙ্গে শুধুমাত্র কথা বলতে যাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দুজনই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী। পূর্ব ঘটনার জেরে একজন কিছু বহিরাগত এনে অন্যজনকে মেরেছে। ঘটনাস্থল থেকেই এক বহিরাগতকে আটক করেছে প্রক্টরিয়াল টিম। লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাওন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেছেন।
শাকিবুল/রিফাত/