জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্রীড়া সম্পাদককে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে এবার ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেলীকে “প্রতিবাদী নেত্রী” আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
একই পোস্টে তিনি জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, অনৈতিকভাবে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা হুমকি-ধমকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, "এ শিক্ষার্থী (সাদিয়া সুলতানা নেলী) জকসুতে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে জকসুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি কোনদিন ছাত্রদল করেনি। এমন প্রতিবাদী নেত্রীকে ছাত্রদলে আগমনের আমন্ত্রণ জানাই।"
জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।
মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার (২৯ এপ্রিল) জবির অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারাম টুর্নামেন্টের ফাইনালকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, একটি দল নিয়ম ভেঙে ভিন্ন বিভাগের দুই খেলোয়াড় নিয়ে অংশ নেয়। এ নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাদিয়া সুলতানা নেলী ও ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে নেলী ক্রীড়া সম্পাদককে চড় মারেন।
এ বিষয়ে জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি সামনে এলে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। তবে নেলী এতে রাজি হননি এবং তাদের দলকে একক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার দাবি জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি ক্রীড়া কমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও নেলী তাকে চাপ দেন এবং পরে পুরস্কার বিতরণ শেষে সবার সামনে তাকে চড় মারেন ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
অন্যদিকে, চড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেলী বলেন, প্রতিপক্ষ দল নিয়ম ভঙ্গ করায় ক্রীড়া কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের বাতিল করে নেলীদের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু ক্রীড়া সম্পাদক সেই সিদ্ধান্ত না মেনে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিষয়টি অযৌক্তিকভাবে জটিল করেন। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে এক পর্যায়ে তিনি চড় দেন বলে জানান।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ক্রীড়া সম্পাদক নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, “অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি, প্রয়োজনে প্রশাসনের শাস্তিও মেনে নেব।”
এ বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত না থাকলেও পরে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠনের কথা থাকলেও একটি দল তা লঙ্ঘন করেছিল। তর্ক-বিতর্কের পর খেলা শেষ হয় এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, পুরস্কার বিতরণের পর অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এ চড় মারার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।