জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম এক বিবৃতিতে ভারত কর্তৃক বাংলাভাষী ভারতীয়দের বাংলাদেশের ভিতরে পুশইনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলে আসলেও বাস্তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে ভারতের অধীনস্থ হিসেবে দেখতে চায়। সেজন্যই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বাংলাদেশী নাগরিকদের অব্যাহতভাবে গুলি করে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে সীমান্তে নিম্নমাত্রার যুদ্ধ জারী রেখেছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণ ভারতের পদলেহী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে উচ্ছেদ করেছিল। ভারত পতিত ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধী অপরাধী শেখ হাসিনা, ও তার দোসরদের মেহমান হিসেবে ভারতে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার নির্বাচনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, শাসক দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা লাগামহীনভাবে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে সেখানকার জনমনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা উৎপাদন করেছে। এসব তারা শুধুমাত্র বিধানসভা নির্বাচনের জন্য করেনি, এটা তাদের নীতি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুশইন ইস্যু, সীমান্ত হত্যা সবকিছুই সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সম্প্রসারণবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। বৃহত্তর ভারত কায়েমের পরিকল্পনার অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যাদের পুশইন করছে তাদের পরিচয় যাচাই করছে এবং এন্ট্রি করে রাখছে। কিন্তু বাংলাদেশকে এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিচ্ছে না বরং পুশইন করছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ভারত এই কাজ করে চলেছে। বাংলাদেশ সরকারকে পুশইনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করতে হবে ।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরাবতার কঠোর সমালোচনা করে সীমান্তে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদ সংগঠিত করার আহ্বান জানান হয়।
এসএন/