এলপি গ্যাস এখন শহর-গ্রাম উভয় এলাকার রান্নার প্রধান শক্তি। নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ এবং শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তাই এর দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বও। সরকার দাম ঘোষণা করলেও বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না। অনেক বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করেন বা সরবরাহ সীমিত রাখেন। ফলে ঘোষিত দাম কেবল কাগুজে ঘোষণা হয়ে যায় এবং ভোক্তা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারি দাবি—সংকট কৃত্রিম। তবে এটি নতুন নয় এবং এর দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয়; দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের দুর্বলতাকেই এটি নির্দেশ করে।
ভোক্তা সবচেয়ে দুর্বল। নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মী অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলতে পারেন না। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা যেমন—জার্মানি ও জাপান প্রমাণ করে, পরিকল্পনা ও তদারকি থাকলে সংকট এড়ানো সম্ভব। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন সরবরাহ ও মজুতের স্বচ্ছ তথ্য, বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। রাষ্ট্রের প্রকৃত পরীক্ষা শুধু দাম নির্ধারণ নয়; তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]