ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিদেশে শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে: অর্থমন্ত্রী নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত থাকবে: অর্থমন্ত্রী ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬ সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রামিসা ও নূরজাহান হত্যা: আমাদের মূল্যবোধের পচন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ভাঙ্গায় কৃষকদল নেতাকে থানার মধ্যে মারধরের অভিযোগ নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, ভ্যানচালক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে দিনের বেলা প্রকাশ্যে যুবককে গুলি, ভিডিও ভাইরাল উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করল বিজিবি ট্রাম্পের চুক্তি যে কারণে নস্যাৎ করতে চান নেতানিয়াহু ধর্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু হাইকোর্টে জামিন পেলেও জেলগেটে ফের গ্রেপ্তার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রুয়েটে আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থী আটক গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু দক্ষতার সঙ্গে টিম পরিচালনার কিছু পরামর্শ রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল রাব্বানীর ‌‌'সাঁতার' সাইবার সুরক্ষায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা: জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা
Nagad desktop

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় ‘না’ বলাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। শৈশব থেকেই আমাদের শেখানো হয় বড়দের আদেশ-নির্দেশ বিনা বাক্যে মেনে নিতে। ফলে সমাজ, পরিবার কিংবা কর্মক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিক কারণেও ‘না’ বললে সেটিকে অনেক সময় ঔদ্ধত্য, অসম্মান বা দায়িত্বহীনতা হিসেবে তকমা দেওয়া হয়। তথাকথিত ভালো মানুষ হওয়ার এ নিরন্তর চেষ্টায় আমরা নিজেদের ওপরই জুলুম করে ফেলি। উদাহরণস্বরূপ, অফিসে নিজের নির্ধারিত কাজের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্বের পাহাড় যখন বিনাবাক্যে মেনে নেওয়া হয়, তখন তা কেবল কর্মদক্ষতাকেই হ্রাস করে না, বরং প্রবল অবসাদ সৃষ্টি করে। এর ফলে একজন মানুষ নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সীমানা হারিয়ে ফেলেন।

সঠিক সময়ে ‘না’ বলার সক্ষমতা আত্মবিশ্বাস ও সাহসিকতার পরিচায়ক। এটি মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে সাহায্য করে। একজন ব্যক্তি যখন জানেন তিনি ঠিক কতটুকু চাপ নিতে পারবেন এবং কোন কাজটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, তখন তার জন্য জীবন সহজ হয়ে ওঠে। যিনি নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন এবং বাস্তবতাকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেন, তিনিই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারেন।

‘না’ বলতে পারা কেবল একটি কৌশল নয়, বরং এটি আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ় চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে এ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। জীবনের অপ্রয়োজনীয় জায়গায় ‘না’ বলার সাহস সঞ্চয় করেই আমরা প্রকৃত সাফল্য এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারি।

মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন স্নেহা
মার্কেটিং বিভাগ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী
সহযোগী সদস্য, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার ইউনিটি 
[email protected]

উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

দেশের পরিস্থিতি ও পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে নিত্যদিনের ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। দেশের নানা আবেগময় ঘটনার বর্ণনা সামনে এলেও অধিকাংশই হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে দেশের মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যুতে উচ্চশিক্ষার ওপর প্রশ্ন উঠে যায়। শেষ জীবনে এসে বৃদ্ধা মা পাইনি কোনো সন্তানদের যত্ন। অযত্ন আর অবহেলায় জীবনের শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত অবস্থায় একই রুমে পড়ে রইলেন ৫-৭ দিন। জানতেন না কেউ। অথচ, সন্তানরা হলেন একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন সচিব ও একজন কানাডা প্রবাসী। দেখা যাচ্ছে সন্তানরা ঠিকই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন এবং ভালো অবস্থানেও আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল নৈতিকতার বড়ই অভাব। নীতিহীন আদর্শ ও উচ্চশিক্ষার কোনো অর্থ নেই। অতএব, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আগে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত।

আবদুর রশীদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি
[email protected]

সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য সমুদ্রের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্র শুধু জলরাশির আধার নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকা, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম ভিত্তি। সমুদ্রকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। কারণ সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও শৈবাল পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন করে। এ ছাড়া কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকার উৎস হলো সমুদ্র। মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, খনিজ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে সমুদ্র নানা হুমকির সম্মুখীন। প্লাস্টিক বর্জ্য, শিল্পদূষণ, তেল নিঃসরণ, অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রে জমা হওয়া প্লাস্টিক মাছ, কচ্ছপ, ডলফিনসহ অসংখ্য প্রাণীর জীবন বিপন্ন করছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন, লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ডেকে আনছে। সমুদ্র রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সামুদ্রিকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব সমুদ্র দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক–সমুদ্র দূষণমুক্ত রাখা, পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া। কারণ সুস্থ সমুদ্রই সুস্থ পৃথিবীর ভিত্তি, আর সুস্থ পৃথিবীই নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।

নজরুল ইসলাম
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected] 

গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

সামাজিক মাধ্যমে আজকাল গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান দিতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরতদের বিস্তর তফাৎ রয়েছে। গোয়েন্দাদের (এজেন্ট) সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রয়োজন। এমনকি তাদের কোনো প্রকার উর্দি থাকাও উচিত নয়। সমাজ কিংবা আশপাশের কেউ যেন তাদের সম্বন্ধে জানতে বা আঁচ করতে না পারে। এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োগ কবে হয়েছে তাও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয়। ব্যাপারটা বেশ কঠিন হলেও, এতে তাদেরই কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সাধারণের বেশে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রবেশ করে যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, গোয়েন্দা পরিচয়ে তা কঠিন হতে পারে! গোয়েন্দাদের মূলত জনসাধারণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা আজকাল ফেসবুকে নিজের নাম-পরিচয় জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে পরবর্তীতে তিনি কোথাও তদন্ত বা অনুসন্ধানের কাজে গেলে সবার সতর্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফাঁকতালে আসল অপরাধীরা সটকে পড়ে গা ঢাকা দিতে পারে।

সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ডিবি পুলিশ অতীতে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে! এমনকি ডিবি হারুন নিজেও মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন! গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার নামে হারুন অর রশীদ ডিবি কার্যালয়ে গড়ে তুলেছিলেন আলোচিত ‘ভাতের হোটেল’! সেখানে নিমন্ত্রণ পেতেন রাজনীতিবিদ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী! আর এসব ইস্যুতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আর হারিয়েছে তার ভাবমূর্তি। 

আসিফ আল মাহমুদ 
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected] 

মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা

ঢাকা শহরে যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য মেট্রোরেলের আবির্ভাব অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে নগরবাসীকে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দ্রুতগামী, নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব এ মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তার কোনো জুড়ি নেই।

অথচ রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও আশপাশের এলাকা দিন দিন অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। মলমূত্র, আবর্জনা, ফুটপাতের দোকান, হকার, ভিক্ষুক ও অবৈধ যানবাহনের দখলে অনেক স্টেশনের প্রবেশপথ সংকুচিত ও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে গরুর হাট বসানো এবং মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্টেশনের নিচের বেহাল অবস্থা নগরবাসীকে হতাশ করছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ডিএমপি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ী। অথচ প্রতিদিন লাখো যাত্রীকে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে মেট্রোরেল। তাই স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রবেশপথ দখলমুক্ত করা এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী 
গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক
১৭ ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১২০৪
[email protected]

এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ

বাংলাদেশ–কেবল একটি মানচিত্র বা ভূখণ্ডের নাম নয়, এটি কোটি প্রাণের স্পন্দন, অজস্র ত্যাগের মহাকাব্য। যে মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত আর লাখো মায়ের সম্ভ্রমের মূল্য, সেই মাটির সন্তান হতে পারা পরম সৌভাগ্যের। এ দেশের সবুজ শস্যখেত, আঁকাবাঁকা নদী আর ভোরের দোয়েলের শিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কতটা সমৃদ্ধ এক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। বাঙালি আবেগপ্রবণ জাতি, আর এই আবেগের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে দেশপ্রেমে। সংকটে ও সংগ্রামে আমরা বারবার প্রমাণ করেছি, বুক পেতে বুলেট নেওয়া বুকগুলো কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না। একাত্তরের সেই অবিনশ্বর চেতনা আজও আমাদের ধমনিতে প্রবাহিত। তবে আজকের দিনে এসে বুকটা তীব্র অভিমানেও ভরে ওঠে। যখন দেখি আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলায় হানাহানি, দুর্নীতি আর বৈষম্যের কালো ছায়া পড়ে, তখন মনে হয়–এটাই কি চেয়েছিলেন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা? বাংলাদেশ আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের অহংকার। শত প্রতিকূলতার মাঝেও এ দেশের মেহনতি মানুষ যেভাবে হাসিমুখে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়, তা বিশ্বের বুকে এক অনন্য নজির। আসুন, ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে এই প্রিয় মাতৃভূমিকে সত্যি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাই। আমাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ যেন দেশের চেয়ে বড় না হয়। কারণ, বাংলাদেশ ভালো থাকলেই, ভালো থাকব আমরা সবাই।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট 
[email protected]