ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ৪ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার
Nagad desktop

নেতা নয়, চাই নীতির পরিবর্তন

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
নেতা নয়, চাই নীতির পরিবর্তন

ব্যক্তি বদল নয়, আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হওয়া উচিত নীতির আমূল পরিবর্তন। যুগে যুগে আমরা অসংখ্য নেতা বদলেছি, মঞ্চের মুখ পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের চাকা খুব একটা ঘোরেনি। এর মূল কারণ হলো, আমরা ব্যক্তির মোহে অন্ধ হয়ে কাঠামোগত সংস্কারের কথা ভুলে যাই। একজন নেতার বিদায়ের পর যখন অন্য একজন আসেন, তখন যদি পুরোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা এবং সুবিধাবাদী নীতিই বহাল থাকে, তবে শোষণের ধরন বদলায় মাত্র, শোষণ বন্ধ হয় না। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক নীতি, যেখানে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড় হবে। নীতি যদি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ হয়, তবে যে কেউ নেতৃত্বে আসুক না কেন, রাষ্ট্র তার আপন গতিতে ন্যায়ের পথে চলবে। নেতার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর যখন একটি দেশ বা সমাজ পরিচালিত হয়, তখন সেখানে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয়। পক্ষান্তরে, নীতি যদি হয় জবাবদিহিমূলক, তবে ক্ষমতা কারও ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হতে পারে না। আমরা এমন এক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি যেখানে আইন সবার জন্য সমান হবে, মেধার মূল্যায়ন হবে এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো ফাঁকফোকর থাকবে না। নেতা আজ আছেন কাল নেই, কিন্তু একটি আদর্শিক ও বলিষ্ঠ নীতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সুফল বয়ে আনে। তাই ব্যক্তিপূজা ছেড়ে আমাদের এখন সময়োপযোগী ও বৈষম্যহীন নীতি প্রণয়নের দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। আদর্শহীন নেতৃত্বের চেয়ে নেতৃত্বহীন আদর্শও অনেক সময় বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট 
[email protected]

উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

দেশের পরিস্থিতি ও পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে নিত্যদিনের ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। দেশের নানা আবেগময় ঘটনার বর্ণনা সামনে এলেও অধিকাংশই হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে দেশের মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যুতে উচ্চশিক্ষার ওপর প্রশ্ন উঠে যায়। শেষ জীবনে এসে বৃদ্ধা মা পাইনি কোনো সন্তানদের যত্ন। অযত্ন আর অবহেলায় জীবনের শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত অবস্থায় একই রুমে পড়ে রইলেন ৫-৭ দিন। জানতেন না কেউ। অথচ, সন্তানরা হলেন একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন সচিব ও একজন কানাডা প্রবাসী। দেখা যাচ্ছে সন্তানরা ঠিকই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন এবং ভালো অবস্থানেও আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল নৈতিকতার বড়ই অভাব। নীতিহীন আদর্শ ও উচ্চশিক্ষার কোনো অর্থ নেই। অতএব, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আগে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত।

আবদুর রশীদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি
[email protected]

সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য সমুদ্রের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্র শুধু জলরাশির আধার নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকা, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম ভিত্তি। সমুদ্রকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। কারণ সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও শৈবাল পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন করে। এ ছাড়া কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকার উৎস হলো সমুদ্র। মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, খনিজ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে সমুদ্র নানা হুমকির সম্মুখীন। প্লাস্টিক বর্জ্য, শিল্পদূষণ, তেল নিঃসরণ, অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রে জমা হওয়া প্লাস্টিক মাছ, কচ্ছপ, ডলফিনসহ অসংখ্য প্রাণীর জীবন বিপন্ন করছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন, লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ডেকে আনছে। সমুদ্র রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সামুদ্রিকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব সমুদ্র দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক–সমুদ্র দূষণমুক্ত রাখা, পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া। কারণ সুস্থ সমুদ্রই সুস্থ পৃথিবীর ভিত্তি, আর সুস্থ পৃথিবীই নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।

নজরুল ইসলাম
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected] 

গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

সামাজিক মাধ্যমে আজকাল গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান দিতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরতদের বিস্তর তফাৎ রয়েছে। গোয়েন্দাদের (এজেন্ট) সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রয়োজন। এমনকি তাদের কোনো প্রকার উর্দি থাকাও উচিত নয়। সমাজ কিংবা আশপাশের কেউ যেন তাদের সম্বন্ধে জানতে বা আঁচ করতে না পারে। এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োগ কবে হয়েছে তাও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয়। ব্যাপারটা বেশ কঠিন হলেও, এতে তাদেরই কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সাধারণের বেশে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রবেশ করে যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, গোয়েন্দা পরিচয়ে তা কঠিন হতে পারে! গোয়েন্দাদের মূলত জনসাধারণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা আজকাল ফেসবুকে নিজের নাম-পরিচয় জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে পরবর্তীতে তিনি কোথাও তদন্ত বা অনুসন্ধানের কাজে গেলে সবার সতর্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফাঁকতালে আসল অপরাধীরা সটকে পড়ে গা ঢাকা দিতে পারে।

সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ডিবি পুলিশ অতীতে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে! এমনকি ডিবি হারুন নিজেও মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন! গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার নামে হারুন অর রশীদ ডিবি কার্যালয়ে গড়ে তুলেছিলেন আলোচিত ‘ভাতের হোটেল’! সেখানে নিমন্ত্রণ পেতেন রাজনীতিবিদ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী! আর এসব ইস্যুতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আর হারিয়েছে তার ভাবমূর্তি। 

আসিফ আল মাহমুদ 
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected] 

মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা

ঢাকা শহরে যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য মেট্রোরেলের আবির্ভাব অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে নগরবাসীকে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দ্রুতগামী, নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব এ মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তার কোনো জুড়ি নেই।

অথচ রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও আশপাশের এলাকা দিন দিন অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। মলমূত্র, আবর্জনা, ফুটপাতের দোকান, হকার, ভিক্ষুক ও অবৈধ যানবাহনের দখলে অনেক স্টেশনের প্রবেশপথ সংকুচিত ও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে গরুর হাট বসানো এবং মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্টেশনের নিচের বেহাল অবস্থা নগরবাসীকে হতাশ করছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ডিএমপি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ী। অথচ প্রতিদিন লাখো যাত্রীকে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে মেট্রোরেল। তাই স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রবেশপথ দখলমুক্ত করা এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী 
গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক
১৭ ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১২০৪
[email protected]

এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ

বাংলাদেশ–কেবল একটি মানচিত্র বা ভূখণ্ডের নাম নয়, এটি কোটি প্রাণের স্পন্দন, অজস্র ত্যাগের মহাকাব্য। যে মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত আর লাখো মায়ের সম্ভ্রমের মূল্য, সেই মাটির সন্তান হতে পারা পরম সৌভাগ্যের। এ দেশের সবুজ শস্যখেত, আঁকাবাঁকা নদী আর ভোরের দোয়েলের শিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কতটা সমৃদ্ধ এক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। বাঙালি আবেগপ্রবণ জাতি, আর এই আবেগের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে দেশপ্রেমে। সংকটে ও সংগ্রামে আমরা বারবার প্রমাণ করেছি, বুক পেতে বুলেট নেওয়া বুকগুলো কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না। একাত্তরের সেই অবিনশ্বর চেতনা আজও আমাদের ধমনিতে প্রবাহিত। তবে আজকের দিনে এসে বুকটা তীব্র অভিমানেও ভরে ওঠে। যখন দেখি আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলায় হানাহানি, দুর্নীতি আর বৈষম্যের কালো ছায়া পড়ে, তখন মনে হয়–এটাই কি চেয়েছিলেন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা? বাংলাদেশ আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের অহংকার। শত প্রতিকূলতার মাঝেও এ দেশের মেহনতি মানুষ যেভাবে হাসিমুখে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়, তা বিশ্বের বুকে এক অনন্য নজির। আসুন, ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে এই প্রিয় মাতৃভূমিকে সত্যি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাই। আমাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ যেন দেশের চেয়ে বড় না হয়। কারণ, বাংলাদেশ ভালো থাকলেই, ভালো থাকব আমরা সবাই।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট 
[email protected]