দিন দিন দেশে মশার উপদ্রব যেভাবে বাড়ছে, তা এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মশার প্রকোপ যদি দ্রুত কমানো না হয়, তাহলে পরিস্থিতি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং অনেকের মৃত্যুও ঘটেছে। ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু অস্বস্তির নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী বর্ষা এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার কারণে মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অযত্নে পড়ে থাকা জলাধারগুলো মশার জন্য আদর্শ প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যদি প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব যুক্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠা স্বাভাবিক। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মাঝে মশা নিধনের জন্য মশানাশক ও ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয়। এই ফগার মেশিন ধোঁয়ার মাধ্যমে মশা ধ্বংস করার কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক আবাসিক এলাকায় বছরে একবার বা খুব সীমিত সময়ের জন্য এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা সমস্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। মশার প্রকোপ কমাতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা এবং নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ- উভয়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ওরাইনা খাঁন চৌধুরী
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]