ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্যারাগুয়ে বনাম তুরস্ক ম্যাচে যে কারনে মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হলো অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

হক আদায়ের গুরুত্ব

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৬ এএম
হক আদায়ের গুরুত্ব
অধিকার লেখা ছবি। সংগৃহীত

মানুষের অধিকার রক্ষায় ইসলামি শরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে হাক্কুল ইবাদ—যা বান্দার অধিকার বা মানবাধিকার হিসেবে পরিচিত। বান্দার অধিকার মানে একজন মুসলিমের পক্ষে অপর মুসলিমের যাবতীয় অধিকার নষ্ট না করা, কষ্ট না দেওয়া, বিপদাপদে পাশে দাঁড়ানো এবং পরস্পর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া প্রভৃতি। মানুষের অধিকার আদায়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক। হাক্কুলাহ তথা আল্লাহর অধিকার যেমন নামাজ, রোজা ইত্যাদি লঙ্ঘনে বান্দার কোনো ত্রুটি থাকলে মহান আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু হাক্কুল্লাহ ইবাদ তথা বান্দার হক লঙ্ঘনে যদি বান্দা ক্ষমা না করে, তা হলে আল্লাহও ক্ষমা করবেন না। 


কোনো মুসলিম যদি তার ভাইকে কষ্ট না দেয়, বিপদাপদে এগিয়ে আসে এবং দুঃখ-দুর্দশা দূর করার মাধ্যমে মানবসেবায় ভূমিকা পালন করে, তার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরস্কার ঘোষণা করে বলেছেন, ‘যে তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন। একইভাবে যিনি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যিনি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)


রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে মুসলিম কোনো বস্ত্রহীন মুসলিমকে কাপড় পরাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ পোশাক পরাবেন। যে মুসলিম কোনো অভুক্ত মুসলমানকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফলফলাদি খাওয়াবেন...।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৮২)


মানুষকে কষ্ট দেওয়া গুনাহের কাজ। সেটা কথা, কাজ কিংবা অন্য যেকোনো মাধ্যমে হোক না কেন। প্রকৃত মুমিন-মুসলমান কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। সে সব সময় মানুষের কল্যাণ কামনা করবে। মানুষের ভালো চাইবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সব মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০)


হাক্কুল ইবাদ হিসেবে একজন মুসলিমের প্রতি অন্যান্য মুসলিমের কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, এ ব্যাপারেও ইসলামে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে; যা মানা সবার জন্য অবশ্য কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক মুমিনের জন্য আরেক মুমিনের ওপর ছয়টি হক রয়েছে। যথা—১. সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে, ২. মারা গেলে তার জানাজায় উপস্থিত হবে, ৩. ডাকলে তাতে সাড়া দেবে, ৪. তার সঙ্গে দেখা হলে তাকে সালাম করবে, ৫. সে হাঁচি দিলে তার জবাব দেবে এবং ৬. তার অনুপস্থিতি কিংবা উপস্থিতি সব অবস্থায় তার শুভ কামনা করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৩৭) 


রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন এর প্রতি সচেষ্ট ছিলেন, তেমনি এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে অবস্থান করে সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব প্রদানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর ধোঁকাবাজি করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অগোচরে শত্রুতা করো না এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৪৩৫) 


আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বান্দার অধিকার রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এ অধিকার আদায়ে সবার সচেষ্ট থাকা উচিত। কোনো কারণে যদি লঙ্ঘিত হয়, তা হলে জীবিতাবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে এর হক পূর্ণ করা আবশ্যক। তবেই দুনিয়ার জীবন যেমন মঙ্গলময় হবে, তেমনি আখেরাত হবে কল্যাণকর। কিয়ামতের দিনে বান্দার সব কাজের বিচারকাজ সংঘটিত হবে। আল্লাহ আমাদের সব ধরনের হক আদায়ের তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২০ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
ছবি: সংগৃহীত

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ যেন ফলের এক অফুরন্ত ভান্ডার। বছরজুড়ে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় বাজারের ফলের ডালি। প্রতিটি মৌসুম নিয়ে আসে নতুন স্বাদ, নতুন পুষ্টি। এই বৈচিত্র্য নিছক প্রকৃতির খেলা নয়, বরং মহান আল্লাহর অপার দয়ার নিদর্শন।

পবিত্র কোরআনে ফলকে আল্লাহ বারবার তার নেয়ামত হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা দিয়ে উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর, আঙুর এবং সব ধরনের ফল।’ (সুরা নাহল, ১১)। অন্যত্র মানুষকে নিজের খাবারের প্রতি দৃষ্টি দিতে বলে আল্লাহ আঙুর, খেজুর, বাগান ও ফলের কথা উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন, ‘এসব তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবনোপকরণস্বরূপ।’ (সুরা আবাসা, ২৪-৩২)। প্রতিটি মৌসুমি ফল তাই আল্লাহরই দান, যা চিন্তাশীল মানুষকে তার কুদরতের কথা স্মরণ করায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে মৌসুমি ফল খেতেন এবং তা উপভোগ করতেন। বর্ণিত আছে, তিনি তরমুজ পাকা খেজুরের সঙ্গে খেতেন (আবু দাউদ, ৩৮৩৬; তিরমিজি, ১৮৪৩)। তিনি শসা খেতেন পাকা খেজুরের সঙ্গে (বুখারি, ৫৪৪০; মুসলিম, ২০৪৩) বিশেষভাবে, মৌসুমের প্রথম ফল হাতে পেলে নবিজি (সা.) আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করে এই দোয়া পড়তেন–আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি সামারিনা, ওয়া বারিক লানা ফি মাদিনাতিনা...—হে আল্লাহ! আমাদের ফলে বরকত দিন, আমাদের শহরে বরকত দিন...। এরপর তিনি ফলগুলো উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুর হাতে তুলে দিতেন (মুসলিম, ১৩৭৩)। এ থেকে শেখা যায়, নতুন ফল পেলে কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার সুন্নাহ।

নেয়ামত ভোগের পর শুকরিয়া আদায় ঈমানের দাবি। আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা খাও এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।’ (সুরা বাকারা, ১৭২)। আর শুকরিয়ার প্রতিদান বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন, এরশাদ করেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞ হও, অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম, ৭)। তাই প্রতিটি মৌসুমি ফল মুখে দেওয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ আর শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আমরা যেন স্মরণ করি–এ স্বাদ, এ পুষ্টি সবই আল্লাহর দান। আল্লাহ আমাদের তার নেয়ামতের কদর করার ও যথাযথ শুকরিয়া আদায়ের তওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যান। কিন্তু সেবার মান, এজেন্সির স্বচ্ছতা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বাংলাদেশ থেকে কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব নাকি অসম্ভব, প্রতিবন্ধকতা কী কী—এসব নিয়েই ট্রাভেল সেবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উমরা সেবা ও মনির গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উমরা সেবা নিয়ে এত সমালোচনা কেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: সততার সঙ্গে স্বীকার করছি, সমালোচনার কিছু ভিত্তি আছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে এ সেক্টরে ‘যত কম খরচে যত বেশি যাত্রী নেওয়া যায়’ এমন একটা মানসিকতা কাজ করেছে। আর যখন কম খরচে বেশি যাত্রী নেওয়ার মানসিকতা কাজ করবে, তখন সেবার মান গৌণ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ প্রশিক্ষিত গাইড, নির্দিষ্ট মানের হোটেল এবং প্যাকেজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সুনাম কুড়িয়েছে। আমরা সে জায়গায় পিছিয়ে। আমাদের উমরা প্যাকেজ বিভিন্ন অস্বচ্ছতায় মোড়ানো থাকে। তবে এগুলো অযোগ্যতার সমস্যা নয়, ব্যবস্থাপনার সমস্যা, যা খুব সহজেই ঠিক করা সম্ভব।

বিমান টিকিট ও ফ্লাইট নিয়ে অভিযোগ আসে, এ ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বড় অভিযোগ হলো শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিবর্তন করা বা দীর্ঘ ট্রানজিট চাপিয়ে দেওয়া। অনেক যাত্রী জানেনই না তিনি কোন বিমানে যাচ্ছেন, কত ঘণ্টার ট্রানজিট বিরতিতে যাচ্ছেন। আমরা চুক্তির সময়ই বিমানের নাম, রুট ও ট্রানজিটের সময়সহ সব আলোচনা লিখিতভাবে জানিয়ে দিই। বয়স্ক যাত্রীদের জন্য যথাসম্ভব সরাসরি বা স্বল্প-ট্রানজিট ফ্লাইট রাখি, কারণ দীর্ঘ যাত্রা তাদের শরীরে মারাত্মক চাপ ফেলে।

হোটেল ও আবাসন নিয়ে সবচেয়ে পুরোনো অভিযোগ হলো—যে মানের হোটেল দেওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে নিম্নমানের হোটেল দিয়েছে। এর সমাধান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: উমরা সফরের সবচেয়ে বড় ফাঁকি হলো এটি। অনেকে হারামের কাছে বলে বাস্তবে কয়েক কিলোমিটার দূরে রাখেন। এখন নুসুকের নিয়মে কেবল মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হোটেলই ব্যবহার করতে হয়, আর বুকিং ডিজিটালি নথিভুক্ত হয়–ফলে মিথ্যা বলার সুযোগ কমেছে। আমরা হোটেলের নাম, হারাম থেকে দূরত্ব ও গুগল ম্যাপের লিংক যাত্রীকে আগেই দিই, যেন নিজে যাচাই করতে পারেন।

খাবার নিয়ে যাত্রীদের, বিশেষত বয়স্কদের অভিযোগ থাকে। এ বিষয়ে কী করছেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: ভিনদেশি খাবারে অনেকেরই, বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট হয়। আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাংলা ঘরানার খাবার–ভাত, ডাল, মাছ-মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা রাখি এবং খাবারের মান নিয়মিত তদারকি করি। ইবাদতের পূর্ণ শক্তি ধরে রাখতে সুস্থ শরীর জরুরি, তার ভিত্তিই হলো ভালো খাবার।

ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও গাইড বা মুয়াল্লিম সেবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মো. মনিরুল ইসলাম: এটিই উমরার প্রাণ। অনেকে জীবনে প্রথমবার যান, ইহরাম-তাওয়াফ-সাঈর নিয়ম ঠিকমতো জানেন না। আমরা যাত্রার আগে দেশে প্রশিক্ষণ করাই এবং সঙ্গে প্রশিক্ষিত মুয়াল্লিম দিই, যিনি প্রতিটি ধাপে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম শেখান। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়িকা ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা হয়।

প্যাকেজের দাম ও লুকানো খরচ নিয়ে বড় অভিযোগ। স্বচ্ছতা কীভাবে আসবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: লুকানো খরচই আমাদের এ খাতের সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট। এ থেকে বেরিয়ে আশা আবশ্যক। কারণ, উমরা সাধারণ কোনো সফর না, এটি ইবাদতের সফর। সুতরাং এ সফরে কোনো কিছু লুকানো থাকা উচিত না। 

আমরা চুক্তিপত্রে ভিসা, বিমান, হোটেল, খাবার, পরিবহন, জিয়ারত–প্রতিটি খাত আলাদা করে লিখে দিই; পরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। যাত্রী আগেই জানেন তিনি কী পাচ্ছেন, কত টাকায়। স্বচ্ছতাই দীর্ঘমেয়াদে আস্থা তৈরি করে, আর আস্থাই এ ব্যবসার মূলধন।

আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কী কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানতম সমস্যা হলো যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ, যারা ভালো মানের উমরা সেবা দেন বলে বিশ্বে স্বীকৃত তারা যাত্রীদের উন্নতমানের ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সফরে পাঠান। আমাদের দেশে এ প্রশিক্ষণের প্রচণ্ড অভাব। যারা কিছু প্রশিক্ষণ দেন, তাও যথেষ্ট নয়। 

এছাড়া আরেকটি সমস্যা হলো, উমরা সেবাকে নিছক বাণিজ্যিকীকরণ মানসিকতা। ব্যবসা করা তো হলাল, তবে উমরা সেবাকে নিছক ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করার কারণে মানসিকতাগত ঘাটতি ঘটে এবং এর ফলে যাত্রীরা প্রতারিত হন। 

বাংলাদেশ কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দিতে পারবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: অবশ্যই পারবে, এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমাদের যাত্রীর সংখ্যা বিশাল, চাহিদাও প্রবল। দরকার শুধু জবাবদিহি, প্রশিক্ষণ আর সততা। সরকার ও হাব যদি কেবল লাইসেন্সধারী, যাচাই করা এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেয়, অসাধুদের কঠোরভাবে দমন করে, আর আমরা মালিকরা মুনাফার আগে যাত্রীর মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিই; তাহলে মালয়েশিয়া কেন, যেকোনো দেশের সম সেবা বাংলাদেশ দিতে পারবে। মনে রাখতে হবে, আমরা শুধু পর্যটক পাঠাচ্ছি না, আল্লাহর মেহমান পাঠাচ্ছি। এই দায়িত্ববোধটুকু জাগলেই বাংলাদেশের উমরা সেবা বিশ্বসেরা হবে, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়
ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষ হয়। নতুন বছর আসে। কিন্তু আরবি নববর্ষের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়। এটি একটি ডাক, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দার দিকে ডাক। নতুন করে শুরু করার, পুরোনো গুনাহ ঝেড়ে ফেলার, আর তার দিকে ফিরে আসার ডাক। কেননা আরবি ১২ মাসের প্রথম মাস, মুহাররম, কোনো সাধারণ মাস নয়। এটি স্বয়ং আল্লাহর মাস। মুহাররম শব্দটি আরবি হারাম ধাতু থেকে এসেছে, অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। নামের মধ্যেই এই মাসের মর্যাদার ইঙ্গিত।

ইসলামপূর্ব আরবেও এই মাসকে সম্মান করা হতো। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত, রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল। ইসলাম এসে সেই মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের গণনা শুরু করেন। তিনি মুহাররমকেই এই নতুন সনের প্রথম মাস নির্ধারণ করেন।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি, আল্লাহর কিতাবে, যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এই মাসগুলোয় তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা: ৩৬)। এই চারটি সম্মানিত মাস হলো, মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মাসগুলোয় গুনাহের ভার বহুগুণ বেশি, তেমনি নেক আমলের প্রতিদানও বহুগুণ বেশি। মানুষ যেন সারা বছর পাপ করে এই মাসে এসে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। (মুসলিম: ১১৬৩) ইবনে রজব (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন অত্যন্ত চমৎকার কথা–আল্লাহতায়ালা শুধু সেই সত্তা বা বস্তুকেই নিজের দিকে সম্বন্ধিত করেন, যা তার কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার, যেভাবে তিনি তার নবিদের আবদুল্লাহ বলেছেন, কাবাকে বায়তুল্লাহ বলেছেন, আর উষ্ট্রীকে নাকাতুল্লাহ বলেছেন। সেই একই সম্মানে মুহাররমকে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ, আল্লাহর মাস। আর যেহেতু রোজাকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এটি আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব, তাই এই মাসে রোজা রাখার মর্যাদা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মুহাররমের দশম দিন, আশুরা। আরবি আশারা থেকে এই নাম, অর্থ দশ। এই একটি দিনে আল্লাহতায়ালা একাধিকবার তার অসীম রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় ঘটনা, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সমুদ্র দুই ভাগ হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ পার হয়েছিল। আর পেছনে ফেরাউন তার বাহিনীসহ সেই পানিতেই ডুবে গিয়েছিল। ইতিহাসের সেই বিস্ময়কর দৃশ্যের কথা কল্পনা করুন, একটি অসহায় জাতির মুক্তি, একটি অহংকারী জালিমের পতন। এই দিনেই! হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? তারা বলল, এটা মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ মুসা ও তার সম্প্রদায়কে রক্ষা করেছেন, ফেরাউনকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অধিক হকদার। তখন তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে বললেন। (বুখারি: ২০০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম: ১১৬২), এক বছরের ছোট গুনাহ! শুধু একটি রোজার বিনিময়ে। এই সুযোগ কি হাতছাড়া করতে পারে?

তবে শুধু দশম তারিখে রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে মিল হয়ে যায়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, পরের বছর বেঁচে থাকলে আমি নবম তারিখেও রোজা রাখব। (মুসলিম: ১১৩৪), পরের বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। 

মুহাররমে করণীয় আমল

অধিক নফল রোজা রাখা। গোটা মুহাররম মাসই নফল রোজার জন্য বিশেষ। ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিলহজ মাসে রোজা রেখে বছর শেষ করল এবং মুহাররমে রোজা রেখে বছর শুরু করল, তার পুরো বছরটি ইবাদতের মধ্যে ধরা যায়।

তওবা ও ইস্তেগফার বাড়ানো। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পুরোনো গুনাহের বোঝা ঝেড়ে ফেলুন। মাসটি আল্লাহর মাস, তাই তার কাছে বেশি বেশি ফিরে আসুন। প্রতিটি সন্ধ্যায় একটু সময় রাখুন হিসাব-নিকাশের, গত বছর কী হারিয়েছি, এই বছর কী পাওয়ার চেষ্টা করব।

নেক আমলে মনোযোগী হওয়া। সম্মানিত মাসে নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বেশি। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, সদকা–সবকিছুতে মনোযোগ বাড়ান। ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্মান দিয়েছেন, জ্ঞানীরা সেটাকে সম্মান করে।

পরিবারের জন্য খরচ বাড়ানো। একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য প্রশস্ত খরচ করে, আল্লাহ সারা বছর তার রিজিকে প্রশস্ততা দেন। তবে এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে দুর্বল। তাই এটি ফজিলতের আমল হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও একে মজবুত ভিত্তিতে প্রচার করা ঠিক নয়।

মুহাররমে বর্জনীয় বিষয়

নিজেদের ওপর জুলুম করা। আল্লাহ নিজেই সুরা তাওবায় সতর্ক করেছেন, এই মাসে নিজেদের প্রতি অন্যায় করো না। পাপাচারে জড়ানো, হক নষ্ট করা, এগুলো অন্য মাসেও হারাম, কিন্তু এই মাসে আরও বেশি গুরুতর।

মাতম ও বুকে বাড়ি মারা। হজরত হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে বুকে বাড়ি মারা, শোকমিছিল বের করা, নিজেকে আঘাত করা, এগুলো ইসলামের নির্দেশ নয়, বরং জাহেলি প্রথা। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গালে থাপ্পড় দেয়, কাপড় ছেঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে। (বুখারি: ১২৯৪; মুসলিম: ১০৩) হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রিয় পুত্র ইউসুফকে হারিয়ে কাঁদতেন, তার চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি বুকে বাড়ি মারেননি, জামা ছেঁড়েননি। বেদনা প্রকাশের ইসলামসম্মত পথ হলো ধৈর্য আর দোয়া।

আশুরাকে বিশেষ উৎসব বানানো। কেউ কেউ এই দিন বিশেষ খাবার রান্না করে, উৎসব পালন করে, এরও কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, এই দিনকে কেউ শোকের দিন বানায়, কেউ উৎসবের দিন বানায়, দুটোই বিদআত।

মুহাররমকে অশুভ মাস মনে করা। অনেকে মনে করেন এই মাসে বিয়ে-শাদি বা শুভ কাজ করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ইসলামে এর কোনো প্রমাণ নেই।

৬১ হিজরির মুহাররমের দশম তারিখ। ইরাকের কারবালার মাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, ফাতেমা (রা.)-এর কলিজার টুকরা, হজরত হুসাইন (রা.) সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হয়েছিলেন। সেই ত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরকালের অনুপ্রেরণা। তাকে ভালোবাসা ঈমানের দাবি, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তার পথে চলার মধ্যে, মাতম আর শোকমিছিলে নয়। মুহাররম আমাদের দরজায় এসে দাঁড়ায় প্রতি বছর, একটাই বার্তা নিয়ে; নতুন করে শুরু করো। গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। আশুরার রোজা এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান পাথেয়। রমজান আসতে এখনো অনেক বাকি, কিন্তু এখনই একটি রোজা রাখলে এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

 

আজ ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজ সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (২০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন