আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরবদের জন্য মহা সর্বনাশ ধেয়ে আসছে। এক বোবা-অন্ধ-বধির ভয়ংকর ফেতনা। যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি থেকে উত্তম হবে। দণ্ডায়মান ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। হেঁটে চলা ব্যক্তি দৌড়ে চলা ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। যে ব্যক্তি সে সময় দৌড়াবে (অর্থাৎ ফেতনা সৃষ্টি ও অব্যাহত রাখবে) কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর কাছে প্রচণ্ড জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৬৭০৫)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অসংখ্য ফেতনা দেখা দেবে। উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। দণ্ডায়মান ব্যক্তি তাতে চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে; বরং যে ব্যক্তি সেই ফেতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে তাকেই সেটা গ্রাস করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য তখন কোনো আশ্রয়স্থল খুঁজে পায়, সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।’ (বুখারি, হাদিস: ৭০৮১)
আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ‘কিয়ামতের আগে অন্ধকার রাতের মতো ফেতনা সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করবে। সকালে মুমিন থাকা ব্যক্তি সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় মুমিন থাকা ব্যক্তি সকালে কাফের হয়ে যাবে। তাতে বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম গণ্য হবে। দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম গণ্য হবে। চলমান ব্যক্তি দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। এমন ফেতনার মাঝে পড়ে গেলে তোমরা তির ভেঙে ফেলো। ধনুক ছিঁড়ে ফেলো। তরবারিগুলো পাথরে আঘাত করে নষ্ট করে ফেলো। এরপরও যদি তোমাদের কারও ওপর আক্রমণ করা হয়, তবে সে যেন আদমের দুই সন্তানের মাঝে যে উত্তম (হাবিল) তার মতো হয়। (অর্থাৎ আঘাত না করে, সবর করে)।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৫৯)
আবু মুসা আশআরির আরেক বর্ণনায় এসেছে, ফেতনার কথা বলার পরে সাহাবিরা বললেন, সেই মুহূর্তে আমাদের করণীয় কী? আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘ঘরে বসে থাকো।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৬২)
এ ধরনের ফেতনার সময় মুখ খোলাও উচিত নয়। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ফেতনা থেকে দূরে থাকো। কারণ ফেতনার সময় মুখ চালানো মূলত তরবারি চালানো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৯৬৮)
আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফেতনা আসার পরে যার কাছে উট আছে, সে যেন উট নিয়ে দূরে কোথাও চলে যায়। যার কাছে ছাগল আছে, সে যেন ছাগল নিয়ে কোথাও চলে যায়। আর যার কাছে চাষের জমি আছে, সে যেন সেখানে চলে যায়।’ এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, কারও কাছে যদি উট, ছাগল কিংবা চাষের জমি কিছুই না থাকে? তিনি বললেন, ‘পাথরে আঘাত করে তরবারি ভোঁতা করে ফেলবে। যেকোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে।’ অতঃপর বললেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি পৌঁছে দিয়েছি। আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি আমি পৌঁছে দিয়েছি। আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি আমি পৌঁছে দিয়েছি।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৮৮৭)
আবু সায়িদ খুদরি (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শিগগিরই এমন সময় আসবে, যখন একজন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে কিছু বকরি, যেগুলো নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টিপাতের জায়গায় চলে যাবে। ফেতনা থেকে দূরে পালিয়ে থাকবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৭০৮৮)
লেখক: আলেম ও গবেষক