ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

চাঁদ দেখে ঈদ পালনের বিধান

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫২ পিএম
চাঁদ দেখে ঈদ পালনের বিধান
চাঁদের ছবি। ইন্টারনেট

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রমজান পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর পালন করবে।’ (বুখারি, ১০৮১)

হাদিসের আলোকে সচেতন মুমিন-মুসলমানরা রমজানের চাঁদ দেখে রোজা পালন শুরু করেন এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলেই ঈদুল ফিতর পালন করেন। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরিত সুন্নতকে সামনে রাখা আমাদের প্রয়োজন। সুন্নতের আলোকে আমরা দেখি, তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া রমজান পালনের অনুমতি দেননি। ‘চাঁদ দেখে রমজান বা ঈদ পালনের’অর্থ এ নয়—যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। এ হাদিসের অর্থ হলো, চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে তোমরা রোজা পালন করো এবং চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে ঈদুল ফিতর পালন করো। চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার সুন্নাহ নির্দেশিত পদ্ধতি হলো—শাসক বা প্রশাসকের কাছে সাক্ষ্য গৃহীত হওয়া। 

রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহীত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেদিন সব মানুষ ঈদুল ফিতর পালন করবে সে দিনই ঈদুল ফিতরের দিন এবং যেদিন সব মানুষ ঈদুল আজহা পালন করবে, সে দিনই ঈদুল আজহার দিন।’(তিরমিজি, ৩/১৬৫)

আলেমরা এ বিষয়ে একমত—রমজানের রোজা ও ঈদ  চাঁদ দেখেই পালন করতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়, তবে তোমরা ৩০ দিন পূর্ণ করো।’ (মুসলিম, ১০৮১)

এখন প্রশ্ন হলো, কতজন মানুষকে চাঁদ দেখতে হবে? তার উত্তর আছে হাদিসে, ‘আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে এমন এক ব্যক্তির চাঁদ দেখাই যথেষ্ট, যার দ্বীনদার হওয়া প্রমাণিত অথবা বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার হিসেবে পরিচিত।’ (আবু দাউদ, ২৩৪০)। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

ফজর নামাজের ১০ পুরস্কার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
ফজর নামাজের ১০ পুরস্কার
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ভোরের সূর্যদয়ের সুন্দর ছবি

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি নামাজ। কিয়ামতের দিন প্রথমে মানুষের নামাজের হিসাব হবে। নামাজ ঠিক হলে সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে। নামাজ বিনষ্ট হলে সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তাবরানি, ১৯২৯)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজর নামাজের আলাদা গুরুত্ব ও পুরস্কার রয়েছে। এখানে ফজর নামাজ আদায়ের কয়েকটি পুরস্কার নিচে তুলে ধরা হলো—

১. ফজরের নামাজ আদায়ে সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম, ১০৯৬)

২. কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালার দায়িত্বে থাকার সৌভাগ্য অর্জন হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর দায়িত্বে রইল...।’ (তিরমিজি, ২১৮৪)

৩. ফজরের নামাজ কিয়ামতের দিন আলো হয়ে দেখা দেবে: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা আঁধারে (ফজর নামাজে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ আলোপ্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ (আবু দাউদ, ৪৯৪)

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতপ্রাপ্তির সুসংবাদ: আবু জুহাইর উমারা ইবনে রুয়াইবা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (ফজর ও আসরের নামাজ) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, ৬৩৪)

৫. মুনাফিকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের ওপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছায় ভর করে হলেও অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, ৬৫৭)

৬. আল্লাহর দরবারে ফজর নামাজ আদায়কারীর নাম আলোচিত হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে ওঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবু ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম তখনো তারা নামাজরত ছিল।’ (বুখারি, ৫৪০)

৭. দুনিয়া ও আখেরাতের তুলনায় শ্রেষ্ঠ জিনিস লাভ হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম, ১২৪০)

৮. হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় শেষে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল নামাজ (ইশরাক) আদায় করবে, সে পরিপূর্ণ এক হজ ও ওমরার সওয়াব পাবে। ‘পরিপূর্ণ’ এ শব্দটি তিনি (নবিজি) তিনবার বলেছেন।’ (তিরমিজি, ৫৮৬)

৯. তুলনাহীন গণিমত লাভ হয়: উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে যায়নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোনো সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন এক দলের কথা বলব না, যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাজের জামাতে হাজির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহতায়ালার জিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।’ (তিরমিজি, ৩৬৪১)

১০. কিয়ামতের দিন সরাসরি আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ হয়: জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) বলেন, ‘এক রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোন, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ওই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছো। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য ওঠার আগের নামাজ ও সূর্য ডোবার আগের নামাজ আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই করো। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবিহ পাঠ করুন।’ (বুখারি, ৫৭৩)

লেখক: খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ, টঙ্গী

‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি’ কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:২৬ এএম
‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি’ কেন পড়া হয়?
আরবিতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’ লেখা ছবি। ইন্টারনেট

অনেক আমল আছে পালন করতে তেমন সময় লাগে না, পড়তেও কষ্ট হয় না, বেগ পেতে হয় না; কিন্তু আল্লাহর কাছে অনেক দামি। আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। এ আমলের কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন দেন। বান্দার সওয়াবের ঝুলি ভরে দেন। কিয়ামতের দিন এ আমলের বদৌলতে তার আমলনামা সহজ হয়ে যায়। 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, পাল্লায় অনেক ভারি, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। বাক্য দুটি এই, 

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম। 

বাংলা অর্থ: মহান সেই আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। মহান তিনি, যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। (বুখারি, হাদিস: ৬৪০৬)

হাদিসের অর্থ থেকেই এর মর্ম, গুরুত্ব ও ফজিলত বোঝা যায়। সহজ বিষয়, যা অনায়াসে পড়া যায়, অধিক পরিমাণে সওয়াব মেলার সাথে সাথে আল্লাহর পছন্দনীয় হওয়ার সুযোগ হাসিল হয়।

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এমনই একটি দোয়া আরও সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৬৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলে, তাহলে কেউ তার থেকে বেশি আমল নিয়ে কেয়ামতের দিন উপস্থিত হতে পারবে না।’ অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তির গুনাহ (ছোট গুনাহ) যদি সমুদ্রের ফেনার থেকেও বেশি হয়, তাহলেও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪/২০৭১, ২৬৯২; তিরমিজি, হাদিস: ৫/৫১১)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ
আরবিতে ‘ইসলাম’ লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহতায়ালার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। এই দ্বীন পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত আছে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এই পাঁচটি বিষয় জানা এবং এর ওপর বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। একজন মুসলমানের জন্য এই পাঁচ স্তম্ভের একটিও অস্বীকারের সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এই সাক্ষ্য দেওয়া যে—

  • আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই ও মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।
  • নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
  • জাকাত আদায় করা।
  • হজ পালন করা।
  • রমজান মাসের রোজা রাখা।’ (বুখারি, ৮)

ইসলামের এই পাঁচ স্তম্ভের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

কালিমা
কালিমার মর্মকথা হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে মুখে উচ্চারণ করা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ে আসা শরিয়ত মোতাবেক আমল করা। তিনি যেসব বিষয় সম্পর্কে নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.) একবার ছদ্মবেশে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ঈমান কাকে বলে?’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ঈমান হচ্ছে আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহতায়ালার প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবগুলোর প্রতি, আল্লাহর নবি-রাসুলদের প্রতি, কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং তকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি। এই হলো ঈমান।’ (বুখারি, ৫০) 

নামাজ
ঈমানের পর মুসলমানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে নামাজ। প্রাত্যহিক জীবনে একজন মুমিন দিনে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ।” (বুখারি)

জাকাত
নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের জন্য নির্ধারিত সম্পদ ব্যয় করা হলো জাকাত। কোরআনে বহু জায়গায় নামাজের সঙ্গে জাকাতের আলোচনা রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৪-৩৫)

রোজা
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। এ ছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে নফল রোজা রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাস (রমজান) পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে…।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

হজ
নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে কাবাঘর জেয়ারত করা অথবা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কাবাঘরে যাওয়ার সংকল্প করাকে হজ বলা হয়। (কাওয়ায়িদুল ফিকহ: ২৫)। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)। আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দিন, তারা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের রোগা উটের পিঠে করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৭)


লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

বিড়াল নিয়ে হাদিসে যা বলা আছে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৫ এএম
বিড়াল নিয়ে হাদিসে যা বলা আছে
একজন মুসল্লির কাঁধে চড়ে বিড়াল খেলছে।ছবি: ইন্টারনেট

বিড়াল মানুষের ঘনিষ্ঠ প্রাণী। বেশির ভাগ সময় মানুষের আশপাশেই সে অবস্থান করে। অনেকটা আদুরে স্বভাবের হওয়ায় মানুষও তাকে আপন করে নেয় নিজেদের মতো করে। আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিড়াল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সে অপবিত্র নয় এবং তোমাদের মাঝে চলাফেরা করতে থাকে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৫; তিরমিজি, হাদিস: ৯২) 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিড়াল নামাজ নষ্ট করে না। কারণ তা ঘরের জিনিসপত্রের অন্তর্ভুক্ত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৯) 

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পাক। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি ও রাসুলুল্লাহ (সা.) একই পাত্রের পানি দিয়ে অজু করেছি, যা থেকে এর আগে বিড়াল পানি পান করেছিল।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৮)

ইসলামে বিড়াল পালনে কোনো অসুবিধা নেই। তবে বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। এর যথাযথ যত্ন নিতে হবে। এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিড়ালটিকে আটকে রাখায় সেটি মারা গিয়েছিল। ফলে সে জাহান্নামে গেছে। বিড়ালটিকে সে আটকে রেখে সে খাবার-পানীয় দেয়নি। আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে করে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। (মুসলিম, হাদিস: ৫৭৪৫)

পশুপাখি পালন করা ও প্রাণিকুলের ওপর সদয় হওয়া ইসলামের নির্দেশ ও সওয়াবের কাজ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, জীবজন্তুর জন্যও কি আমাদের পুরস্কার আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রত্যেক দয়ালু হৃদয়ের অধিকারীদের জন্য পুরস্কার আছে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৩৬৩)

আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘হে আল্লাহর রাসুল, পশুপাখিদের মধ্যেও কি আমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন, ‘প্রতিটি তাজা কলিজায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারিদ, হাদিস: ৩৪৬৭) 

হাদিসে বিড়াল বেচাকেনা না করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং একে নাজায়েজ বলা হয়েছে। তবে উপহার হিসেবে দেওয়া-নেওয়া করা যায়। আবু জুবাইর (রহ.) বলেন, ‘আমি জাবের (রা.)-এর কাছে কুকুর ও বিড়াল কেনাবেচা করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নবি (সা.) এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৯)

লেখক: আলেম ও গবেষক

 

মনের অশান্তি দূর করার দোয়া

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:২৫ এএম
মনের অশান্তি দূর করার দোয়া
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত দোয়ারত এক ব্যক্তির ছবি।

মানসিক অশান্তি থাকলে কোনো কাজেই মন বসে না। সব কাজেই অস্থিরতা লাগে। কোরআন-হাদিসে এই অশান্তি বা অস্থিরতা দূর করার অনেক দোয়া আছে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—

  • বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আয়িন, ওয়া আসলিহ লি শানি কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লাহ আনতা।’ 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে রহমত (মনের প্রশান্তি) চাই। আপনি এক মুহূর্তও আমাকে নফসের ওপর ছেড়ে দিয়েন না; বরং আপনিই আমার সমস্ত বিষয় ঠিক করে দিন। আপনি ছাড়া (মনের অস্থিরতা ও বিপদ থেকে রক্ষাকারী) কোনো উপাসক নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০০২)

  • বাংলা উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি, ওয়া রাব্বুল আরজি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।’

বাংলা অর্থ: মহান সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। আরশের অধিপতি, মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। আসমান ও জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া উপাসক ইলাহ নেই। (মুসলিম, হাদিস: ৬৬৭২)

  • বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান, ওয়াল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবন, ওয়া জিলা ইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই।’ (বুখারি, হাদিস: ২৬৯৪)

  • বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আল্লাহু রাব্বি; লা উশরিকু বিহি শাইআ।’

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু, আল্লাহ। আমি আপনার সঙ্গে কাউকে শরিক করি না।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৫)

মুমিন মুসলমানের উচিত, কোনো কারণে মনে অস্থিরতা তৈরি হলে উল্লিখিত দোয়াগুলো পড়া। আল্লাহর কাছে মনের অশান্তি দূরের জন্য প্রার্থনা করা। 

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক